• শিরোনাম


    হিন্দুধর্ম থেকে ফিরে লক্ষাধিক মানুষকে ইসলামে ফিরিয়েছেন যিনি।

    | ০২ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    হিন্দুধর্ম থেকে ফিরে লক্ষাধিক মানুষকে ইসলামে ফিরিয়েছেন যিনি।

    ১৯৪২ সলে জন্ম নিয়েছিলেন একটি হিন্দু পরিবারে। জীবনের ৪৭টি বছর কেটে যাওয়ার পর, ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই উদ্যোগী হয়েছেন দ্বীনপ্রচারে।তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।

    আলোচিত ঐ ব্যক্তি হলেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের দ্বীন মুহম্মদ শেখ। আলোকিত জীবনের খোঁজে ১৯৮৯ সালে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসেন।



    জন্মগতভাবে ইসলাম সম্পর্কে ছিলো তার ব্যাপক আগ্রহ। ইসলামের প্রতি এমন অনুরাগ দেখে তার মা ১৫ বছর বয়সেই তাকে বিয়ে করান। মা’র বিশ্বাস ছিলো বিয়ে করে ফেললে অন্য ধর্মের প্রতি তার টান কমে আসবে। কিন্তু বিয়ের পরও ইসলাম সম্পর্কে তার কৌতুহল একটুও কমেনি। তাই ইসলাম সম্পর্কে জানতে মুহম্মদ জাগসি নামে এক মুসলিম শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দ্বীন মুহম্মদ। মুহম্মদ জাগসির কাছেই নিয়মিত পবিত্র কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন তিনি।

    ভাগ্যক্রমে দ্বীন মুহম্মদ শেখের চাচাও একই মানসিকতার লোক ছিলেন। তারা দু’জন এ মর্মে একমত হন যে, তারা একে অপরকে সব কাজে সহায়তা করবেন। অতঃপর তিনি তার মেয়েদের বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

    ইসলাম গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন দ্বীন মুহম্মদ। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, তাঁর দাওয়াতে ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

    দ্বীন মুহম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামে মসজিদের সভাপতি। তিনি অসহায় নওমুসলিমদের আবাসনের জন্যে প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন – যারা সেখানে বসবাস করছেন।

    ইসলাম গ্রহণের পর দ্বীন মুহম্মদ শেখ নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন: আমি ইসলামকে ভালোবাসি। ইসলাম গ্রহণ করার আগে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করতে শুরু করি। কুরআন পড়ার পর বুঝতে পারি ৩৬০ দেবতার পূজা করে আসলেও কোনোদিন আমার কোনো উপকার হয়নি।

    ইসলাম প্রচারের জন্যে একটি দাওয়াত সংস্থা খুলেছেন দ্বীন মুহম্মদ শেখ। শুরুতে পরিবার থেকেই ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। পরিবারের শক্তিশালী সমর্থনই ইসলামের প্রচার কাজে তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

    দ্বীন মুহম্মদ শেখের ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে, অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার বাড়ীর মসজিদে নওমুসলিম শিশু, কিশোর, নারী ও পুরুষদের জন্যে রয়েছে নামাজ ও পবিত্র কোরআন শেখার ব্যবস্থা।

    নারী শিক্ষকদের দিয়ে নারীদের কুরআন শেখারও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। সেখানে ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কুরআন ও নামাজ শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি।

    সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (২০১২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত) ও যুগান্তর।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম