• শিরোনাম


    “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন” সঠিক জীবনের দিক নির্দেশনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে

    বুক রিভিউ লিখেছেন: বিনয় মন্ডল | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২:৫৪ অপরাহ্ণ

    “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন” সঠিক জীবনের দিক নির্দেশনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে

    গ্রন্থ: “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন”
    লেখকঃ বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সল, ধরণঃ আত্ম উন্নয়নমূলক গ্রন্থ।
    প্রকাশকঃ পাণ্ডুলিপি প্রকাশন, একুশে বইমেলা/২০, ৬ ফর্মা,
    মূল্য-২৫০ টাকা।
    .
    গ্রন্থে লেখক উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন ইংরেজীতে একটা কথা আছে-“বেটার লেট দেন নেভার”। অর্থাৎ দেরীতে হলেও শিখা ভালো। লেখক তাঁর বাস্তব জীবন অভিজ্ঞতার আলোকে “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন” গ্রন্থটি রচনা করেছেন। যেখানে লেখক প্রতিটি প্রবন্ধে ভূমিকা থেকে উপসংহার পর্যন্ত ধাপে ধাপে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন। যা পাঠককে সঠিক জীবনের দিক নির্দেশনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং ডুয়েট জীবনের সফলতার উচ্চ শিখরে আরহনের পথ দেখাবে বলে বিশ্বাস করি। গ্রন্থটির প্রতিটি প্রবন্ধে ভাব ও ভাষায় রয়েছে আগাম ভাবনা। তাঁর গ্রন্থ “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন” পাঠ করে আমার তাই মনে হয়েছে। পূর্বে তাঁর বহু লেখা পাঠে মুগ্ধ হয়েছি। তিনি প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে ইতোমধ্যে দেশ ও বিদেশে খ্যাতি কুরিয়েছেন। কিন্তু পুনরায় তাঁর “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন” গ্রন্থ পাঠ করে মনে হয়েছে তিনি লেখক হবার পথকে আরো সহজ ও সংক্ষিপ্ত করে নিয়ে এসেছেন। তাঁকে তাই অভিবাদন জানাতেই হয়। অভিনন্দন জানাই লেখককে।
    .
    লেখকের গ্রন্থে ছোট/বড় প্রবন্ধের সমন্বয়ে সর্বমোট ২০ টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। আশা এক বিস্ময়কর শক্তি প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন-“আপনি কি জানেন না, অদেখার একটি জগৎ আছে?/সে জগতটার অস্তিত্ব তো এই জগতের চেয়ে বেশী সমান্তরল/আপনি কি ভেবে দেখেছেন আপনি কতটুকু ক্ষুদ্র/শিগ্রই নিজের জন্য বেছে নিন ভালো কিছু”। প্রবন্ধে লেখক প্রতিটি লাইনে ইহজগত ও পরজগতে আলোর পথে থেকে-পথ চলার একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন মানুষ তার চার পাশের পরিবেশ দ্বারা খুব বেশী প্রভাবিত/যারা এই চলমান অন্যায়-অস্থিরতা-হত্যা ও খুনের পৃথিবীর মাঝেও অদম্য আশাবাদের সুতোয় মালা গাঁথে-তখন আপনিও আশাবাদী হবেন আপনার জীবন নিয়ে। আশাবাদই লেখকের এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধের মূল কথা।
    .
    “আত্ম বিশ্বাসীরা প্রকৃত শক্তিমান”- গ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধে কি সুন্দর করে নামকরণে উপস্থাপন করেছেন। কথায় আছে সকাল দেখে বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। লেখক প্রবন্ধে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া, সতর্ক হওয়ার শিক্ষা, উদ্যম সংযত করা, উদ্যেশ্য ঠিক করা, ভুল সামলে ওঠা প্রভৃতি প্রতিটি স্তরে স্তরে সুন্দর ও সাবলিলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর যাদুকরী শক্তি দিয়ে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন-মেঘ কেটে গেলে ঝলমলে রোদ্দুর আসবেই।
    .
    “বিশ্বাসীরাই প্রকৃত প্রগতিশীল”-তিনি আবার আশাবাদী হয়ে উঠে আশান্বিত করেছেন তাঁর পাঠককে। তাঁর লেখায় তিনি বলেছেন-চরিত্র মানসিকতার পরিচায়ক। মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় চরিত্রের বিচারে। উন্নত চরিত্রের লোকই সমাজের প্রিয় পাত্র হয়ে থাকে। বিশ্বাস চরিত্র নির্ধারণ করে কিংবা অবিশ্বাসীরা ভীরু হয়। সৃষ্টি কর্তাকে জানা ও তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্য করাই মানুষের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য। কি চমৎকার পংক্তিমালায় লেখক মানব মুক্তির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
    .
    “হতাশা একটি শব্দ মাত্র”-এই প্রবন্ধ পাঠে বোঝা যায় লেখক গভীরে গিয়ে মানব মুক্তির জন্য সাধনা করেছেন। হতাশা, দু:খ ও প্রেমের সাধনায় এভাবেই সফলতা দেখান;- “ ..বস্তুত সৃষ্টি কর্তাই প্রকৃত বিষয়টা জানেন আর তোমরা জানো না (সুরা আল-বাকার: ২১৬)। সুতারং বিশ্বাসী ব্যক্তি কোন ভাবেই হতাশ হতে পারে না। লেখকের সাথে পাঠকের একাত্মতার মধ্যেই রয়েছে গ্রন্থের সার্থকতা।
    .
    “প্রতিশ্রুতি পালনে শক্ত হোন”: লেখক সুরা আন-নাহল:৯১ এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন “তোমরা যখন পরস্পর সৃষ্টি কর্তার নামে কোন ওয়াদা কর তা পূর্ণ কর”।ইসলামে ওয়াদা পূরনের বিষয়টি অত্যাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাঁর প্রবন্ধে মানুষের পারস্পরিক ওয়াদা, অঙ্গীকার, চুক্তি প্রভৃতি পালনে যত্মবান হওয়ার পরামর্শ রয়েছে। তিনি মানুষের ব্যথা ও বেদনায় একাত্মতা প্রকাশ করার চেষ্টা করে পরজাগতিক সুখের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিছুটা সার্থকও হয়েছেন।
    .
    “সফলতার থ্রি ডাইমেনশন, বুদ্ধিমত্তা ও অনুভূতি, লাভ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, মনুষ্য চর্চা ও নীতি সৌন্দরয, শিষ্টাচার আয়ত্ত করুন, ভার্চুয়াল অ্যাসাইনমেন্ট, সেরোটনিন ভালোবাসা, অর্জন করুন প্রকৃত সম্পদ, ম্যাজিক পার্সোনালিটি, এক গর্তে পা দুবার নয়, সব অহংকার মিথ্যে শুদ্ধ আত্মা সফল, অতিথিকে ভালোবাসুন এবং নিজেকে দেখি নিজের চোখে এই ছোট ছোট প্রবন্ধে লেখক মানব মুক্তির জয়গান গেয়েছেন। তিনি প্রতিটি পংঙতিমালায় বোঝাতে চেয়ছে দু:খ ও হতাশার উদ্ধে কিভাবে মানব মুক্তি লাভ করে প্রকৃত সুখী হওয়া যায়। লেখকের আত্ম উন্নয়ন মূলক গ্রন্থমালা পাঠে মনে হলো একটি ব্যতিক্রম সংযোগ। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নিজস্ব ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাস কাজে লাগিয়ে নিজেকে সফল করা যায়। আমরা নিজেরে জন্য প্রার্থনা করে নিজেকে বদলে দিতে পারি। গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা পাঠককে বিশ্বাসের পিলার নির্মাণে সহযোগিতা করবে। আমি বিশ্বাস করি সফলার থ্রি ডায়মেনশন গ্রন্থটি পাঠে জীবনের অনেক ঝড়-ঝঞ্জা উৎরে পাঠক নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। এভাবে একের পর এক লেখায় তাঁর অস্তিত্বের প্রমান রেখেছেন। যুথবদ্ধ করেছেন সবাইকে।
    .
    পরিশেষে লেখক বাক্যের চমৎকারিত্বে ম্যাজিক রিয়েলিজম আরো অনেক দেখিয়েছেন । গ্রন্থ পাঠে আরো অনেক কিছু জানা যাবে। গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি। প্রকাশনা ও সম্পাদনার পাশাপাশি আরো অসংখ্য লেখা চাই বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সলের ক্ষুরধার লেখনী থেকে।

     



    লেখক: বিনয় মন্ডল,মতিঝিল, ঢাকা।

    মোবাইল: ০১৭১৬-১১৯০০১.

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম