• শিরোনাম


    ৬ এপ্রিল ২০১৩ : অনির্বাণ চেতনার পাঠশালা : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস (সম্পাদকীয়)

    | ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    ৬ এপ্রিল ২০১৩ : অনির্বাণ চেতনার পাঠশালা : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস (সম্পাদকীয়)

    কোন জাতি বা জনগোষ্ঠীর সুপ্ত চেতনার বারুদ সবসময় অগ্নিপ্রজ্জ্বলন করে না। এর জন্য থাকে নির্ধারিত সময় এবং সুসংহত কোন উপলক্ষ্য। ইতিহাস বলে, বাংলাদেশের মুসলমান কখনো হেরে যায়নি; বরং তাজা প্রাণের নজরানা দিয়ে হলেও তারা ইসলামকে বুকে আগলে রেখেছে। এতদসত্বেও এ মাটি প্রতীক্ষায় ছিলো এক ঈমানী শক্তির মহাবিস্ফোরণের।
    সময়টা ছিলো ২০১৩সালের শুরুভাগ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী নিয়ে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এক পর্যায়ে ভয়ঙ্কর নাস্তিকতার আস্তানায় পরিণত হয়। লম্পট ব্লগার রাজিব হায়দার (ওরফে থাবা বাবা), আসিফ মহিউদ্দিন প্রমুখ আল্লাহ তাআলা, রাসূল সা., কুরআনুল কারীম, উম্মাহাতুল মুমিনীন এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান সম্পর্কে অশ্রাব্য ভাষায় অনলাইনে লেখালেখি করেছিলো। ওই কুলাঙ্গাররা তাঁদের শানে চরম বেয়াদবিমূলক ভাষা ব্যবহার করে। নাস্তিকদের ঔদ্ধত্য দিনদিন বেড়েই চলছিল। তখন সকল হক্কানী উলামায়ে কেরাম দেশব্যাপী গণআন্দোলনের ডাক দেন। কোটি কোটি তৌহীদী জনতা মুরতাদদের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ডাকে ঐতিহাসিক লংমার্চ পরবর্তী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এই গণবিপ্লব বাংলাদেশের দ্বীনী আন্দোলনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিশ্ব অবাকবিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছে বাঙ্গালী মুসলমানের নতুন শক্তি।

    দেশের খ্যাতিমান আলেম, লেখক ও গবেষক মুফতি সাখাওয়াত হোসাইনের ভাষায়,
    “ এ দেশের মানুষ যে ইসলাম পছন্দ করে, এদেশের মানুষ উলামায়ে কেরামকে পছন্দ করে তার বড় প্রমাণ ছিলো ৬ এপ্রিলের লংমার্চ। হেফাজতে ইসলাম তখন গোছানো কোনো সংগঠন ছিলো না। তবুও মানুষ তাদের ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিলো। কিন্তু তার দাবি ছিলো মাটি ও মানুষের দাবি। এজন্য মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেয়। নিকট ইতিহাসে এমন স্বতঃস্ফূর্ত এবং এতো বড় জমায়েত মানুষ দেখেনি। সেদিনের যে দৃশ্যটি আমার চোখে ভাসে তাহলো, লাখ লাখ মানুষ সব বাধা উপেক্ষা করে ঢাকার দিকে ছুটে আসছে। পথে পথে তারা নানা প্রতিকূলতার শিকার হচ্ছে। ৫০-৬০ মাইল দূর থেকে পায়ে হেঁটে আসছে। কারো পেটে খাবার নেই, কারো পা ফেটে গেছে কিন্তু সবার মুখে হাসি আছে। আবার একদল মানুষ পথে পথে আগত মানুষদের আপ্যায়ন করছে, যতোটা সম্ভব সহযোগিতা করছে। ত্যাগ ও ভালোবাসার এই দৃশ্য অনন্য।।”- ( ইসলাম টাইমস ৬ এপ্রিল, ২০১৯ )
    প্রথিতযশা কলামিস্ট, রাষ্ট্রচিন্তক ও জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ইসলাম টাইমস সম্পাদক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিপুল ও সারা জাতির মাঝে প্রভাব বিস্তারকারী আত্মপ্রকাশ হয়েছিলো ৬ এপ্রিল। ৬ এপ্রিলের মূল্যায়ন করতে হলে শাহবাগ আন্দোলনের দিকে চোখ যায়। শাহবাগ আন্দোলনের অনেক ব্যাখ্যা অনেকে করছেন। তার ভেতরে কী ছিলো, সামনে কী ছিলো এবং শ্লোগানে কী ছিলো। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি সামনে এসেছে তাহলো, বাংলাদেশের মুসলমানের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি ঝড়। মূল শ্লোগান ভিন্ন হলেও তাদের আন্দোলনে এ ঝড়টাই মুখ্য হয়ে ওঠে ফেব্রুয়ারি শেষ দিকে। এই ঝড় বা আক্রমণের বিরুদ্ধে ৬ এপ্রিল ছিলো দেশব্যাপী ঈমানের মহাজাগরণ। একটি বিজয়। ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি ও অপবিশ্বাসের বিরুদ্ধে শুদ্ধতার পক্ষে চেতনাগত নতুন প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিলো। ইসলাম ও ঈমানের বিরুদ্ধে ঘাপটি মেরে থাকা এ দেশের বাম ও ভারতপন্থী রাজনীতিক বুদ্ধিজীবী, এই জাতিসত্ত্বা, এ দেশের মানুষের ঈমান ও চেতনা বিরোধী এক শ্রেণির মানুষ তারা যে যূথবদ্ধ একটি যাত্রা শুরু করেছিলো তার বিরুদ্ধে ৬ এপ্রিল যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিলো। ঈমান ও ইসলামের পক্ষে, রাসুল সা.-এর ইজ্জত ও সম্মানের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য একটি নতুন চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছিলো। ৫ মের বেদনাদায়ক ও বিয়োগাত্মক ঘটনার পর অনেকেই মনে করেছিলো ৬ এপ্রিলের জাগরণটা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমার কাছে তা মনে হয়নি। বিষয়টি আমি এভাবে দেখি, ৬ এপ্রিলের আগের অংশ ছিলো জাগরণের প্রস্তুতি, ৬ এপ্রিলের পর থেকে ৫ মে পর্যন্ত জাগরণের বিকাশ। আর ৫ মে ছিলো প্রচণ্ড রকম বেদনাদায়ক ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনার পর ঈমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আঘাত এলে ঈমানের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া, রাস্তায় এসে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানো এর একটি নীরব ও শব্দহীন চেতনা সারা দেশে বিকশিত হয় এবং তা এখনও বিকাশমান। এই চেতনা গত সময়গুলোতে কথা বলেছে এবং সামনেও তা কথা বলবে। এই চেতনা এ দেশে নানাভাবে কাজ করবে এবং নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে। জাতির বিশ্বাসগত যাত্রা, সংস্কৃতিগত যাত্রা; এমনকি রাজনৈতিক যাত্রার ক্ষেত্রেও সময়ে সময়ে কথা বলতে শুরু করবে ৬ এপ্রিল ইনশাআল্লাহ।।’’ – ( ইসলাম টাইমস ৬ এপ্রিল, ২০১৯ )



    পরিশেষে বলব, এই জাগরণে গাত্রদাহ শুরু হয়েছিলো নাস্তিক-মুরতাদ ও তাদের দোসরদের, আর সাহস ও প্রত্যয়ের পাঠ গ্রহণ করেছে তৌহীদী জনতা। বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিলো, এ মাটি উর্বর ইসলামের জন্য; এ আকাশ-বাতাসের ভালোবাসা তাদেরই জন্য যারা এক আল্লাহকেই সিজদা করে ।।

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।
    ৬/৪/২০২০ইং, সোমবার।।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০১ জুলাই ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম