• শিরোনাম


    সুবিধাবাদীরা কোন দলের নয়। প্রসঙ্গ নবীনগর উপজেলা বিএনপি।

    অলিউল্লাহ খান, প্রতিনিধিঃঃ আওয়ার কণ্ঠ | ০৭ অক্টোবর ২০১৮ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ

    সুবিধাবাদীরা কোন দলের নয়। প্রসঙ্গ নবীনগর উপজেলা বিএনপি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) নির্বাচনী এলাকার সন্তান হিসেবে ত্যাগীদের পাশাপাশি সুবিধাবাদীদের চরিত্র দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা সকলেই জানি, সুবিধাবাদীরা আদর্শকে কবর দিয়ে সর্বদা ক্ষমতার পুজা করে। তেমনি চিত্র নবীনগরে হরহামেশা দেখা যাচ্ছে। নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম যখন জনসভায় বিনা ভোটের সরকারের এমপি ফায়জুর রহমান বাদলের হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকায় ভোট চায় । তখন সারাজীবন জাতীয়পার্টি করা প্রয়াত কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নব্য বিএনপির নেতাকর্মীরা নৌকার গুণকীর্তন করবে এটাই স্বাভাবিক। ইদানিং নবীনগর আওয়ামী দলীয় নেতাকর্মীরা হাস্যরস করে বলে, ” নবীনগর বিএনপি’র সভাপতির বক্তৃতাই প্রমাণ করে নবীনগরে ফায়জুর রহমান বাদলের বিকল্প নাই “।

    ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার অন্যতম প্রধান হোতা স্বৈরাচার এরশাদের দোসররা কখনো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শ বুকে ধারণ করবেনা। এরা সুযোগ পেলেই বিএনপির সর্বোচ্চ ক্ষতি করবে। স্বৈরাচার এরশাদের ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির বর্জন করা নির্বাচনে নবীনগর থেকে ভোট কারচুপি করে সংসদ সদস্য হন কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি কুট কৌশল করে বিএনপিকে নবীনগরে কোনঠাসা করে রাখেন। সকল দলের অংশগ্রহণের ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয়পার্টি থেকে এমপি হন। ১৯৯৬ সালে ঋণখেলাপি হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হলে বিএনপির প্রার্থী তকদীর হোসেন মোঃ জসিমের তীব্র বিরোধিতা করে আওয়ামী দলীয় প্রার্থী প্রয়াত এডভোকেট আব্দুল লতিফের পক্ষে কোমর বেধে নেমে এড. আব্দুল লতিফকে বিজয়ী করেন। যে এরশাদ রাস্তা থেকে ধরে এনে এমপি বানিয়েছে। সে এরশাদকে ছেড়ে দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয়পার্টি (নাফি) মনোনয়নে ধানেরশীষ প্রতীকে বিজয়ী হন। কিন্তু ১/১১ সময়ে বিএনপির চরম দুঃসময়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটকে লাথি মেরে বেইমান ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশির নেতৃত্বে কিংসপার্টি গঠন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগে যোগদানে ব্যর্থ হলে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী জিকরুল আহমেদ খোকনের নিকট ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।



    ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ করে স্বৈরাচার এরশাদের ক্ষমতায় জাতীয়পার্টি থেকে এমপি বনে যাওয়া। আবার এরশাদের সাথে বেইমানি করে জাতীয়পার্টি ভেঙে নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের জাতীয়পার্টি থেকে এমপি হয়ে ২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তার সুবিধাবাদী বাহিনী দিয়ে বিএনপিকে গ্রাস করতে বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জাতিয়পার্টি নির্ভর বিএনপির আত্মপ্রকাশ ঘটান। সেই থেকেই নবীনগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নবীনগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সুবিধাবাদী মনোভাব দেখে শহীদ জিয়ার প্রকৃত সৈনিকেরা ব্যথিত হচ্ছে।

    অবৈধ সরকারের ষড়যন্ত্রে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া সহ সকল জাতীয়তাবাদী শক্তির চরম দুঃসময়ে নবীনগর বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্ণধার পরিচয়ে কাজী তাপস বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের এমপির সাথে দেশমাতার গাড়ী বহরে হামলাকারী সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা আল আমীনের বিয়েতে হেলিকপ্টারে যোগ দেয়। তারই সহযোগী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিকের দিনভর বাদল এমপির গুণকীর্তন। সম্প্রতি বিদ্যাকুটে নৌকার প্রচারণার সভায় বিএনপি নেতার পরিচয়ে সাবেক জাতীয়পার্টির নেতা বর্তমান উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি বাচ্চু ভদ্র ও বিদ্যাকুট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ধানেছ মেম্বারদের অংশগ্রহণে বুক ফেটে যায়। এভাবে নবীনগর বিএনপিকে ধ্বংস করতে দেওয়া যায়না। অবিলম্বে অবৈধ সরকারের চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবী।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম