• শিরোনাম


    সাউথ আফ্রিকায় নিহত তরুণের বাড়ি কসবার বল্লভপুর গ্রামে

    আওয়ার কণ্ঠ টুয়েন্টি ফোর নিউজ ডেস্ক: | ২১ আগস্ট ২০২০ | ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

    সাউথ আফ্রিকায় নিহত তরুণের বাড়ি কসবার বল্লভপুর গ্রামে

    দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত তানভীর আহামেদ মুকুলের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের বল্লভপুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও স্বজনরা।

    নিহতের স্বজনরা জানান, পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান বল্লভপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাঈমুল হকের ছোট ছেলে তানভীর আহামেদ মুকুল। ২০১৩ সালে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। মাইশা ও তাইবা নামে তার দুটি মেয়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে দেশে আসেন তানভীর। এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্যরাইটিজ ব্যবসার প্রসার ঘটান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তানভীরের মৃত্যুর সংবাদ পায় পরিবার। এরপর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।



    সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তানভীরের স্ত্রী উম্মে ফারজানা আক্তার। স্বামীর মরদেহ দেখার জন্য বারবার আর্তনাদ করে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

    নিহতের বড় ভাই মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তানভীর সবার ছোট। সে ছিল সবার আদরের। কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হাতে তাকে এভাবে জীবন দিতে হবে কখনো ভাবিনি। আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।নিহত তানভীর আহমেদ মুকুলের মৃত্যুতে তার পুরো এলাকায় বিশেষত তার স্কুল কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ও আলীমউদ্দিন জোবেদা অনার্স কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অকাল মৃত্যুর জন্য সবাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছে।তার অকাল মৃত্যুতে কবি ও গবেষক এস এম শাহনূর তাঁর ফেসবুক ওয়ালে একটি আবেগঘন পোষ্ট দিয়েছেন।পোস্টটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

    “আমি তো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকুল এ ই ঝরে যায়!!
    https://www.facebook.com/mitu.tanbir.3
    আমাদের স্নেহের ছোট তানভীর আহমেদ মুকুল গতকাল চলে গেল না ফেরার দেশে।সময়ে অসময়ে মেসেঞ্জারে ফোন করত।আমার লেখার প্রশংসা করত।মুকুল প্রায়ই বলত,”ভাই কোন লেখা যে কোনো জায়গায় যার ওয়ালেই থাকুক আমি একবার পড়েই বলতে পারি এটি আপনার লেখা”। কী অসাধারণ মস্তিষ্ক ও ইন্দ্রিয় অনুভূতি ছিল মুকুলের! কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পুর্তির অনুষ্ঠানে ১লক্ষ টাকা অনুদানের কথা বলেছিল মুকুল।মুকুল বলত,”ভাই এমন একটি স্মরণিকা প্রকাশ করবেন এটি পড়ে আগামী প্রজন্ম যেন অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারে।” কী প্রখর আর বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাশক্তি ছিল ছেলেটির! আমি মুকুলের বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করছি।
    সেই সাথে সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ এম্বাসীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও দ্রুত মরদেহ স্বজনদের নিকট ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।”

    সাউথ আফ্রিকার north-west জিরারাষ্ট্র নামক জায়গায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার দ্ধারা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম