• শিরোনাম


    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে ১০দফা সংস্কার প্রস্তাব [] সৈয়দ শামছুল হুদা

    লেখক : সৈয়দ শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি : জাতীয় লেখক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি | ২৬ এপ্রিল ২০২১ | ১২:২৪ অপরাহ্ণ

    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে ১০দফা সংস্কার প্রস্তাব [] সৈয়দ শামছুল হুদা

    দেশের পরিবর্তিত বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার প্রাণপ্রিয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে নিম্নোক্ত ১০দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলো। আশাকরি হেফাজতের বর্তমান আহবায়ক কমিটি এগুলোর প্রতি নজর দিয়ে নতুন করে হেফাজতকে ঢেলে সাজাতে এবং তৌহিদী জনতার আশা-ভরসার স্থলটিকে পুন:সংস্কারে হাত দিবেন। সংস্কার কাজে নীচের পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে আশা করি।

    ১ম প্রস্তাব : কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঢেলে সাজানো।
    ২৫শে এপ্রিল হেফাজতের সম্মানিত আমীর কর্তৃক হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিকে সর্ম্পুর্ণরূপে বিলুপ্ত ঘোষণা করায় পুনরায় একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য একটি কমিটি উপহার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবির্তত পরিস্থিতির কারণে আশাকরি এখন আর কেউ পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি করবে না। তাই ৬৪টি জেলা এবং ৮টি বিভাগ থেকে বিশেষভাবে যাচাই বাছাই করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে লোক অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জেলা এবং বিভাগীয় কমিটিকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। বর্তমানে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে নিয়ন্ত্রিত। এ বলয় ভাঙ্গতে হবে।



    ২য় প্রস্তাব : জেলা ও মহানগরী কমিটি পুর্নগঠন ও প্রযুক্তির ব্যবহার।
    কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পুর্বে ৮টি বিভাগ এবং ৬৪টি জেলা কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে। সারাদেশের আলেমদেরকে এরসাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের অবশ্যই মূল্যায়ণ করতে হবে। পাশাপাশি শক্তিশালী প্রচার সেল গঠন করতে হবে। মানুষের কাছে হেফাজতের দাবি-দাওয়া লিখিত আকারে তুলে ধরতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সকল প্রকার মিডিয়া ব্যবহার করার উদ্যোগ নিতে হবে।

    ৩য় প্রস্তাব : সবঘরানার লোকদের সম্পৃক্তকরণ।
    হেফাজতের মূল কমিটিতে দেশের কওমী ঘরানার বাইরেও অনেক হকপন্থী দরবার আছে। খানকাহ আছে। তারা বিভিন্ন সময়ে হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন এবং হেফাজতের ধর্মীয় সংস্কারমূলক দাবির সাথে একমত পোষণ করে। যেইসব হকপন্থী দল ও খানকাহ গুলোকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংযুক্ত করতে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলোহ হলো: চরমোনাই দরবার, শর্ষিণা দরবার, ফুলতলি দরবার, জৈনপুরি দরবার(এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব), ফুরফুরা দরবার, নেছারাবাদ দরবার ইত্যাদি। এছাড়াও যাদেরকে প্রয়োজন মনে করা হয় তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    ৪র্থ প্রস্তাব : বিভিন্ন পেশার লোকদের সম্পৃক্তকরণ।
    ইসলামী ভাবাপ্পন্ন সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্য থেকে যারা দ্বীনকে ভালোবাসে, আলেম-উলামাদের সম্মান করে, দেশে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে দেখতে পছন্দ করে, এমনসব মিডিয়াকর্মী, সাবেক বিচারপতি, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রফেসর, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, অধ্যাপক, প্রশাসনিক উচ্চস্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সুশীল ব্যক্তিত্ব, লেখক, গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

    ৫ম প্রস্তাব : মানবিক ও সামাজিক কাজের পরিধি বৃদ্ধি করা।
    হেফাজতের আন্দোলনসহ বিভিন্নসময় নানা আন্দোলনে অনেকে শহীদ হন, আহত হন, গ্রেফতার হন।এদের আইনি সহায়তা দেওয়া, আর্থিক সাপোর্ট দেওয়ার কাজটি অতীতে ঠিকমতো পালন করা সম্ভব হয়নি। ফলে জনমানুষের মধ্যে একধরণের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এইক্ষেত্রে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে। এবং সক্ষম লোকদের দিয়ে উপ-কমিটির মাধ্যমে কাজ আঞ্জাম দিতে সক্ষম লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। এছাড়াও দেশে প্রায়শই নানা দুর্ঘটনা ঘটে, মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। সেই সবক্ষেত্রে হেফাজতকে একটি সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা পালন করতে কেন্দ্রীয়ভাবে দিক নির্দেশনা দিতে হবে। হেফাজতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ, পুর্নবাসন, আহত ও শহীদ পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে একটি স্থায়ী বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করে তাদের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে সার্বিক-দান-অনুদানের কাজটা অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থাগ্রহন।

    ৬ষ্ঠ প্রস্তাব: কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।
    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ যে সব বিষয়ে যৌক্তিক আন্দোলন করে, এসব বিষয়ে বর্হিবিশ্বে প্রায়শই ভুল বার্তা দেওয়া হয়। অনেক সময় সরকার এবং বিদেশি এজেন্সিগুলো ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে ভুলবার্তা বিদেশে পাঠায়। দূতাবাসগুলোতে একপেশে তথ্য দিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে। এগুলো মোকাবেলা করার কোন প্রস্তুতি অতীতে হেফাজতের মধ্যে ছিল না। এরফলে বাংলাদেশের মুসলমানদের ব্যাপারে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। সেজন্য আর্ন্তজাতিক কূটনীতি সম্পর্কে ওয়াকেফহাল এবং বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় পারদর্শী একদল অভিজ্ঞ লোকদের নিয়ে একটি টিম গঠন করতে হবে। যাতে বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিফিং করতে পারে। বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতেও প্রয়োজনের সময় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে চিঠি মারফত তাদেরকে অবহিত করতে পারে। বিশেষকরে মুসলিম দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দিতে বিশেষজ্ঞ লোকের কোন বিকল্প নেই।

    ৭ম প্রস্তাব : কেন্দ্রীয় কার্যালয় নির্মাণ ও ফান্ড সংগ্রহ ।
    অবিলম্বে ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে সারাদেশে হেফাজতের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোন মাদ্রাসায় বা ব্যাক্তি বিশেষের প্রতিষ্ঠানে বসে কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। হেফাজতের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য শক্তিশালী আর্থিক কমিটি গঠন করে তার মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করতে হবে। অতীতে হেফাজতের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ হেফাজতের ডাকে আন্দোলন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা তেমন কিছুই পায়নি। অনেকক্ষেত্রে খোঁজ-খবরও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    ৮ম প্রস্তাব : সকল প্রকার অসামাজিক কার্যাক্রম প্রতিরোধে মনিটরিং জোরদার।
    সারাদেশে অনৈতিকতা এবং অসামাজিক কার্যক্রম ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোর প্রতি বিশেষভাবে হেফাজত নেতৃবৃন্দকে নজর দিতে হবে। তারমধ্যে বিভিন্ন পার্ক, আবাসিক হোটেল, বার, ক্লাব, রিসোর্ট, বিনোদন স্পট ইত্যাদিতে যেভাবে যুবসমাজ চরমভাবে ধ্বংসের দিকে যাওয়ার ব্যাপক আয়োজন রয়েছে। সেগুলো বন্ধ এবং সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে দেশের তৌহিদী জনতাকে দিক নির্দেশনা দিতে হবে।

    ৯ম প্রস্তাব : সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করা।
    সারাদেশের গ্রামে-গঞ্জে সামাজিক অবিচার বেড়ে গেছে। অসহায় ও গরীব মানুষ বিচার পায় না বললেই চলে। সকল সেক্টরে অন্যায়, জুলুম, ধর্ম, বর্ণ. অর্থনৈতিক ও লিঙ্গভেদে বৈষম্য চোখে পড়ে। এগুলো বন্ধে হেফাজতকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিতে হবে। কর্মসূচী গ্রহন করতে হবে। এগুলো বাস্তবায়ন করতে জেলা কমিটিকে সক্রিয় করতে হবে। জেলা কমিটির হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে।

    ১০ম প্রস্তাব : কমিটি ও পরিচালনা গঠনতন্ত্র মোতাবেক করা।
    হেফাজতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। সে আলোকে সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক সকল বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হেফাজতের কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে। এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক সকল স্তরের নেতাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সরাসরি দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সংগঠনের মূল পদে না রেখে প্রয়োজনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে উপদেষ্টা কমিটিতে তাদের রাখা যেতে পারে।

    আল্লাহ তায়ালা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে দ্বীনি কার্যক্রম আরো বেগবান করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

    জেনারেল সেক্রেটারী
    বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট ‘বিআইএম’
    26.04.2021

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম