• শিরোনাম


    হেফাজতের সাথে বন্ধুত্ব নয়, তাদের নিষ্ক্রিয় করাই আওয়ামীলীগের টার্গেট। BBC bangla

    | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১১:১৩ অপরাহ্ণ

    হেফাজতের সাথে বন্ধুত্ব নয়, তাদের  নিষ্ক্রিয় করাই আওয়ামীলীগের টার্গেট। BBC bangla

    হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বর্তমান সরকারের যোগাযোগের বিষয়টি এখন আর গোপন কিছু নয়। সরকার ও হেফাজত উভয়পক্ষই এই যোগাযোগ ও সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। গণমাধ্যমেও তারা একাধিকবার তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।

    তবে এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে উভয় শিবিরেই। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূল কর্মী পর্যন্ত অনেকেই মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ও বাংলাদেশে বাম রাজনীতির নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের এই সখ্যতার মধ্যে আদর্শিক সংঘাত ও ভবিষ্যতে স্বার্থহানির সম্ভাবনা রয়েছে।



    অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আস্থাশীল বাম শিবিরও এই সখ্যতা ধর্মীয় মতাদর্শের সঙ্গে এক ধরনের আপোষ বলেই মনে করে। তাদের ভাষায়, এতে রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

    তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা শরিক বাম দল, বিদেশি কূটনীতিক ও মিত্রদের বারবার আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাহ্যত হেফাজতের সঙ্গে তাদের সখ্য দেখা যাচ্ছে তা একটি কৌশল। কৌশলের অংশ হিসেবেই তারা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নূহ উল আলম লেনিন সেই কৌশলেরই কিছুটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং কিছু বিষয়ে ছাড় দেয়ার মূল লক্ষ্য হলো হেফাজতে ইসলামকে নিষ্কিয় করে রাখা।

    তিনি বলেন, হেফাজতের সাথে তার দল যদি ‘কম্প্রোমাইজ’ করেও থাকে, সেটা ভোটের বিবেচনায় নয়, বরঞ্চ ‘বিপজ্জনক ধর্মীয় রাজনীতি(!) থেকে দেশকে বাঁচানোর’ কৌশল হিসাবে তা করেছে।

    লেনিন আগ বাড়িয়ে বলেন, ‘ধর্মের নামে যে রাজনীতি হচ্ছে, তা থেকে যদি ধর্মে বিশ্বাসী বা ধর্মীয় বড় একটি গোষ্ঠীকে আমরা দূরে রাখতে পারি, সেটা ইতিবাচক। এবং সেটা করতে আমাদের কিছুটা আপোষ করতে হয়। আমরা সেটা করেছি।’

    হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ বা সখ্য যে কোনোভাবেই হেফাজতের দাবির সঙ্গে একমত হওয়া কিংবা মত বা মতবাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয় সে বিষয়টি স্পষ্ট করে নূহ উল আলম লেলিন বলেন, ‘তাদেরকে সাথে রাখা নয়, সঠিক শব্দ হবে ‘নিউট্রালাইজ’ (নিষ্ক্রিয়) রাখা, গায়ে পড়ে তাদেরকে না ক্ষেপানো। সেটাই আওয়ামী লীগের কৌশল।’

    অর্থাৎ হেফাজতে ইসলাম যেন বড় ধরনের কোনো আন্দোলন কিংবা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

    আওয়ামী লীগ তাদের এই কৌশলে অনেকটাই যে সফল তাতে সন্দেহ করছেন না অনেক হেফাজত কর্মী।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম