• শিরোনাম


    সিলেট বিআরটিএ অফিস এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠছেন “বিকাশ” নামের এই লোকটি

    সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জুবায়ের, সিলেট প্রতিনিধি। | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:৩২ অপরাহ্ণ

    সিলেট বিআরটিএ অফিস এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য: দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠছেন “বিকাশ” নামের এই লোকটি

    সিলেট বিআরটিএ অফিসের দুর্নীতি চরম আকার ধারন করেছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ ছাড়া মটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না এ অফিসে। জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলকারি শতাধিক আনফিট গাড়িকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়ে থাকে। গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে করতে আসা সাধারন মানুষের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেন বিকাশ নামের এই লোকটি। এ ব্যাপারে কেউ মোটা অংকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানান হয়রানির কথা বলেন তিনি। কখনো নিজেকে কাজে ব্যস্ত দেখান,কখনো আবার মানুষকে নানারকম সমস্যা দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মানুষকে পিছনে হাটান। বিআরটিএ অফিসে বিকাশ নামের এই লোকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
    এ ছাড়াও বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে করতে আসা সাধারন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। ওই সকল সাধারন মানুষের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ফলে দিন দিন সাধারন মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে সিলেট বিআরটিএ অফিসে।
    সিলেট বিআরটিএ অফিসে সরেজমিন অনুসন্ধানকালে মটরযান রেজিস্ট্রেশন করতে আসা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেকটি মটরযান রেজিস্ট্রেশনের সময় সরকারি ফিস ছাড়াও অতিরিক্ত দুই থেকে পাচ হাজার টাকা এবং ক্ষেত্র বিশেষ আরো বেশী টাকা হাতিয়ে নেন এই বিকাশ নামের এই লোকটি। অফিসের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল কর্মচারী ওই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত। তারা সিন্ডিকেট করে লাখ লাখ টাকা অবাধে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অফিসের বাইরের গাড়ীর শো-রুমের লোকজনও এ বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। সিলেট
    জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভদ্রলোক আওয়ার কন্ঠ ২৪ এর সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে তিনি তার একটি লাইসেন্স মেয়াদ বাড়ানো এবং নাম সংশোধনের জন্য সিলেট বিআরটিএ অফিসে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হলেও বিভিন্ন অযুহাতে সেটা নিয়ে তালবাহানা করা হয়। ধাপে ধাপে তিনি ৯০০০ টাকা দেন। তারপর বিকাশ বাবুর কাছে কল দিলে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। নিজেকে লুকায়িত করতে নিজের ফোন সুইচ অফ করে রাখেন। ভদ্রলোককে সিলেট বিআরটিএ অফিসে আসার কথা বললে তিনি আসেন ঠিকই,কিন্তু বিকাশ বাবু সেখানে অনুপস্থিত থাকেন। অবশেষে ভদ্রলোক বললেন, বাংলাদেশ দূর্নীতির দেশ। আমি সরকারি চাকুরীজীবি হয়েও আজ ধাপে ধাপে প্রতারণার ফাদে পড়েছি,সাধারণ মানুষ তো ফাদ-ই চিনবে না।
    বিকাশ বাবুর নামে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে,তিনি সিলেট বি আরটিএ অফিসের দালাল চক্রের সাথে যুক্ত। দুদক এবং সিলেট বি আরটিএ অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলা হয়েছে যে,বিকাশ বাবুর এসব কর্মকান্ডের জন্য যেন দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করা হয়।

    Facebook Comments Box



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম