• শিরোনাম


    স্মৃতির পাতায় ২০০১ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি: মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

    | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ

    স্মৃতির পাতায় ২০০১ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি:  মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

    ইসলামী আন্দোলন, সংগ্রামের দুর্গ ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেশ- বিদেশে বহু সুনাম অর্জন করেছে। ইসলামী আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রয়েছে উজ্জ্বল ইতিহাস। কাদিয়ানী বিরুধী আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে সকল প্রকার বাতেল বিরুধী আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেহাদি চেতনায় খ্যাতি লাভ করেছে।
    ২০০১ সালের হাইকোর্ট থেকে ফতোয়া বিরুধী রায় বাতিলের আন্দোলন তৎকালীন সময়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক সময়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে ধারনা ছিল অতি সীমিত। যার প্রমাণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই পাওয়া যায়।
    সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীকে ঈমানের আলোকে আলোকিত করতে বিশ্বনবী মোহাম্মদ ( সা:) কর্তৃক স্বপ্ন যোগে আদিষ্ট হয়ে সুদূর ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আল্লামা আবু তাহের মোঃ ইউনুছ ( রহঃ) চলে আসেন বাংলার পূর্বপ্রান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
    ব্রাক্ষণবাড়ীয়ায় এসে তিনি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আক্বিদাহর বিষয়ে সাধারণ মুসলমানদের সতর্ক করলেন, এবং কাদিয়ানী মতবাদ ভ্রান্ত ও ইসলাম বহির্ভূত একটি জঘন্যতম ফেতনা বলে মুসলমানদের ঈমান আক্বিদাহ ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণে ওয়াজ নসিহত করে বুঝাতে লাগলেন।
    তার ওয়াজ নসিহতে মানুষ কাদিয়ানী ধর্ম ছেড়ে পুনরায় মুসলমান হতে লাগলেন।
    অত:পর ইউনুছ ( রহঃ) ভাবলেন এখানকার মুসলমানদের ঈমান হেফাজতের লক্ষ্যে একটি দূর্গ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে সর্ব অবস্থায় বাতিলের মোকাবেলা করা যায়।
    এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলেন, যার নাম জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া।



    বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে সকল ইসলামী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। দেশ বিদেশে অত্র প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী আন্দোলনের প্রধান মার্কাজ হিসেবে আজ পরিচিত।

    বর্তমান নাস্তিক্যবাদের দৌরাত্ম্য ও ইসলাম বিরুধী সকল অপশক্তির মোকাবেলায় এই জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ার নেতৃত্বে দেশের সকল আলেম উলামা ও তৌহিদবাদ মুসলমান ঐক্যবদ্ধ।
    ১৯৯৮ সালে বড় হুজুর আল্লামা সিরাজুল ইসলাম ( রহঃ) এর নেতৃত্বে এনজিও দের ইসলাম বিরুধী মনোভাব জাতির সামনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীই সর্ব প্রথম প্রকাশ করে।

    ২০০১ সালের ১ লা জানুয়ারি বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে যখন সকল প্রকার ফতোয়া অবৈধ ও বে-আইনী ঘোষণা করে রায় প্রদান করে। তখন সাথে সাথে এ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বিত সন্তান আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী ( রহঃ) দুই বিচারপতিকে মুরতাদ ঘোষণা করে আন্দোলনের ডাক দেন। তখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুসলমানদের মাঝে নেমে আসে জেহাদি চেতনা। যার প্রতিফলন ঘটে ২০০১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে।

    ২০০১ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর প্রাণ প্রিয় নেতা আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী( রহঃ) সহ দেশের শীর্ষ আলেম উলামাদের গ্রেফতারের খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আসার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজপথ ছিল চোখে পড়ার মতো।
    সকলের মুখে একটিমাত্র বাক্য মুফতী আমিনীর মুক্তি চাই,ফতোয়া বিরুধী রায় বাতিল চাই।

    পরদিন বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ায় জড়ো হয়ে বড় হুজুর( রহঃ) এর নিকট লাগাতার হরতাল সহ কঠোর কর্মসূচির দাবী করেন।
    বড় হুজুর( রহঃ) তখন একদিনের শান্তিপ্রিয় হরতালের ঘোষণা করেন। হরতাল সফল করা এবং তাদের প্রিয় নেতা মুফতী আমিনীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সকলেই মিছিল সহকারে নিজ নিজ এলাকায় যান। সকলেই যেন জেহাদি চেতনায় উজ্জীবিত এক মর্দে মুজাহিদ।

    ৬ ফেব্রুয়ারি হরতাল : সেই হরতালে সংযোজন হল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। ভোর থেকেই চোখে পড়ল এক অভিনব চিত্র।ভোর ৬টা থেকে হরতাল শুরু হওয়ার কথা।কিন্তু গ্রেফতার শুরু হয়ে যায় ফজরের নামাজের পূর্ব থেকেই। সাধারণ মুসল্লিগণ ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ হতে বাহির হতে না হতেই শুরু হয় পুলিশ, বিডিআরের যৌথ মহড়া ও ধরপাকড়।

    হরতাল পালনের জন্য যখন শান্তিপূর্ণ মিছিল সহকারে প্রথমে শরের প্রাণকেন্দ্রস্থল টি,এ,রোড হয়ে কালীবাড়ি যায়, তখন বিডিআরের বাধা পেয়ে মিছিল নিয়ে ফিরে আসি। আমি নিজেও সে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলাম। এরপর আমরা টি,এ,রোডে মিছিল ও পিকেটিং করতে থাকি। পুলিশ ও বিডিআরের যৌথ মহড়া দেখে আমাদের মধ্য থেকে কয়েকজন বলতে লাগলো আজ হয়তো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কিছু একটা ঘটবে। কারণ এভাবে যৌথ মহড়া কিংবা গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসী হয়তো আর দেখেনি।

    সকাল ১০টায় কোন উস্কানি ছাড়াই শুরু হয়ে যায় হত্যাকান্ডের উন্মাদনা। লাগামহীন গুলী বর্ষণে রাজপথেই লুটিয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষ। পাইকারি হারে গ্রেফতারতো চলছেই। একেরপর এক বুলেটের আঘাতে শহীদ হতে থাকে হাফেজ তাজুল ইসলাম, সুজন, আলাউদ্দিন, হাফেজ সাইফুল ইসলাম, ওসমান ও মুখলেস।

    আজ পর্যন্ত জনসাধারণের মনে একটি প্রশ্নই উকি দিচ্ছে, আর তা হলো সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এমনকি ঘটেছিল যে, শান্তিপূর্ণ হরতালে বিনা উস্কানিতে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হলো? ফতোয়া ও ইসলাম রক্ষার আন্দোলনে শরিক হওয়াই কি তাদের অপরাধ ছিল?

    দেশে বহু হত্যাকান্ডের বিচার হলেও ইসলামের মৌলিক বিধান ফতোয়া রক্ষার আন্দোলনে শাহাদাৎ বরণকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬ শহীদের হত্যাকারীদের বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি।
    যে ফতোয়াকে রক্ষার জন্য তারা শহীদ হয়েছে সে ফতোয়াকে বাংলাদেশের সংবিধান করার জন্য আজ সকল ইসলামী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসে গেছে। ইসলাম পন্থী সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হউক এটাই এখন সময়ের দাবী।

    লেখক
    মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান
    যুগ্ম সম্পাদক
    ইসলামী ঐক্যজোট
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম