• শিরোনাম


    সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হিসাব রক্ষণ অফিসে পেনশনের টাকা তুলতে ঘুষবাণিজ্যের শিকার চাকুরীজীবি!

    সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জুবায়ের, সিলেট জেলা প্রতিনিধি। | ০৩ মার্চ ২০২০ | ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

    সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হিসাব রক্ষণ অফিসে পেনশনের টাকা তুলতে ঘুষবাণিজ্যের শিকার চাকুরীজীবি!

    “সাদা পাথর? নামটি শুনলেই মনে পড়ে যায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের কথা। সাদা পাথরের রাজ্যে সাদা মনের মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া গেলো না। সাদা পাথরের রাজ্যে একজন ঘুষখোরের কাছে হয়রানির শিকার হয়েছেন পেনশনে আসা একজন সরকারী চাকুরীজীবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চাকুরীজীবি বলেন যে, আমি পেনশনে আসার আগে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সরকারি বিধি মোতাবেক জমা দেই। তারপর সেটা সিলেট সিভিল সার্জন অফিস থেকে সাক্ষরিত করে আমার নিজ কর্মস্হল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। তারপর হয়রানির শিকার এই চাকুরীজীবিকে ডাকা হয় সেখানে আসতে। প্রথমদিন এসে তিনি অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র জমা দেন এবং প্রয়োজনীয় কিছু সাক্ষর করে দিয়ে চলে যান। তারপর আরেকদিন তাকে ডাকা হয়,তিনি তার শেষ সম্বল পেনশনের তাড়নায় ছুটে যান আবারো,ঠিক সেদিন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত অডিটর মোঃ আব্দুর রশীদ তাকে জিজ্ঞেস করেন যে আপনি এতো টাকা পেনশন পাবেন? অডিটের তো কিছু খরছ বহন করতে হবে আপনাকে,এবং সেই সাথে পেনশনের বইটিও নিতে গেলে টাকা দিতে হবে কেননা সেই বই গুলো আমরা ঢাকা থেকে নিয়ে আসি। তিনি আরোও বলেন যে, আপনি প্রতি মাসে পেনশন আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবেন। হতাশায় পেনশনভোগী চাকুরীজীবি তখন কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতালের হেড ক্লার্ক/ ক্যাশিয়ার মোঃ কাসেম সাহেবকে বিষয়টি জানিয়ে রাখেন। প্রতি উত্তরে কাসেম সাহেব বলেন যে, অডিটর আব্দুর রশীদ ঘুষখোর হিসেবে চিন্হিত, তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতেই হবে। আজ ০২/০৩/২০২০ ইং রোজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মোঃ কাসেম সাহেব সেই চাকুরীজীবিকে কল করে বলেন যে আপনি আসেন কোম্পানীগঞ্জে, আপনার পেনশনের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত, আপনি আশা মাত্রই কাজ হয়ে যাবে। তিনি ছুটে যান কোম্পানীগঞ্জে,সেখান যাওয়ার পর মোঃ কাসেম সাহেব তাকে নিয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে যান। সেখান থেকে ব্যাংকে যান,ব্যাংকে গিয়ে পেনশনের কাউন্ট করা মোটা অংকের টাকা সেই পেনশন পাওয়া চাকুরীজীবির একাউন্টে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তারপর আনুমানিক বিশ/ত্রিশ হাজার খুচরা টাকা গুলো তিনি ক্যাশে দেয়ার কথা বলেন ব্যাংকের কর্মকর্তাকে। সেই খুচরা টাকাগুলো সাথে নিয়ে সেই চাকুরীজীবিকে সাথে করে একটা দোকানের নির্জন রুমে বসেন কাসেম সাহেব। তারপর মোঃ কাসেম সাহেব বলেন যে, এই নিন আপনার টাকা,এখন আপনি বিভিন্ন খাতের টাকাগুলো আমার হাতে দিয়ে দিন। কাসেম সাহেব বলেন যে,অডিটর আব্দুর রশীদকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে,সেখানে কম্পিউটার অপারেটর একটা মেয়েকে একহাজার টাকা দিতে হবে এবং আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে সেই চাকুরীজীবি তখন নগদ এগারো হাজার টাকা কাসেম সাহেবের হাতে তোলে দেন। তারপর তিনি টাকা নিয়ে চলে যান। পেনশনে আসা সেই চাকুরীজীবি আওয়ারকন্ঠ২৪ কে জানান যে,এই কাসেম সাহেব কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতালে থাকা আরো অনেক ছোট কর্মচারীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেন। তিনি আরো বলেন, কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মোঃ কাসেম এবং কোম্পানীগঞ্জ হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর মোঃ আব্দুর রশীদের ঘুষ বাণিজ্যের শিকার আমি হয়েছি,আমার মতো যেন আর কাউকে এভাবে হয়রানির শিকার না করা হয় সেব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন চাকুরীজীবি ও বলেন যে,তাকেও হিসাব রক্ষণ অফিসে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
    সমাজে ঘুষ বাণিজ্যের এই অবস্থা থেকে পেনশনে যাওয়া চাকুরীজীবিরা রেহাই পাবে কবে? সরকারি চাকুরী করে অন্য আরেকজন সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ঘুষ খেয়ে তাদের এই অন্যায়ের দিন শেষ হবে কবে?
    পেনশনে আসা এই চাকুরীজীবির জোর দাবী যে,এই অভিযোগের ব্যাপারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে যেন তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম