• শিরোনাম


    সুন্দরগঞ্জে তৈরি হচ্ছে ডালের বড়া, ফিরছে আর্থিক স্বচ্ছলতা

    রিপোর্ট: জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ | ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:২১ অপরাহ্ণ

    সুন্দরগঞ্জে তৈরি হচ্ছে ডালের বড়া, ফিরছে আর্থিক স্বচ্ছলতা

    বাহিরে কনকনে শীত পরছে এরই মধ্যে ভোর রাতেই জেগে ওঠে পাড়াটি। পরিবারের সকলেই হাত লাগায় বড়া তৈরির কাজে;কেউ যাঁতায় ডালের গা থেকে ছাল ছড়ায়, কেউ ডাল ধুয়ে পরিষ্কার করে, কেউ শিলপাটায় কেউ ঢেঁকিতে ডাল গুঁড়া করে, আবার কেউ চাল-ডাল একসাথে গুলিয়ে বড়া তৈরি করে।

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ১ নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত ফলগাছা গ্রামের সেনপাড়া। এ গ্রামের অধিকাংশ হিন্দু পরিবারের লোকজন এই ডালের বড়া তৈরি করেন। এই ডালের বড়া সুস্বাদু এবং চাহিদাও খুব। গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখার ফাঁকে ডালের বড়া তৈরিতে পিতা মাতাকে সহযোগিতা করে থাকে। এটা তাদের পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম একটি উৎস।



    অর্চনা রাণী ও কমলি রাণী জানান, ডালের বড়ার উপকরণও খুব একটা বেশি নয়। প্রথমে ঠাকুরি বা মাষ কলাইয়ের ডাল গুড়ো করতে হয়। তারপর ডালে কালো জিরা মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটে মিশিয়ে নিতে হয়। তারপর তৈরি হয় ডালের বড়া।

    এরপর চড়া রোদে পরিষ্কার পুরনো ঢেউ টিন বা কাপড় বিছিয়ে সব উপকরণ মেশানো ডালের মণ্ড হাতের মুষ্ঠিতে চেপে চেপে বিশেষ কায়দায় তার উপরে রাখতে হয়। নির্দিষ্ট আকারের বড়াগুলো তখন দেখতেও অনেক সুন্দর লাগে। সবশেষে রোদে শুকিয়ে তৈরি হয় ডালের বড়া।

    অমল চন্দ্র বলেন, অক্টোবর মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে ডালের বড়া তৈরির কাজ। তিনি বলেন, এটা খুব খাটনির কাজ, যাঁতায় ডালের ছাল ছড়ানোর পর বড়া তৈরি করে রোদে শুকিয়ে ঝনঝনা করতে প্রায় ৩/৪ দিন লাগে। এরপরই বড়া বাজারে পাইকারি বা খুচরা বিক্রি করা হয়।

    অনিল চন্দ্র বলেন, বড়া তৈরি তাদের বাপ দাদার পেশা। ভোর তিনটায় ঘুম থেকে ওঠে বড়া তৈরির কাজ করতে হয়।এ সময়ে প্রচুর চাহিদা আছে এই বড়ার। ঠাকুরি কালাইয়ের দাম এবার অনেক বেড়েছে, আগে ৫০ কেজি বস্তা ছিল ২৬’শ টাকা এখন সেই বস্তার দাম ৪ হাজার টাকা। সে কারণে আগের মতো আর লাভ আসে না।

    কথা হয় মুকুল চন্দ্রের মেয়ে বৃষ্টি রাণীর সাথে।তিনি পড়েন দেবী চৌধুরানী (ডিগ্রি)কলেজে,পীরগাছা। তিনি দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি বড়া তৈরির কাজে বাবা-মাকে সাহায্য করেন।

    তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি পরিবার দিনে ৮/১০কেজি পর্যন্ত এই বড়া তৈরি করতে পারেন। প্রতি কেজি ডালের বড়া তৈরি করতে খরচ পড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। কিন্তু তারা বিক্রি করেন ২০০ টাকা প্রতি কেজি। মৌসুমী এই বড়া বিক্রি করে তাদের প্রত্যেকের পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম