• শিরোনাম


    স্বামী স্ত্রীর সংসার যেভাবে সুখের হয় [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া, লেখক ও কলামিস্ট | ২৮ জুলাই ২০২০ | ৪:২৪ অপরাহ্ণ

    স্বামী স্ত্রীর সংসার যেভাবে সুখের হয় [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    দুনিয়ার সকল মানুষের আশা থাকে সুখি সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের। কারণ দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ও কলহ থাকলে তা পরিণত হয় সাক্ষাৎ নরকে। যার নজির আমরা প্রত্যক্ষ করছি দিবারাত্রি। আর যদি দাম্পত্য জীবন সুখের হয় তাহলে তা পরিণত হয় সুখের স্বর্গে। এ জন্য স্বামীর প্রয়োজন নিজ অবস্থান ও দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে মাত্রাসচেতনতা আর স্ত্রীরও কর্তব্য নিজ মযার্দা ও দায়-দায়িত্বের মাত্রাজ্ঞান। এরপর সে অনুসারে জীবন নির্বাহ করলে এবং দ্বিপাক্ষিক আচরণে তার চর্চা করলে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুখের সংসার গড়ে উঠতে পারে।
    মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। কুরআন-হাদীস ও নবী জীবনের দিকে তাকালে আমরা এ শিক্ষাই পাই যে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক হবে মৈত্রী ও সখ্যের। তারা হবে সখী-সখা। জীবনের উৎকর্ষ সাধনে, সুখের সংসার ও শান্তির ঠিকানা বিনির্মাণে তারা হবে একে অপরের সহযোগী। বিস্তৃত কর্ম জীবনে পরস্পর হবে একে অন্যের সম্পূরক। তারা দু’জনই দু’জনার বড় আপনার। কে বড়, কে ছোট আর কে উত্তম, কে অধম সে প্রশ্ন অবান্তর। জীবনের শেষ অবধি শান্তি-সুখের প্রধান নির্ভরতা হয়ে থাকবে একে অপরের। একের কষ্ট বেদনায় অপরে মাখাবে সান্ত¡নার প্রলেপ। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তরে কিংবা একান্ত নির্জনে দু’জন দু’জনের কাছে খুলে বলবে মনের কথা। এক কথায় বিয়ের বন্ধন এত মজবুত এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক এত গভীর ও নিবিড় যার তুলনা পৃথিবীতে নেই। এজন্যই এ সম্পর্ককে কুরআন মাজীদে ‘লিবাস’ শব্দে চিত্রায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ‘লিবাস’ (পোশাক-পরিচ্ছদ) এবং তোমরাও তাদের জন্য ‘লিবাস’ স্বরূপ।” (বাকারা:১৮৭) উক্ত আয়াতে লিবাস তথা পোশাক শব্দের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও গভীরতাকে যতটা শিল্পময় ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে তার উপমা বিরল। কারণ পোশাকের চেয়ে মানব শরীরের সান্নিধ্যে আর কিছুই বাস করে না। ঠিক সেভাবে স্বামী তার স্ত্রীর অথবা স্ত্রীর তার স্বামীর যতটা সান্নিধ্যে বাস করে পৃথিবীর অন্য কোন নারী বা পুরুষ যত পরম আত্মীয়ই হোক না কেন এতটা সান্নিধ্যে বাস করে না। আয়াতটি এ কথারও ইঙ্গিত করে যে, স্বামী-স্ত্রীর একের প্রতি অপরের ঠেকাটা ঠিক পোশাকের মতই। পোশাক তার অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। পোশাক ছাড়া কোন সভ্য মানুষ চলতে পারে না। ঠিক তেমনি কোন পুরুষ স্ত্রী ছাড়া এবং কোন নারী স্বামী ছাড়া চলতে পারেন। একের প্রতি অন্যের প্রয়োজনটা পোশাকের মতই অপরিহার্য। তারা একে অপরের শোভা-সৌন্দর্য। এভাবে আরও অনেক কিছু।

    স্বামী স্ত্রীর জরুরী মাসআলা
    ,,স্ত্রী যদি স্বামীর চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়।
    সে ক্ষেত্রে স্বামীর করনীয়



    এক. যদি স্ত্রীর শরঈ কিংবা যৌক্তিক ওজর বিদ্যমান না থাকে তাহলে স্ত্রীর জন্য স্বামীর চাহিদা পূরণে বাধা দেয়া হারাম। যদি স্ত্রী কোনো শরঈ-ওজর ব্যতিরেকে এমনটি করে তাহলে তা কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং স্বামী তখন তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবে না। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

    স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন। (বুখারী ৩২৩৭ মুসলিম ১৪৩৬ আবূ দাউদ২১৪১ আহমাদ ৭৪২২, ৮৩৭৩, ৮৭৮৬, দারেমী ২২২৮)

    শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, এক ব্যক্তির স্ত্রী তার অবাধ্য। স্বামী সঙ্গমের প্রতি আহবান করলে স্ত্রীও তাতে সাড়া দেয় না। এক্ষেত্রে স্বামী কি এমন স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে বাধ্য? আর এক্ষেত্রে করণীয় কী?

    জবাবে তিনি বলেন,

    যদি স্ত্রী নিজেকে স্বামীর কাছে ন্যস্ত না করে তাহলে তার ভরণপোষণ রহিত হয়ে যাবে। যদি সে স্বামীর অবাধ্যতার উপর অটল থাকে তাহলে স্বামীর জন্য জায়েয আছে তাকে মৃদু প্রহার করা। স্বামী মিলনের প্রতি আহবান করলে স্ত্রী তাতে বাধা দেয়া তার জন্য বৈধ নয়। বরং এটি হবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল ﷺ -এর নাফরমানি। (মাজমুউল ফাতাওয়া ৩২/২৭৮

    নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। (সূরা নিসা ৩৪)

    দুই. সুতরাং এরূপ পরিস্থিতেতে স্বামীর প্রতি আমাদের পরামর্শ ও তার করণীয় হল-

    ১. স্ত্রীর মাঝে সঙ্গমভীতি কেন? প্রথমে তা যাচিয়ে-খতিয়ে দেখুন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে নির্দিষ্ট ‘কারণ’ নির্ণয়ের চেষ্টা করুন। যেমন- কেন সঙ্গম করার ইচ্ছে তার মাঝে নেই, মিলনের সময় তার অনুভুতি কেমন হয়, সে বেশি ব্যথা অনুভব করে কিনা, কিসে তার তৃপ্তি আসে বা কেমন সম্পর্ক সে চায়? এমনও হতে পারে স্বামীর অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা, মুখের দুর্গন্ধ, ছোট-খাটো ভুল ভ্রান্তির জন্য স্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ তার এই সঙ্গমভীতির মূল কারণ! কিংবা হতে পারে স্ত্রীর শারীরিক বা মানসিক কোনো রোগের কারণে তা হচ্ছে।

    কারণ যেটাই হোক না কেন, এভাবে আন্তরিক-আলোচনার মাধ্যমে প্রথমে তা নির্ণয় করার চেষ্টা করুন, তাহলে দেখবেন, সুন্দর ও উপযুক্ত সমাধানও খুঁজে পাওয়া যাবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ডাক্তারের সহযোগিতা নেয়াটাও সহজ হবে। ইনশা-আল্লাহ।

    ২. আল্লাহর ভয় দেখিয়ে নসিহতের মাধ্যমে স্ত্রীকে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। তাকে অবহিত করুন যে, সে একাজে এগিয়ে না আসলে ফেরেশতারা তার উপর লানত করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।

    ৩. নিজ চাহিদা আদায়ের ব্যাপারে উগ্র না হয়ে সহবাসের আগে কম পক্ষে পনের মিনিট স্ত্রীকে চুম্বন, আলিঙ্গন, মর্দন ইত্যাদি করবেন, যাতে সে আগ্রহী ও উত্তেজিত হয়। হাদিসে এসেছে,

    রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)

    আল্লামা মানাবী রহ. লিখেছেন, সঙ্গমের আগে শৃঙ্গার এবং আবেগপূর্ণ চুম্বন করা সুন্নাতে মু্‌ওয়াক্কাদাহ এবং এর অন্যথা করা মাকরূহ। (ফাইযুল ক্বাদীর ৫/১১৫)

    ৪. এরপরেও যদি সে আগ্রহী না হয় তাহলে তার বিছানা আলাদা করে দিন।

    ৫. এরপরেও যদি তার সংশোধন না হয় তাহলে তাকে মৃদু প্রহার করতে পারেন। লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে তা কঠিন না হয়।

    ৬. এসবই যদি ফলপ্রসূ না হয় তাহলে স্বামী ইচ্ছা করলে তার ভরণপোষণ বন্ধ করে দিতে পারেন।

    ৭. এরপরেও যদি কাজ না হয় তাহলে স্বামী ইচ্ছা করলে তাকে তালাক দিতে পারেন।

    স্বামীকে খুশি রাখার মূল্যবান টিপ্স

    ১) স্বামীর ঘুম থেকে উঠার আগে নিজে উঠে পরিপাটি হয়ে নেওয়া যাতে স্বামী
    আপনাকে সকাল বেলাই অপরিপাটি না দেখে। তার সাথে সুগন্ধি ব্যবহার
    করুন। যাতে সকালে আপনাকে দেখেই আপনার স্বামীর মন ভরে যায়।
    ২) তার ঘুম যেভাবে ভাঙ্গালে সে পছন্দ করবে, সেভাবে তাকে ঘুম থেকে জেগে
    তুলুন।
    ৩) তার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তবেই অন্য কাজে যাবেন। এবং সে তার কাজে
    যাওয়ার সময় কপালে আর বুকে দুইটা……… দিয়ে দিন।
    ৪) সে কখন বাসায় আসতে পারে তা অনুমান করে পরিপাটি হয়ে থেকে তার
    অপেক্ষা করুন এবং সে ডাকার সাথে সাথে দরজা খুলে দিন এক মুচকি হাসি
    দিয়ে। এবং তার সাথে কথা বলার সময় সর্বদা হাসি মুখে কথা বলুন।
    ৫) তার সামনে কখনো গন্ধ নিয়ে যাবেন না। সবসময় একটা সুঘ্রাণ রাখুন নিজের
    শরীরে।
    ৬) পরিপূর্ণ পর্দা করুন।
    ৭) স্বামীকে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাজের জন্য ডেকে দিন। আল্লাহর তরফ
    হতে স্বামীর হৃদয়ে আপনার প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা জন্ম নিবে।
    ৮) স্বামীর মনে কখনো আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।
    ৯) কখনো স্বামীকে নিজের উপর রাগ হতে দিবেন না বরং স্বামী যে ইশারায়
    চালাতে চায় সে ইশারায় চলুন( নাফরমানীর কাজ ব্যতিত)।
    ১০) স্বামী কোন কাজ করতে আদেশ করলে সাথে সাথে হাসি ও খুশির সহিত কাজ
    করে দিন।
    ১১) স্বামীর কাছে থাকাকালীন তার অনুমতি ব্যতিত কোন নফল ইবাদাত করবেন
    না। স্বামীর খেদমত অন্যান্য নফল ইবাদাত থেকেও উওম।
    ১২)পৃথিবীর কোন মানুষের গিবত না করা।
    ১৩) স্বামীর হুকুম ছাড়া স্বামীর মাল থেকে কাউকে দান বা হাওলাত না করা। এটা
    জায়েজ নেই।
    ১৪) স্বামীর কোন দোষের কথা পৃথিবীর কোন মানুষকে না বলা। বরং স্বামীর মাথা
    যখন একদম ঠান্ডা থাকবে তখন স্বামীকে হাসিমুখে বিনয়ের সহিত তার ভুল
    ধরিয়ে ও সুধরে দেওয়ার চেষ্টা করা।
    ১৫) স্বামীর কোন কাজ নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও তর্ক না করা।
    ১৬) স্বামী যা আনুক তা ১ টাকার হলেও এমন একটা ভাব করুন যেন এটা আপনার
    কাছে ভিষণ পছন্দ হয়েছে। এতে পুরুষেরা স্বস্তি পায়।
    ১৭) স্বামীর বাড়িতে যতই কষ্ট থাকুক, স্বামীর সাথে সমাধামের চেষ্টা করুন। তবে
    হাই হতাশা করে স্বামীকে কষ্ট দিবেন না।
    ১৮) স্বামীর মেজাজ বুঝে ব্যবহার। তার মুখে হাসি থাকলে আপনিও হাসুন। আর
    তার মন কোন কারণে খারাপ থাকলে আপনিও তার মন খারাপের ভাগিদার
    হোন, মন খারাপের সময় হেসে এটা প্রকাশ করবেন না যে তার মন খারাপে
    আপনার কিছু যায় আসে না। আর মেজাজ খারাপ থাকলে একদম চুপ
    থাকবেন।
    ১৯) স্বামী আপনাকে যে টাকা দিবে তা ১০০% তাকে হিসাব দিয়ে দিন।আপনার
    ওপর একটা অন্যরকম বিশ্বাস সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।
    ২০) শশুড়-শাশুড়ির সেবা করুন। এবং শশুড় বাড়ীর সকলকে ভালোবাসুন।

    ২২) ঘরের কাজ কারো জন্য ফেলে রাখবেন না।
    ২৩) স্বামী বাবা-মা এর কাছে টাকা দিলে তা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। তাদের
    ছেলের টাকা তারা নিবে না তো কে নিবে?
    ২৪) স্বামী কোন সফর থেকে ফিরলে তাকে খেদমত করুন, প্রশ্ন করুন পরে।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের বোনদেরকে আমল করার তৌফিক দান
    করুন…..আমীন!
    আর স্বামীরা মনে রাখবেন স্ত্রী আপনার দাসী নয় সে আপনার সহধর্মীনি,
    অতএব,তাকেও স্মমান করুন,ভালোবাসুন,তার চাওয়া পাওয়ার মুল্যয়ন করুন,
    তাহলেই আপনার সংসারে সুখ আসবে ইনশাআল্লাহ ।

    স্ত্রীকে খুশি রাখার মূল্যবান টিপ্স

    ১) বাহির থেকে ঘরে প্রবেশ করে স্ত্রীর চেহারার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসি
    দিয়ে বলুন তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে, দেখবেন স্ত্রীর যতই মন খারাপ
    থাকুক ভালো হয়েযাবে, কারণ মেয়েরা এই কথাগুলো খুব পছন্দ করে।

    ২) প্রতিদিন অফিসে আসার সময় এবং অফিস থেকে গিয়ে স্ত্রীর কপালে একটু
    আদর করে দিন।

    ৩) মাঝে মাঝে স্ত্রীর রান্নায় সাহায্য করুন দেখবেন আপনার প্রতি তার ভালোবাসা
    অনেক বেড়ে যাবে।

    ৪) মাঝে মাঝে পর্দা সহকারে একটু দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে নিয়ে যান দেখবেন স্ত্রীর
    মনটা অনেক প্রফুল্ল হয়ে যাবে।

    ৫) মাঝে মাঝে একটু মার্কেটে নিয়ে তার পছন্দের কিছু জিনিসপত্র কিনে দিন(পর্দা
    সহকারে)

    ৬) মাঝে মাঝে অফিস থেকে বাসায় আসার সময় আপনার স্ত্রীর পছন্দের কিছু
    খাবার যেমন ফুচকা, চিপস, মোগলাই ইত্যাদি খাবার গুলো এনে তার হাতে
    দিন দেখবেন ৫০ টাকার খাবারে আপনার স্ত্রী ৫০ লক্ষ টাকার খুশি হয়ে যাবে।

    ৭) আপনার ব্যক্তিগত যেকোনো কাজ অথবা সাংসারিক যেকোনো কাজে আপনার
    স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করুন দেখবেন এতে সংসারে আল্লাহ পাকের রহমত আসবে
    এবং আপনার স্ত্রীও মনে করবে যে সংসারে তার গুরুত্ব রয়েছে এবং এতে সংসারে
    ঝগড়া বিবাদ কমবে এবং শান্তি ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

    ৮) যখন আপনি আপনার বাবা-মায়ের জন্য কিছু কেনাকাটা করবেন তখন যদি
    সম্ভব হয় মাঝে মাঝে আপনার শ্বশুর শাশুড়ির জন্য কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে
    যান, কারণ আপনার বাবা-মা কে আপনার যেমন কিছু কেনাকাটা করে দিতে মন
    চায় আপনার স্ত্রী’রও মনে চায় তার বাবাকে কিছু দিতে।

    ৯) যখন দেখবেন আপনার স্ত্রীর যেকোনো কারণে মেজাজ খারাপ বা মন খারাপ
    তখন কিছু সময়ের জন্য আপনি চুপ থাকুন এবং কিছুক্ষণ পরে তাকে বুঝিয়ে
    বলুন,এতে সংসারে ঝগড়া বিবাদ কম হবে এবং শান্তি ফিরে আসবে
    ইনশাআল্লাহ।
    মনে রাখবেন একপক্ষীয় ভালোবাসা কখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়না।
    স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যেমন হক রয়েছে, স্ত্রীর প্রতিও স্বামীর কিছু হক রয়েছে।আপনি যেরকম চান আপনার স্ত্রী আপনাকে অনেক ভালবাসুক আপনার স্ত্রীও চায় আপনি তাকে অনেক ভালোবাসুন।

    স্বামী-স্ত্রী উভয়ে উভয়কে ভালবাসুন এবং ঝগড়ামুক্ত সুখী এবং দীর্ঘস্থায়ী সুখের সংসার গরে তুলুন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম