• শিরোনাম


    ১৮ বছরের নীচে বিয়ে বন্ধে এতো এতো পদক্ষেপ! অথচ ১২ বছরের শিশুকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে!

    শিবলীসাদিক রাজশাহীঃ | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

    ১৮ বছরের নীচে বিয়ে বন্ধে এতো এতো পদক্ষেপ! অথচ ১২ বছরের শিশুকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে!

    বাল্যবিয়ে নাকি বাংলাদেশের আইনত নিষিদ্ধ। একজন নারী-পুরুষ পরস্পর সম্মতিতে বৈধ উপায়ে বিয়ে করবে, এটা মানতে পারেন না বাংলাদেশ সরকার। অথচ সরকারই কিন্তু ১৮ বছরের নিচে বহু নারীকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়।

    বাংলাদেশের সংবিধানে বড় করে লেখা আছে- গণিকাবৃত্তি নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (অনুচ্ছেদ ১৮ (২))
    কিন্তু তারপরও সরকার অনুমোদিত বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৮টি গনিকা বা পতিতালয় আছে। এগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল শহরের বেবীস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া যৌন পল্লী, রাজবাড়ি জেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী, খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন বানীশান্তা পতিতা পল্লী, যশোরের বাবু বাজার পতিতা পল্লী, মাড়োয়ারী মন্দির পতিতাপল্লী, ঝালাইপট্রি পতিতাপল্লী, ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লী, ময়মনসিংহ গাঙ্গিনাপাড় যৌনপল্লী, জামালপুরের রাণীগঞ্জ পতিতাপল্লী উল্লেখযোগ্য। এসব যৌনপল্লীতে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী পতিতা রয়েছে।



    মজার বিষয় হচ্ছে; এই সব লাইসেন্সধারী পতিতাদের একটি বড় অংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে। তথ্যমতে এরা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের থেকে লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। যে ম্যাজিস্ট্রেট ১৮ বছরের নিচে বিয়েতে বাধা দেয়, সেই ম্যাজিস্ট্রেট ১২ বছরের মেয়েকে ১৮ বছর বানিয়ে লাইসেন্স বানিয়ে দেন। ম্যাজিস্ট্রেটদের এসব জচ্চুরী ফাঁস হয় বিভিন্ন জরিপে। The Global March Against Child Labour – এর হিসেব মতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে পতিতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ এর নিচে পতিতার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু পতিতারা শরীরবৃদ্ধির জন্য গরু মোটতাজাকরণ ট্যাবলেট খায় এবং দৈনিক ১৫-২০ জন পুরুষের সাথে মিলিত হয়।

    গত ২০১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী নিয়ে একটি রিপোর্ট করে। রিপোর্টে সাংবাদিক জানায়, এ পতিতাপল্লীতে একটি নারী প্রবেশ করে ১২-১৪ বছর বয়সে। (http://ind.pn/2dUUOgO)

    গত বছর বিদেশী কয়েকটি মিডিয়ায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী পতিতাদের ছবিসহ নাম প্রকাশ পায়। সেখানে ১৪ বছর বয়সের আসমা, ১৭ বছর বয়সের কাজল, ১৫ বছর বয়স্ক পাখি, ১৭ বছর বয়সের সুমাইয়াকে দেখা যায় খদ্দেরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় (http://bit.ly/2vgGsj3)।

    একটু চিন্তা করে দেখুন, কেউ ফোন করে বলবো ১৮ বছর বয়সের নিচে কোন নারীর বিয়ে হচ্ছে, এটা শুনে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট দৌড় দিয়ে যায় বিয়ে ভাঙ্গতে। টাঙ্গাইলের ইউএনও ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিতে। এরপর ঐ মেয়ের সাথে পোজ দিয়ে ছবিতুলে সেই ছবি দেশজুড়ে ছড়িয়ে কৃতিত্ব জাহির করেন। কিন্তু বিদেশী মিডিয়ায় যখন সেই টাঙ্গাইল জেলার ১৪ বছর বয়সের আসমা, ১৭ বছর বয়সের কাজল, ১৫ বছর বয়স্ক পাখি, ১৭ বছর বয়সের সুমাইয়া নামক পতিতাদের দেখা যায় খদ্দেরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় (http://bit.ly/2vgGsj3) তখন কেন ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান না। কেন তাদের পতিতালয় থেকে উদ্ধার করেন না। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রায় আইন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু শিশু পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইন আছে। বিধির ৩৭২, ৩৭৩, ৩৬৪.ক ও ৩৬৬.ক ধারায় বেশ্যাবৃত্তির জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্রয় ও বিক্রয়ের শাস্তির বিধান বর্ণিত হইয়াছে। এসব আইন অনুসারে দণ্ডিত ব্যক্তির ১০-১৪ বছরের জেল হতে পারে। এই আইনগুলো কেন ইসরাত সাদমীনরা প্রয়োগ করেন না ???

    ইসরাত সাদমীনদের বলতে চাই, বৈধ বিয়ে হলে কেন আপনাদের এত কষ্ট, কেন এত আইন ?
    আপনাদের আ্ইনগুলো কেন পতিতাপল্লীর শিশু পতিতাদের জন্য বন্ধ থাকে ? কেন সেগুলো প্রয়োগ করেন না ?
    জাতি আজ এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম