• শিরোনাম


    সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মানে ইসলামের শিক্ষা [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    লেখক: মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া- মজলিশপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২১ জানুয়ারি ২০২৩ | ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

    সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মানে ইসলামের শিক্ষা  [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    পৃথিবীতে মানুষের জীবন পারিবারিক ও সামাজিক। পরিবার ও সমাজ থেকে আলাদা হয়ে একাকী বসবাস করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি সদস্যদেরই কামনা হল সুখ-শান্তিতে বসবাস করা, কারও থেকে নিপীড়ন ও রূঢ়তার মুখোমুখি না হওয়া। নিজের যাবতীয় অধিকার ও সমাজ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে। ঝগড়া-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-কলহ, মারামারি, কাটাকাটি, জুলুম-অন্যায় এখন সমাজের সাধারণ চরিত্র। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে পরিত্রাণ লাভ সকলের আন্তরিক কামনা হলেও এসব থেকে মুক্ত হতে পারছে না। কারণ, এসবের অন্তর্নিহিত উৎস সম্পর্কে অনেকেই অনবগত। যেসব কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় সেগুলো কেউ খতিয়ে দেখছে না। অথচ ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন-বিধান ও দর্শন হিসেবে মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন সুখময় ও শান্তিপূর্ণ করার অপূর্ব দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছে। যেগুলো পালন করে চললে সমাজে শান্তির শীতল বায়ু প্রবাহিত হবে।

    আমরা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করি। সমাজই আমাদের জীবনের প্রথম বিচরণ ক্ষেত্র। আর মূলত ব্যক্তি চরিত্রই সমাজ কল্যাণের প্রথম সোপান। ইসলাম সমাজ গঠনে ব্যক্তির সৎ চরিত্র, সৎ স্বভাব ও সৌজন্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যক্তির সামাজিক সম্পর্ক ও আচরণ যত উন্নত হবে, সমাজ তত শান্তিময় ও সৌহার্দপূর্ণ হবে।



    ব্যক্তিচরিত্রের অন্যতম হল আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টতা এবং নমনীয়তা প্রদর্শন করা। এসবের মধ্যে নিহিত রয়েছে সামাজিক সৌজন্যবোধের পরিচয়। হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেছেন ‘তোমরা অর্থ সম্পদ দ্বারা মানুষকে খুশি করতে পারবে না, বরং তাদের খুশি করতে সক্ষম হবে সহাস্য চেহারা এবং উত্তম চরিত্র দ্বারা।’

    তিনি পরিপক্ব ঈমানবিশিষ্ট মুমিনের মাপকাঠি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
    ‘মুমিনদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চরিত্রবান।’

    ইসলামে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভ্রাতৃত্ববোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কেননা, প্রত্যেক মুসলিম পরস্পর ভাই ভাই। মানবিক মূল্যবোধে একে অপরের জন্য সমানভাবে সহমর্মিতায় আবদ্ধ।
    ইসলাম তাই সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে,
    ‘মুমিনগণ তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে- যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।

    অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
    ‘মুমিন মুমিনের জন্য দেয়ালের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে।’
    এরপর তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো প্রবিষ্ট করে দেখালেন।
    আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
    ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য ঐ জিনিস পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’
    ‘তোমরা সম্পর্কচ্ছেদ করো না, এক অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না; তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও।’

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
    ‘মুসলিম সে, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে।’

    আমাদের সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে অবশ্যই সদাচার, নম্র ব্যবহার, সম্মান প্রদর্শন, পরনিন্দা পরিহার, সালাম, মুসাফাহা, সেবা ও সৎ-পরামর্শ এবং পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও মহানুভব ইত্যাদি সদগুণাবলির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যেন আমরা সামাজিক-জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সৎ কর্মকাণ্ডের দ্বারা একে অপরের প্রতি মহানুভবতা, সহনশীলতা ও উদারতা এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে এক পরিপূর্ণ ভালবাসাময় জগত গড়ে তুলতে পারি।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন। আমীন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম