• শিরোনাম


    সদকাতুল ফিতরের আহকাম [] মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ১৭ মে ২০২০ | ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ

    সদকাতুল ফিতরের আহকাম [] মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    সদকাতুল ফিতর আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকেও ঈদের খুশিতে শামিল করে নেয়া হয়। অপরদিকে সদকাতুল ফিতর হচ্ছে রোযার যাকাতস্বরূপ। যাকাত যেমন সম্পদকে পবিত্র করে, তেমনি ফিতরাও রোযা রাখার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ করে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতরের বিধান দান করেছেন রোযাকে অশ্লীল ও অর্থহীন কথা-কাজের অনিষ্ট থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা হিসেবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)
    নিম্নে সদকাতুল ফিতরের আহকাম সবিস্তার তুলে ধরা হলো।
    ** যার মালিকানায় গৃহসামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সে পরিমাণ টাকা থাকে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। উল্লেখ্য, বর্তমানে স্বর্ণের বাজারমূল্য অধিক হওয়ায় গরীবদের উপকারার্থে রূপার মূল্যে যাকাতের নেসাব হিসাব করা অধিক সমীচীন।

    ** সদকাতুল ফিতরের মাসায়েল যাকাতের অনুরূপ হলেও উভয়ের মাঝে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান:-
    ১.যাকাতের জন্য বর্ধনশীল সম্পদ হওয়া শর্ত। কিন্তু ফিতরার জন্য তা শর্ত নয়।। ২.প্রয়োজনাতিরিক্ত গৃহসামগ্রী এবং যে জায়গা-জমি ব্যবসার জন্য নয়, তা যাকাতের নেসাবে গণ্য হবে না। কিন্তু এগুলোকে ফিতরার নেসাবে গণ্য করা হবে।।
    ৩.যাকাতের জন্য এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত, কিন্তু ফিতরার জন্য তা শর্ত নয়।। ৪.যাকাতের নেসাব ধ্বংস হয়ে গেলে যাকাত মাফ হয়ে যায়। কিন্তু ফিতরার নেসাব ধ্বংস হয়ে গেলেও তা যিম্মা থেকে বাতিল হয় না।।
    ** ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে ফিতরা ওয়াজিব হয়। তাই সুবহে সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার ফিতরা দেয়া আবশ্যক নয়। আর ধনী ব্যক্তির সন্তান সুবহে সাদিকের পূর্বে জন্মগ্রহণ করলে তারও ফিতরা দিতে হবে।।
    ** নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি সফর,অসুস্থতা,অবহেলা ইত্যাদি কারণে রোযা নাও রাখে, তবুও তার উপর ফিতরা ওয়াজিব।।



    ** গম,গমের আটা,যব,যবের আটা,খেজুর,কিশমিশ,পনির বা কোন একটির মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটা দ্বারা দিলে অর্ধ সা’ তথা ১কেজি ৬৩৬গ্রাম। আর যব,যবের আটা, খেজুর,পনির, কিশমিশ ইত্যাদি দ্বারা দিলে ১সা’ তথা ৩কেজি ২৭২গ্রাম দিতে হবে। চাল বা অন্য খাদ্যসামগ্রী দ্বারা দিলে উপরোল্লিখিত কোন একটির মূল্য হিসেবে দিতে হবে।
    ** এ বছর (১৪৪১ হি. ২০২০খৃ.) জনপ্রতি সদকায়ে ফিতর সর্বনিম্ন ৭০টাকা।।
    ** দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম। আর অন্যান্য সময় মূল্য দ্বারা আদায় করা উত্তম।।
    ** ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। ঈদের দিনের আগে দেয়াও জায়েয। ঈদের দিন না দিলেও পরবর্তীতে আদায় করতেই হবে।।

    ** একজনের ফিতরা এক ফকিরকে দেয়া উত্তম। তবে একাধিক ব্যক্তিকে দেয়াও জায়েয।
    ** নিজের ও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব৷ স্ত্রী ও বালেগ সন্তানরা নিজেরাই আদায় করবে।
    ** যাদেরকে যাকাত দেয়া যায়, তাদেরকে সদকাতুল ফিতর দেয়া যায়।
    ** যে ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পত্তি রয়েছে যার মূল্য নেসাব পরিমাণ, তার জন্য ফিতরা নেয়া জায়েয নয়।
    ** বাড়ির কাজের লোককে ফিতরা দিতে পারবে, যদি সে নেসাবের মালিক না হয়। তবে পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া জায়েয নয়।।

    তথ্যসূত্র:
    * বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৫
    * শরহে বিকায়া ১/২৪১
    * আদদুররুল মুখতার ৩/৩১৪
    * ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪২৩
    * ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/১৯৬
    * ফাতাওয়া হক্কানিয়া ৪/৩৯
    * ফাতওয়া জামেয়া ৫/২২০
    * দারসুল ফিকহ ১/১৪১
    * ফাতাওয়া রাহমানিয়া ২/৫৭
    * কিতাবুল ফাতাওয়া ৩/৩৬৬

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    গবেষক:- আল-ফিকহুল ইসলামী
    শাহবাজপুর,সরাইল,বি-বাড়িয়া।
    ২২ রমজান, ১৪৪১হিজরী।।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম