• শিরোনাম


    সকল পথশিশুদের মুখেই হাসি ফুটুক।

    | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

    সকল পথশিশুদের মুখেই হাসি ফুটুক।

    আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যত্। আজকের শিশুই আগামী দিনে দেশ ও জাতির কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করবে। এরাই নেতৃত্ব দিবে আগামীর বিশ্বকে। এরাই একদিন হয়ে উঠবে কেউ কবি, কেউ সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, লেখক কিংবা চিকিত্সাবিদ। এভাবেই আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবে দেশকে, তাদের ঘাড়েই ন্যস্ত হবে বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্ব। আর এটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা খুবই জরুরি।

    আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছে যাদের জন্মের পরপরই মা-বাবাকে হারাতে হয়। আবার মা-বাবা থাকলেও মা হয় তালাকপ্রাপ্ত কর্মহীন নতুবা বাবা হয় অসচ্ছল অথবা কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অথবা মাদকাসক্ত। আমাদের চারপাশেই এমন হাজারো পরিবার আছে। যাদের পিঠ দেয়ালে আটকে আছে। এসব পরিবারের শিশুরা জীবন রক্ষার তাগিদে অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামে। ভালোভাবে বাঁচার জন্য নয়, একমুঠো খাবারের জন্যই তারা পরিচিত হয়ে ওঠে টোকাই বা পথশিশু হিসেবে। জন্মের পরপরই শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি-রোদের কোনোই পার্থক্য নেই এদের কাছে। সবই তাদের কাছে সমান। এভাবেই দিন যায়, রাত আসে। অপেক্ষা করে একটি প্রভাতের। আবার নতুন করে শুরু হয় তাদের জীবন-সংগ্রাম। যেখানে তাদের সকালটা শুরু হওয়ার কথা ছিল মায়ের উষ্ণ ভালোবাসা আর মজার মজার খাবার দিয়ে অথচ এদের সকাল শুরু হচ্ছে কারো কাছে খাবারের জন্য হাত বাড়িয়ে।



    বাংলাদেশের ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরগুলোতে এমন হাজারো পথশিশু রয়েছে। যাদের বসবাস পথে বা রাস্তায়, রেলস্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে বা খোলা আকাশের নিচে। এরা খাদ্য পায় না, শিক্ষার সুযোগ পায় না, গায়ে অনেক সময় কাপড়ও থাকে না আর থাকলেও তা ব্যবহারের অযোগ্য। এরা পায় না কারো ভালোবাসা কিংবা আদর-সোহাগ।

    একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, চিন্তা করুন বিষয়টি কতো কষ্টের, কতোটা বেদনার, কতোটা মর্মান্তিক। আমি জানি আপনাদের অনেকেই বলবেন যে, এই পথশিশুদের অনেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা প্ররোচিত হয়েই ভিক্ষাবৃত্তিতে লেগে আছে। হ্যাঁ, এরা আমাদেরকে পথে-ঘাটে, যেখানেই পায় সেখানেই বিরক্ত করে, পিছন থেকে জামা টেনে ধরে একমুঠো খাবার বা দু-পাঁচ টাকা আদায়ের জন্য। আচ্ছা, আপনারাই বলেন তো, ‘কেউ কি কখনো ইচ্ছা করে এমন লাইনে আসে?’ না, কারো মা-বাবার সক্ষমতা থাকলে কেউ এমন পথে আসে না। তারা আসলে পরিস্থিতির শিকার হয়েই বাঁচার তাগিদে রাস্তায় নামে। হয়তো ওরা আমাদেরই একটু বিরক্তই করে, বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় কিন্তু আমরা কি তাদেরকে কখনো নিজের করে ভেবেছি? মনে করুন, আমার কিংবা আপনার সন্তান বা ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজনের কেউ একজন পথশিশু। যদি এমন হতো যে, আপনার সন্তানের বা ভাই-বোনের যে সময়ে হাতে স্কুলের ব্যাগ থাকতো ঠিক তার বিপরীতে আজ তার হাতই ছুটে যাচ্ছে কোনো পথচারীর দিকে দৃশ্যমান পাঁজরের দেহটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অথবা আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ একজন অসুস্থ তাকেই বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে। আপনি শিহরিত হবেন প্রতিক্ষণে। আপনার ভেতরকার মনটিতে নতুন করে প্রভাত উদিত হবে ওদের জন্য।

    বিশ্বাস করুন, পৃথিবীতে কোনো শিশুই পথশিশু হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, পৃথিবীর নির্মম রূপ তাদেরকে পথশিশু বানিয়ে দেয়। আসুন না আমরা এসব শিশুদের নিজের সন্তান বা ভাই-বোনের মতোই আপন করে নেই, একটু ভালোবাসি। আমার-আপনার একটু ভালোবাসাই এদের মুখে এনে দিবে এক চিলতে হাসি যা কিনা পৃথিবীর সমস্ত সুখকেও হার মানাতে সক্ষম। এসব শিশুদের ভালোবাসলে আমার-আপনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না। আপনি দিনে অনেক খাবার, টাকা নিজের অজান্তেই নষ্ট করে দেন, আপনি চাইলে সেগুলো এসব শিশুদের দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন। এতে করে আপনি নিঃশেষ হয়ে যাবেন না। বছরের বিশেষ দিনগুলোতে যেমন ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখে আপনি ইচ্ছা করলেই এদের সঙ্গে আনন্দ শেয়ার করতে পারেন এদের কিছু নতুন কাপড় দিয়ে। এসব কাজ মোটেও আমাদের পক্ষে কঠিন কিছু না। আমরা চাইলেই কিন্তু এসব করতে পারি। আসুন না! আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে এদের ভালোবাসি, আপন ভেবে কাছে টেনে নেই। আসুন পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলি। বেশি কিছু নয়, প্রয়োজন আপনার আমার একটু স্বদিচ্ছা।

    n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম