• শিরোনাম


    সুন্দরগঞ্জে মামা ভাগ্নীর বাল্য বিয়ে

    রিপোর্ট জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: | ২৩ জুলাই ২০২০ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

    সুন্দরগঞ্জে মামা ভাগ্নীর বাল্য বিয়ে

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বারো বছরের এক কিশোরের সাথে চৌদ্দ বছরের কিশোরীর জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাল্যবিয়ের শিকার ওই দুই কিশোর-কিশোরী সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নী হয়। এমন বিরল এ ঘটনার জন্ম দিয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সামছুল হকের বিরুদ্ধে।

    গত রোববার (১৯ জুলাই) রাতে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালাচর গ্রামে এ বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে। মামা ভাগ্নীর এমন বিয়ের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।



    জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে উপজেলার লাটশালা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে শামীম মিয়ার (১২) সাথে একই গ্রামের কালু মন্ডলের মেয়ে হাসিনা আক্তারের (১৪) অবৈধ প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তোলে মেয়ের পরিবার। এমন অভিযোগে গত রবিবার দুপুরে কিশোর শামীমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে মেয়ের ভাই ও মামা। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামছুল হকের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্র হাতে ওই কিশোরকে তুলে আনেন মেয়ের পরিবারের লোকজন। এ সময় ছেলের বাবা বাঁধা দিতে গেলে তাকে মারপিট ও বিভিন্ন হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখান তাঁরা। এরপর ওই ছেলে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকেও বেধম মারপিট করা হয়। এমনকি ছেলের বাবা মাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তারা। পরে ওই রাতেই ইউপি সদস্যের উপস্থিতে এ বাল্যবিয়ে পড়ান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কাজী আব্দুল হাই। বিয়ে শেষে মেয়েকে ছেলের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর এ ঘটনায় বাড়াবাড়ি না করতে শাসানো হয় ছেলের পরিবারকে। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পরিবার ও স্থানীয়দের।
    ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এক সপ্তাহ আগে কোন ঘটনা ছাড়াই হঠাৎ করে ছেলে-মেয়ের অবৈধ সম্পর্কের কুৎসা রটানো হয়। এরপর গত রবিবার রাতে মেয়ের ভাই সালাম ও তার এক মামাসহ কয়েকজন লোক বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যান। সম্পর্কে মামা ভাগ্নী হলেও তাদের জোর করে বিয়ে দেন মেম্বার ও মেয়ের পরিবার। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার ছেলেকে বিয়েতে রাজি করান ও রেজিস্ট্রারে সই নেন কাজী। আর কাজীর কাছে ছেলের বয়স কম জানালে উল্টো ৭/৮ বছরের বাচ্চার বিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। আর আমরা এ বিষয়ে যদি কাউকে কিছু বলি তাহলে বিভিন্ন রকমের হুমকি দেয়া হয়।

    এ ব্যাপারে ছেলের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, মেয়েটির মা আমার ভাগ্নী হয়, সে সম্পর্কে সে আমার নাতনি। আমার ছেলের ও মেয়ের মামা-ভাগ্নীর সম্পর্ক ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেম্বারের হুকুমে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে। আর কাজী আমাকে বলে যে উনি নাকি ৭/৮ বছরের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারেন।

    বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরী হাসিনা আক্তার বলেন, আমার সাথে শামীমের কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না। মামা-ভাগ্নী হিসেবে আমরা কথা বলতাম। কিন্তু আমার বাড়ির লোকজন আমাকে মারপিট করে ওর সাথে প্রেম আছে বলতে বলেছে। বিয়েতে রাজি হইনি জন্য সবাই আমাকে অনেক নির্যাতন করে। শামীম জানান, আমি কিছুই জানিনা। হঠাৎ করে তারা এসে আমার গলায় বটি ধরে তুলে নিয়ে যায়। আর মারপিট করে বিয়েতে রাজি করায়।

    এ ব্যাপারে তারাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য সামছুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে তুলে আনতে বলিনি। আর ছেলে ও মেয়ের পরিবারের সাথে সমঝোতা করেই এ বিয়ে দেয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে কেন দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো আর কাগজ দেখিনি তাদের বয়স হয়েছে কিনা। তারাপুর ইউনিয়নের কাজী আব্দুল হাই বলেন, আমার কাছে কাগজ আছে তারা প্রাপ্তবয়স্ক। তবে, কি কাগজ আছে দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে রাজি হননি।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান বলেন, বাল্যবিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে কাজীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম