• শিরোনাম


    সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি চালু করতে আলেম উলামাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি চালু করতে আলেম উলামাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচন কেমন হবে তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। নির্বাচনটি অংশগ্রহণ মূলক ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক উৎকন্ঠা।সর্বমহলে একটি প্রশ্ন ই উচ্চারিত হচ্ছে হারহামেশা, আর তা হলো আগামী সংসদ নির্বাচন সত্যি ই কি সুষ্ঠ, গ্রহণ যোগ্য ও নিরপেক্ষ হবে?
    যদি ও নির্বাচনকে সুষ্ঠ করতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ সহ অনেকের সাথে ই সংলাপ করেছে।
    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতির ধারা কেমন হবে তা নির্নয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তেমনি যারা ইসলামী রাজনীতি করেন সেই সব উলামায়ে কেরাম ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।কারন যারা ইসলামী রাজনীতি করেন তারা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমূহের ন্যায় দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন।

    আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছে। দেশের জনগণ প্রচলিত ভোগবাদী রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি হয়ে পরেছে। প্রত্যাশিত প্রাপ্তি হাসিলে রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো অনৈতিক পথ অবলম্বনে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।
    প্রচলিত ভোগবাদী রাজনীতিবিদদের হাত থেকে দেশ ও জাতীকে বাঁচাতে প্রয়োজন আদর্শবাদী,জনকল্যাণমূখী রাজনীতি।
    প্রচলিত রাজনীতি মানুষকে যেমন ভোগবাদী করে তুলে তেমনি করে তোলে আদর্শহীন।
    আদর্শহীন রাজনীতির কারনে রাজনীতির মতো মহৎ একটি সেবা মূলক কর্মসূচির প্রতি জনগণ এখন ঘৃনার দৃষ্টি দিচ্ছে। রাজনীতির কথা শুনলে সাধারণ মানুষ এখন আতকে উঠে।
    জনগণ এখন মনে করে হত্যা করা, দূর্নীতির পাহাড় গড়া, ক্ষমতার জন্য সাধারণ মানুষকে বলিরপাঠা বানানোর অপর নাম ই রাজনীতি। তাদের মনে এমন ধারনা সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতি তে রাজনীতিবিদদের মাঝে আদর্শহীনতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায়।
    পক্ষান্তরে প্রচলিত আদর্শহীন রাজনীতির মোকাবেলায় যারা ইসলামী রাজনীতি করেন তাদের ও সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে এবং দেশে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি চালু করে জনগণের নিকট অপ রাজনীতির মুখোশ উন্মোচন করে ইসলামী রাজনীতির পরিচয়, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনগণের নিকট তুলে ধরে উলামায়ে কেরামদের মহান দায়িত্ব কাধে নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।উলামায়ে কেরামদের রয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ দায়িত্ব। তারা যে আম্বিয়ায়ে কেরামদের প্রতিনিধি। সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি রয়েছে পরকালে আল্লাহতায়ালার নিকট কঠোর জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা।



    ইসলাম যেহেতু একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যাবস্থা,তাই, ইসলাম ধর্মে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সহ সকল ক্ষেত্রে রয়েছে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। আর এই দিকনির্দেশনার মূল ভিত্তি হচ্ছে মহান আল্লাহতায়ালার বানী কোরআন ও বিশ্বনবী মোহাম্মদ ( সা:) এর হাদিস তথা মোহাম্মদ ( সা:) এর আদর্শ।
    উলামায়ে কেরাম যদি কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী রাজনীতির সুফল দেশের জনগণের নিকট পূর্নাঙ্গ রুপে তুলে ধরতে সক্ষম হয় তাহলে ই কেবলমাত্র একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ ধারার রাজনীতিতে দেশের জনগণ আবার সম্পৃক্ত হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। অন্যথায় ভোগবাদী রাজনীতিবিদদের প্রচলিত রাজনীতি দেশকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দিবে।

    লেখক
    সাংগঠনিক সম্পাদক
    ইসলামী ঐক্যজোট
    ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম