• শিরোনাম


    সৌদীর মাজলুম আলেম শাইখ খালেদ রাশেদ : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ১১ এপ্রিল ২০২০ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

    সৌদীর মাজলুম আলেম শাইখ খালেদ রাশেদ : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান, আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সা.-এর জন্য উৎসর্গপ্রাণ কিছু প্রিয় বান্দা পৃথিবীতে থাকার কারণেই আজো মুসলমান ওমর-খালিদের চেতনা বুকে লালন করে বেঁচে আছে। এমনই একজন মর্দে-মুজাহিদ সৌদী আরবের প্রখ্যাত আলেম ও সুবক্তা শাইখ খালেদ রাশেদ হাফিজাহুল্লাহ। তাঁর প্রতিটি বক্তব্য কান্নাজড়িত বিধায় তিনি ‘অধিক ক্রন্দনকারী শাইখ’ বলে পরিচিত।

    ১৯৭০ সালে আল-খুবর শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ইলমে দ্বীন অর্জনে তৎকালীন বরেণ্য স্কলারদের সান্নিধ্যে পরশে সুরভিত হয়েছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলেন: শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ., শাইখ আব্দুল্লাহ বিন জিবরীন রহ., শাইখ আব্দুর রহমান বার্রাক রহ. ও শাইখ আব্দুল্লাহ সা‘দ রহ.। প্রথমজনের এগার বছর আর দ্বিতীয়জনের তের বছর সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন শাইখ খালেদ রাশেদ। কর্মজীবনকে সাজিয়েছেন আকীদা-হাদীস ও দাওয়াহর বরকতময় কার্যক্রম দ্বারা। অনেক ইলমী কর্মশালা এবং বিভিন্ন শহরে সাপ্তাহিক দরস প্রদান করেছেন। এভাবেই যাপিত হচ্ছিল শাইখের কর্মমুখর জীবন। কিন্তু এক সময় তিনি ভিন্নভাবে ফুটে ওঠেছেন; রাসুলের কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে তুললেন প্রলয়ংকারী এক তুফান। যার ফলে তাগুতের দালাল সৌদী-সরকার তাকে কারারুদ্ধ করে। ঘটনা হলো, ২০০৫ সনে ডেনমার্কের কিছু কুলাঙ্গার ফটেগ্রাফার রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করলে পুরো বিশ্বমুসলিম প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন। তখন শাইখ খালেদ রাশেদ সকল ইসলামী রাষ্ট্র বিশেষকরে সৌদী সরকারকে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ‘‘يا أمة محمد’’ শিরোনামে এক ঐতিহাসিক অগ্নিঝরা ভাষণ প্রদান করেন। যেখানে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে দৃপ্তকণ্ঠে, অঝোর কান্নাময় ও আবেগী ভাষায় মুসলিম উম্মাহকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। শাইখ একজন মুসলিম ভায়ের স্বপ্নের কথা উল্লেখপূর্বক বলেন, সে ব্যক্তি বলেছে: আমি রাসূল সা.কে চিন্তিত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখলাম। নবীজী বলছিলেন,
    (قل لأمتي أليس لي حق عليهم أن يفدوني بأنفسهم) ‘‘আমার উম্মতকে বলে দাও, তাদের উপর আমার এই হকটুকু কি নেই যে, তারা আমার জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করবে?!’’



    এছাড়াও শাইখ সরকারের কাছে ডেনমার্কের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার জোর দাবী জানান। এই বক্তব্যই আলে সউদের ভিতে কাপন সৃষ্টি করে। ফলে সৌদী সরকার তাকে গ্রেফতার করে। ২০০৫ খ্রী. থেকে দীর্ঘ পনের বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। শাইখ কোন এক উপলক্ষ্যে কারাগার থেকে সালমান বিন আব্দুল আযীযের নিকট একটি চিঠি প্রেরণ করেন। পত্রের মধ্যভাগে এ বলে দোআ করেন,
    ‘‘ “اللهم اجمع المسلمين على الحق’’
    হে আল্লাহ! সকল মুসলমানকে আপনি হকের উপর একত্র করে দিন।।

    শাইখ খালেদ রাশেদকে মনে পড়লে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)-এর ঈমানদীপ্ত উক্তিটিই স্মরণ হয়। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল হকপন্থীরা কোথায়? এর জবাবে তিনি বলেন, “হকপন্থী ব্যক্তিরা আছে যুদ্ধের ময়দানে, কারাগারে অথবা মাটির নিচে”।
    আল্লাহ তাআলা শাইখ খালেদ রাশেদসহ সকল মাজলুম আলেমের মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। আমীন।

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।
    ১১/৪/২০২০ইং, শনিবার।।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম