• শিরোনাম


    সুরের টানে মাত্র আট বছর বয়সে কলকাতার পথে আলাউদ্দিন খাঁ [] প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    | ০৬ মে ২০২১ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ

    সুরের টানে মাত্র আট বছর বয়সে কলকাতার পথে আলাউদ্দিন খাঁ [] প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    সংগীত ভুবনের মুকুট বিহীন সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কলম ধরেছেন ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক প্রফেসর ফরহাদ হোসেন। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে লেখকের এ লেখা। আজ পাঠকের উদ্দেশে থাকছে ২য় পর্ব।

    ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁন
    তুমি বাংলার গৌরব
    জগত জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছো
    তোমার সুরের সৌরভ
    বুঝলনা শুধু তোমার জন্মস্থান
    জগতে তুমি কত মহীয়ান!



    আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের পারিবারিক নাম আলম। বাবা সবদর খাঁ (সদু খাঁ) ত্রিপুরার মাণিক‍্য বংশীয় রাজদরবারের সভা সংগীতজ্ঞ ছিলেন। সদু খাঁ ত্রিপুরার রাজদরবারের প্রধান সংগীতজ্ঞ ওম্ভাদ কাশেম আলী খাঁর কাছে সংগীতের তালিম নেন। খাঁ সাহেবের বাবা সংগীতজ্ঞ হলেও তিনি পুত্র আলাউদ্দিনকে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিশোর আলাউদ্দিনের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনার প্রতি কোন আগ্রহ ছিল না। মা সুন্দরী বেগম ছেলেকে পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হওয়ার উপদেশ দিলেও ছেলের এ ব‍্যাপারে কোন ভাবান্তর ঘটেনি। কিশোর আলাউদ্দিনকে যা টানতো তা হলো সংগীত। সংগীতের টান আত্মার। দেহের নয়। হযরত জুননুন মিসরী রা: বলেছেন, ” সংগীত আত্মাকে লক্ষ‍্যবম্ভুর দিকে ধাবিত করে।” ছোট বেলা থেকেই খাঁ সাহেবের মননে সংগীত ছিল। তাই সুরের টানে তিনি যেই বয়সে ঘর ছাড়েন তা বিস্ময়কর। মাত্র আট বৎসর বয়সে মায়ের সিন্দুক থেকে বার টাকা নিয়ে কাউকে কিচ্ছুটি না বলে পথে নামলেন। গন্তব‍্য কোলকাতা। শুরু হলো তাঁর কলকাতার জীবন।

    আট বছরের বালক আলাউদ্দিন কোলকাতায় পৌঁছলেন। হাতে বার টাকা। সেই সময়ের লন্ডন শহরের পরে পৃথিবীর বৃহত্তম শহর কোলকাতা। বালক আলাউদ্দিন কোথায় যাবেন? কার কাছে যবেন? ভারতে বৃটিশ সাম্রাজ্রের রাজধানী কোলকাতা। যে সে কথা নয়। তখনও দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়নি। অবশেষে কোলকাতার পাথুরিয়া ঘাটের একটি মন্দিরে তাঁর ঠাঁই মিলে। দিনে একবার খাবারেরও ব‍্যবস্থা হলো। খাঁ সাহেব বেশ সচ্ছল পরিবারের সন্তান। পৈতৃক সম্পত্তি যতেষ্ট ছিল। তার উপর পিতা সবদার খঁ (সদু খাঁ) ত্রিপুরার রাজদরারের সংগীতশিল্পী ছিলেন বিধায় তিনি রাজ দরবার থেকে সম্মানী পেতেন। সংগীতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষনের জন্যই খাঁ সাহেবকে অনিশ্চিত জীবন ইচ্ছাকৃত ভাবে বেছে নিতে হয়েছে। এই পরিবারের কাউকে আর্থিক আয়ের পেশায় যেতে হয়নি। সংগীত ও আধ‍্যাতিক জীবন নিয়ে চর্চাই পরিবারটির প্রধান বিষয় ছিল। খাঁ সাহেবর মেঝো ভাই ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ ছিলেন একজন সংগীতজ্ঞ ও আধ‍্যাতিক ব‍্যক্তিত্ব। তিন সাধকের সম্নয়য়ে একটি আধ‍্যাত্নিক ফোরাম ছিল এবং এর নেতা ছিলেন সাধক মনমোহন দত্ত, গ্রাম: সাতমোড়া, লবচন্দ্র, গ্রাম: লাউর ফতেহপুর, আফতাব উদ্দিন খাঁ, গ্রাম: শিবপুর। তাঁদের তিনজনের লেখা একটি বই ‘ মলআ'(মলয়া) আধ‍্যাতিক সংগীতের উপর একটি সুপরিচিত পুস্তক। আমি এই বইয়ের একটি গানের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি:” আমি কি তোমার ভজন জানি?
    অভজনে আছো কি না ভেবে মরি দিন রজনী।
    আমি কি তোমার ভজন জানি?
    কর্মে আমার নাহি জ্ঞান
    অকর্মেতে কর্ম বিধান
    করো হে করুনা আমায়
    করুনাময় নামটি শুনি
    আমি কি তোমার ভজন জানি?
    অভজনে আছো কি না
    ভেবে মরি দিন রজনী
    আমি কি তোমার ভজন জানি।”

     

    লেখক: বিভাগীয় প্রধান,ইংরেজি বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম