• শিরোনাম


    স্বপ্ন দেখি বাইতুল্লাহ শরীফের গিলাফে ক্যালিগ্রাফি করার :-মোল্লা মোহাম্মদ হানীফ

    সাজিদুল ইসলাম সাজিদ : স্টাফ রিপোর্টার | ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

    স্বপ্ন দেখি বাইতুল্লাহ শরীফের গিলাফে ক্যালিগ্রাফি করার :-মোল্লা মোহাম্মদ হানীফ

    মোল্লা মোহাম্মদ হানীফ ক্যালিগ্রাফি জগতে নবাগত হলেও সর্বমহলে পরিচিত এক নাম। বাবা নরসিংদী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। বাবার ইচ্ছা ছিলো ছেলে বড় হয়ে অর্থনীতিবিদ হবে। কিন্তু ছেলের ইচ্ছে বড় আলেম হওয়ার। অনেক চাপাচাপির পরেও একটা সময় বাবা ছেলের ইচ্ছের কাছে নতি স্বীকার করে ছেলেকে ভর্তি করান কওমী অঙ্গনে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট হওয়ায় মোল্লা মোহাম্মদ হানীফ আদরটা একটু বেশি পেতেন। মাদ্রাসায় আদর করে তাকে মোল্লা’জি বলে ডাকতো সবাই।
    “ভালোবাসায় ক্যালিগ্রাফি”র এ পর্বে এই তরুণ ক্যালিগ্রাফারকে নিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সাজিদুল ইসলাম সাজিদ।

    ছোট বেলায় বাবার আনা বিভিন্ন ব্যাংকের ক্যালেন্ডারে আরবি হরফের পেচানো অক্ষর দেখে ক্যালিগ্রাফির প্রেমে পড়ে যান । তখন পুরোনো ক্যালেন্ডারগুলোকে সে সযত্নে তুলে রাখতো মাথার কাছে। প্রতিদিন দেখতো আর ভাবতো এগুলো কিভাবে করে। ছোট্ট বুকে এক ধরনের অতৃপ্ত নেশা তাকে বারবার নাড়া দিত। কখনো ব্লাক বোর্ডে কখনো পেন্সিলে আঁকারও চেষ্টা করতে গিয়েও থেমে যেতেন । কিন্তু মনের মধ্যে ক্যালিগ্রাফির জন্য ভালোবাসার টান’টা অনুভব করতেন সবসময়।
    ২০০৯ এ হিফজুল কোরআনে ভর্তি হবার পর থেকে ক্যালিগ্রাফির ছবি সংগ্রহ করতে শুরু করেন। আর এই কাজে তাঁর বাবা তাকে খুব সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিতেন। হিফজ শেষ করে এবার ভর্তি হন মালিবাগ মাদরাসায়। এখানে এসে মুফতী হুসাইন আরিফী স্যারের কাছে কঞ্চি আর কালি দিয়ে ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।করে ফেলেন বেশ কিছু খতের ক্যালিগ্রাফি। পরবর্তীতে সাজিদ ভাই নামে তার এক বড় ভাই তার কাজ দেখে খুশি হন । মাঝে মাঝেই তিনি তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন এবং তাঁর পরামর্শেই ২০১৮ সালের দিকে প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার মাহাবুব মুর্শিদ স্যারের কর্মশালায় অংশ নেন। এবং সেখান থেকেই তাঁর ক্যালিগ্রাফি শেখার দ্বার উন্মুক্ত হয়।



    স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে পুঁজি করে ক্যানভাস আর রং তুলি ছোঁয়ায় আঁকতে থাকেন তাঁর স্বপ্নকে। অবসরে ক্যালিগ্রাফির মাঝেই খুঁজে পেতে চেষ্টা করেন আত্নার প্রশান্তিকে। অংশ নেন জাতীয় জাদুঘরে ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায়। সেখানেও কৃতিত্বে সাক্ষর রেখে পুরস্কৃত হন। তাঁর ক্যানভাস একে একে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে জায়গা করে নিতে শুরু করে। ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিট্যাল ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী ও ফোকাস বাংলা আন্তর্জাতিক আর্ট প্রদর্শনীতে তাঁর শিল্পকর্ম সর্বমহলে ভূয়সী প্রশাংসায় প্রশংসিত হয়। ক্যালিগ্রাফিতে তিনি মাহাবুব মুর্শিদ স্যারকে তাঁর কাজের আইডল হিসেবে মনে করেন।

    ক্যালিগ্রাফি নিয়ে তাঁর স্বপ্ন কি?
    এ প্রশ্নের উত্তরে হেঁসে দেন। বলেন আমি ক্ষুদ্র একটা মানুষ কিন্তু আমার স্বপ্নটা অনেক বড়! স্বপ্ন দেখি কোন একদিন বাইতুল্লাহ শরীফের গিলাফে ক্যালিগ্রাফি করার । জানিনা এ স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তবে স্বপ্ন দেখতে আর দোষ কি। স্বপ্নই তো বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে।

    ক্যালিগ্রাফি নিয়ে প্রত্যাশা?
    ক্যালিগ্রাফি নিয়ে প্রত্যাশা একটাই। আমরা সবাই যারা এই অঙ্গনকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছি। তারা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে এই অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে পারি। ঐক্যবন্ধ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেনো ক্যালিগ্রাফির বৃহৎ এক প্লাটফর্ম উপহার দিতে পারি এটাই প্রত্যাশা করি ।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম