• শিরোনাম


    সুন্দরগঞ্জে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের মানবেতর জীবনযাপন

    জাহিদ হাসান জীবন , সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ | ০৯ নভেম্বর ২০২০ | ৫:৪১ অপরাহ্ণ

    সুন্দরগঞ্জে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের মানবেতর জীবনযাপন

    ৬৩ বয়সের মনোয়ার বেওয়া। স্বামীকে হারিয়েছেন প্রায় ২০ বছর আগে। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানকে নিয়েই মনোয়ারা বেওয়ার সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন এ নারী। অন্যর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তিন জনের সংসার। তবে দুই ছেলে সন্তান থাকলেও তারা না থাকার সমান। বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী হওয়ায় সব দায়িত্ব একাই সামলান মনোয়ারা বেগম। দুই ছেলের জন্য তিন বেলা ডাল-ভাত জোগাতেই বৃদ্ধ বয়সে অন্যর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয় মনোয়ারা বেওয়াকে। যদিও এ দুই সন্তানকে আগলে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পান এ নারী। তবুও অসহায় বৃদ্ধ মনোয়ারা বেওয়ার ভাগ্যে জোটেনি কোন ভাতার কার্ড। এমনকি প্রতিবন্ধী দুই সন্তানদের কপালেও জোটেনি কোন প্রতিবন্ধী ভাতা। এ বৃদ্ধার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচীয়া মীরগঞ্জ গ্রামের। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের স্ত্রী।

    মনোয়ারা বেওয়ার ঘরের চালায় অসংখ্য ছিদ্র বর্ষা এলে চাল বেয়ে পানি পড়ে ঘরে। ঘরের বেড়া-টাটিও ভাঙাচোরা। একটা ছাতা আছে সেটাও পলিথিন আর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বানানো। আর অসুখ হলে তো শুধু আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।
    তিনি একটা বয়ষ্ক বা বিধবা ভাতা কার্ড পাওয়ার জন্য ঘুরেছেন অনেকের দ্বারে দ্বারে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করলেও মিলেনি ভাতা কার্ড। এবার নিজের কথা ছেড়ে তার প্রতিবন্ধী দুই সন্তান মোস্তফা (২৮) ও মোখলেছারের (২৪) নামে ভাতা পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মনোয়ার বেওয়া।
    মনোয়ারা বেওয়া আকুতি নিয়ে বলেন, আমার তো কপালে জুটলো না কোনো ভাতা। আর বাঁচবো কতদিন? তাই এখন আর নিজের কথা চিন্তা করি না। আমার মৃত্যুর পর সন্তানরা কিভাবে চলবে। যদি সরকারিভাবে তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে হয়তো তারা দু’মুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে পারতো। তাই আমার এই শেষ সময়ে একটাই দাবি, আমার মৃত্যুর আগেই যেন আমার প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের নামে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারবো সন্তানরা একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারছে। বেঁচে থাকতে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় দেখে যেতে পারলে ওপারে ভালো থাকতে পারবো নিজে!



    এ ব্যাপারে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম দায়সারা বক্তব্যে বলেন, প্রয়োজনের চাহিদায় ভাতা কার্ড কম পাই। তাই ওই পরিবারকে দিতে পারেনি।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম