• শিরোনাম


    সুন্দর ও সুগঠিত সমাজ বিনির্মাণে একজন আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা সর্বাগ্রে..

    লেখক: ম. কাজী এনাম, স্টাফ রিপোর্টার | ০৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

    সুন্দর ও সুগঠিত সমাজ বিনির্মাণে একজন আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা সর্বাগ্রে..

    আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল শিক্ষকদের প্রতি রইল আমাদের সকল ছাত্র-অভিভাবকদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । যদিও এই শ্রদ্ধাবোধ ও ভালবাসা একদিনের জন্য কিবা সাময়িক কোন বিষয় নয়, তবুও আমরা আমাদের প্রিয় ও বিশেষ শিক্ষক ছাড়াও পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি আজকের এই বিশেষ দিনে, বিশেষ ভাবে। আমাদের মা-বাবা আমাদের জন্ম দিয়েছেন ঠিকই, মানুষের মতো প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করেছেন কেবল একজন দায়িত্ববান ও আদর্শ শিক্ষক। সেজন্যেই একজন আদর্শ শিক্ষকের নামের আগে ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলা হয়ে থাকে খুবই গর্বের সাথে।

    আমরা জানি, একজন আদর্শবান শিক্ষক সমাজ বদল ও গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। আদর্শ শিক্ষকই শুধু পারেন আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার রূপরেখা ও কাঠামো তৈরি করতে। এ জন্যই শিক্ষকতাকে অপরাপর পেশার মানদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না বলে অনাদিকাল থেকে এটি একটি সুমহান পেশা হিসেবে সমাজ-সংসারে পরিগণিত হয়ে আসছে। কারণ জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে।
    হাদিসে হযরত রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।(আল-হাদিস)। তাই তিনি শিক্ষা, শিক্ষার উপকরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার ব্যাপকীকরণে সদা সচেষ্ট ছিলেন। বদরের যুদ্ধবন্দিদের তিনি মদিনার শিশুদের শিক্ষা দেয়ার বিনিময়ে মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। শিক্ষকরা মানুষ তৈরির কারিগর। শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। এক কথায় বলা যায়, শিক্ষক মানুষ চাষ করেন। যে চাষাবাদের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র তার দ্বারা উপকৃত হয়। জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে প্রয়োজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পেশাগত স্বাধীনতা থাকা দরকার। এর পাশাপাশি যথার্থভাবে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। দেশব্যাপী শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও মর্যাদা সুরক্ষাসহ শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা অতি সম্মানিত ও মহান পেশা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের সমাজে এমনকি জাতীয়ভাবে শিক্ষকদের তেমন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। ক্ষেত্রবিশেষ শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়। বলতে লজ্জা হয়, দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে দেখা যায়। এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজ। অথচ হযরত রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়া কেউই আমার আপন নয়। এই হাদিসের আলোকে বলা যায়, যারা শিক্ষকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে, অপমান করে-তারা তো পরোক্ষভাবে হযরত রাসুলুল্লাহর [সা.] আপনজনদেরই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখছে; তাদেরই অপমান করছে। আর হযরত রাসুলুল্লাহর [সা.] আপনজনদের সঙ্গে বিরূপ ধারণা পোষণকারী কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর রাসুলের [সা.] সুপারিশ লাভ থেকে বঞ্চিত হবে।



    আরেকটা বিষয় বলতে হয়, যদিও বলতে সংকোচবোধ হচ্ছে, তবুও সত্য বলতে হয়। কয়দিন আর দ্বীধা করে বসে থাকব? সত্য বলার ভয়ে আজ আমরা নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছি দিনদিন। সেটা হলো মুল্যায়ন। বিশেষত ধর্মীয় শিক্ষাগুরুদের যথাযথ মুল্যায়ন না করা। একজন সাধারণ শিক্ষকের বেলায় সময় ও অর্থের মুল্যায়নের সাথে যেন ধর্মীয় শিক্ষাগুরুর মুল্যায়নটা হাস্যকর। সময় থাকলে বা অবসর থাকলে পড়বে, না হয় না। অর্থের বেলায় ধর্মীয় শিক্ষকের বেতন জাগতিক শিক্ষকের রিক্সাভাড়ার চেয়েও কম। আর ইহাই হলো শিক্ষকের অবমুল্যায়ন। এসব আমাদের নিজেদের হীনমন্যতার পরিচায়ক। শিক্ষা দিবসে আমাদের অঙ্গিকার হউক, একজন আদর্শবান শিক্ষক ও মানুষ গড়ার কারিগরের মর্যাদা হবে আমাদের কাছে সবার উপরে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের ভীরে একজন শিক্ষকের মূল্যায়ন হবে সবার উর্ধ্বে। দেশ ও জাতিয় পর্যায়ে একজন আদর্শ শিক্ষকের স্থান, অবস্থান, মর্যাদা ও সম্মান হবে সর্বাগ্রে।

    #ম. কাজী এনাম
    বিএসএস অনার্স(অর্থনীতি), ডাবল এমএ(হাদিস)
    উস্তাদ, জামিয়া কুরআনিয়া সৈয়দা সৈদুন্নেছা, কাজীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
    স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ার কণ্ঠ

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম