• শিরোনাম


    সুন্দরগঞ্জে ৫০ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা

    জাহিদ হাসান জীবন, প্রতিনিধি সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা | ২০ এপ্রিল ২০২০ | ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

    সুন্দরগঞ্জে ৫০ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৫০ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করছে ভূমিদস্যু হাফিজার বাহিনী। যে কোন মহুর্তে এলাকাবাসীর মাডার হওয়ার আশঙ্কা।

    জানা গেছে, উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পশ্চিম পরাণ গ্রামে মৃত নবী বকসের তিন ছেলে করিম বকস,এলাহী বকস, খোদাই বকস ও তিন মেয়ে নছিরান নেছা,জয়গুন নেছা এবং কাছুয়ানী বেগম। তন্মধ্যে ১৯৭২ সালের ১৫ জুন খোদাই বকস তার তিন বোনের অংশ থেকে ১ একর ০৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখলে নেন। তখন করিম বকসের ছেলে হাফিজার বাহিনীর প্রধান হাফিজার রহমানের নেতৃত্বে খোদাই বকসের জান মালের উপর বিভিন্ন উপদ্রব শুরু হয়। এক পর্যায়ে এলাহী বকসের ছেলে মোজাফ্ফর মিয়া খোদাই বকসের জমির ধান চুরিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা করেন এলাহী বকস। মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে খোদাই বকসের পরিবারের মহিলাসহ ছোট বড় সবাইকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে করিম বকসের বড় ছেলে হবিবর রহমানের বসতভিটার ৮ শতাংশ জমির পরিবর্তে খোদাই বকসের ৯ শতাংশ জমির রেওয়াজ (পাল্টাপাল্টি)দলিল করতে রেজিস্ট্র অফিসে নিয়ে যান হাফিজার রহমান। প্রথমে খোদাই বকস হবিবরকে জমি দলিল করে দেন। এসময় ধুত হাফিজার সুকৌশলে ৯ এর সামনে ১ বসিয়ে ১৯ শতাংশ জমি দলিল করে নেয়। খোদাই বকসকে জমি দলিল করে না দিয়ে পালিয়ে বাড়িতে আসেন হবিবরকে নিয়ে হাফিজার। পরদিন সকালে হাফিজার দলিলকৃত ১৮ দাগের ৭০৬ খতিয়ানভুক্ত ২২ শতাংশ জমির মধ্যে ১৯ শতাংশ জমি মাপিয়ে নিয়ে বাকি ৩ শতাংশ জমি ছেড়ে রাখেন।



    এর ৩ বছর পর আবার হাফিজারের কথা মত হবিবরের ছেলেরা বাকি ৩ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে গাছ লাগায়। খোদাই বকসের ছেলেরা বাধা দিতে গেলে তারা বলে, আমার বাবা ত বসতভিটার ওই ৮ শতক জমি দলিল করে দেয়নি। তাই আমরা আরও ৫ শতক জমি পাব। এ কারনে হাফিজার হবিবরের ৬ ছেলে ও এলাহী বকসের ছেলে, নাতি,পুতিদের নিয়ে বিশাল বাহিনীর জোট বেধে মাঠে নামে। বেড়ে যায় তাদের অপকর্মের মাত্রা। এরই এক পর্যায়ে গেল বছর ২০১৯ সালের শেষ দিকে হাফিজার অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ বছর আগে
    অংশ হস্তান্তর করা অংশীদারদের ওয়ারিশদের নিকট থেকে তার ছেলে,ভাগ্নে ও হবিবরের ২ ছেলের নামে ৮০ শতাংশ জমি নামে মাত্র দলিল করে নেয়। অতঃপর শুরু হয় তাদের বিভিন্ন লীলা। আজ খোদাই বকসের জমির ধান কাটে,কাল পুকুর থেকে মাছ ধরে,এভাবে তারা গাছ কাটা,গাছ ভাঙ্গা,জমির ধান নষ্ট করা,পাট নষ্ট করাসহ বিভিন্ন ফসল বিনষ্ট করে আসছে। এনিয়ে থানা ও কোর্টে উভয় পক্ষের ২ ডজন মামলা রয়েছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ বহুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদও বহুবারই সালিসি করে সমাধান করা সম্ভব হয়নি ফেৎনা সৃষ্টিকারী হাফিজারের জন্য। সে পকেট ভরানোর জন্যই জিইয়ে রাখে এসব ঝগড়া বিবাদ। চলতি বছরের ১৮ মার্চ ভূমিদস্যু হাফিজার তার বিশাল বাহিনী নিয়ে খোদাই বকসের ১২ বিঘা জমির উঠতি বোরো ধান ক্ষেতে হাল চাষ দিয়ে নষ্ট করে দখল করতে যান। এতে বাধা দিতে গেলে আহত হন খোদাই বকসের ছেলে শাহ জামাল মিয়া,আতিয়ার রহমান,জামাতা আলহাজ্ব ফজলে হক । আহতদের মেডিকেলে নিতে চাইলে হাফিজার ফিল্মিস্টাইলে এ্যাম্বুলেন্স আসতে বাধা দেন।পরে গ্রামবাসী এসে তাদেরকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। আহত আতিয়ার রহমানের
    অবস্থা গুরুতর হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাবের কারনে তাকে সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ দেয়া হয়। সে বাড়িতে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিশ্ব দেশবাসী ও প্রশাসন যখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যস্ত তখন হাফিজার বাহিনীর দাপট বেড়েছে আরও বহুগুণে। তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জমি দখলের নেশায়। শনিবার হাফিজারের নেতৃত্বে তার বাহিনী জোট বেধে খোদাই বকসের জমি দখল করে পুকুর খনন করতে যায়। এসময় খোদাই বকসের ছেলেরা মুখোমুখি হলে খুনাখুনি হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী এসে তাদেরকে থামিয়ে দেন। এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খোদাই বকসের ছেলেরা কি পারবে তাদের ৫০ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা করতে না তাদের জমি-জমা চলে যাবে ভূমিদস্যুদের পেটে। প্রবীণ এলাকাবাসী মহির উদ্দিন জানান,খোদাই বকস তার খাটনির টাকা দিয়ে বোনের ঘরে অংশ কিনছে। হইবরের বেটারা এক ছিটা জমিও পাওয়ার নয়।এগুলো সব হাবেজারের বাটপারি। প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম বলেন,হাবেজার দেওয়ানী এলাকার একটা পয়জন,সে এক জায়গার কাজিয়া দশ জায়গায় লাগিয়ে দেয়।জমি পাওয়া ধান্দা লাগিয়ে দিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি লাগিয়ে দেওয়ানগিরি করি পয়সা খায়। এমতাবস্থায় খোদাই বকসের তিন ছেলের পরিবার তিনটির চরম আতঙ্কে দিন কাটছে দেখার কেউ নাই। সময় মত যদি প্রশাসন এগিয়ে না আসে,তাহলে
    হয় তাদের বাপ-দাদার জমি হারাতে হবে নয়ত হারাতে হবে অকালে তাদের কারও না কারও তাজা প্রাণ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম