• শিরোনাম


    সংলাপ নিয়ে বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা, সরকার চাইলেই সফল হতে পারে: সিরাজুল ইসলাম

    | ০১ নভেম্বর ২০১৮ | ২:৩৬ অপরাহ্ণ

    সংলাপ নিয়ে বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা, সরকার চাইলেই সফল হতে পারে: সিরাজুল ইসলাম

    সরকার চাইলেই সংলাপ সফল হতে পারে- এমন মন্তব্য করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকার সংলাপে বসতে চেয়েছে এটা খুবই ভালো সংবাদ। কেননা এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই, আলোচনায় বসার সুযোগ নেই। তবে শেষ পর্যন্ত যেহেতু তারা আলোচনা বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক ভাবে দেখতে হবে। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে যুগান্তরের কাছে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। আজ রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংলাপ হওয়ার কথা আছে।

    তিনি বলেন, সংলাপের আয়োজন ইতিবাচক হলেও সংলাপ সফল হবে না ব্যর্থ হবে সেটি নির্ভর করবে সরকারের মানসিকতার ওপর। কারণ বিরোধী দলগুলোর বেশ কিছু দাবি রয়েছে। যে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এসব দাবি থেকে বিরোধীদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাই সংলাপের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে সরকার এসব দাবি কতটা গ্রহণ করতে পারবে তার ওপর। এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপর পক্ষকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখতে হবে, অনড় থাকা যাবে না। আমরা আশা করব এ সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারবে। নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। সেই নির্বাচন অবশ্যই গতবারের (২০১৪ সালের) নির্বাচনের মতো হবে না।



    অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যেহেতু নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে, তাই হাতে আর সময় নেই। যেটুকু সময় আছে সেটুকও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে, সংলাপ যেন সময়ক্ষেপণের জন্য না হয়। আলোচনার নামে যেন কোনো পক্ষই সময়ক্ষেপণ না করে। ইতিপূর্বে যেমনটি হয়েছে তেমনটি হলে সংকট ঘনীভূত হবে। তাই সরকারের দাবি মানার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করতে হলে প্রয়োজনে বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডেকে সেটি করতে হবে। তার জন্য বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। যেহেতু বর্তমান সংসদে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হওয়ারও কথা নয়।

    ইতিবাচক অবস্থার প্রথম পদক্ষেপ: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

    বড় দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আজ রাতে যে সংলাপ হতে যাচ্ছে, তা দেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ। এটি চূড়ান্ত নয়। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায় কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর উপর। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সরকার দৃশ্যমান কী পদক্ষেপ নেবে, উভয় পক্ষ কতটুকু ছাড় দেবে, তা কারও কাছেই পরিষ্কার নয়। ফলে সংলাপের সফলতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা কঠিন। তবে আমার প্রত্যাশা, সংলাপ সফল হোক।

    যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তার মতে, কোনো কারণে সংলাপ ব্যর্থ হলে সংঘাত বাড়বে। দু’পক্ষই কঠোর অবস্থানে চলে যেতে পারে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি করবে।

    মির্জ্জা আজিজ বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা হল দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হোক। এক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষ ৭টি দাবি দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সংসদ বাতিল, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার গঠন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারে বিরোধিতাসহ আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতনৈক্য চরমে রয়েছে। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না, সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য এগুলো দরকার। কিন্তু দুই জোট দুই মেরুতে। এক্ষেত্রে একটি সমঝোতায় আসতে হবে। কিন্তু এসব দাবির মধ্যে সরকার কতটুকু মানবে, তা নিশ্চিত নয়। অপর পক্ষ কতটা ছাড় দেবে, তা-ও বলা যাচ্ছে না। কাজেই এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।

    তিনি বলেন, কোনো ধরনের সমঝোতা না হলে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, এমনিতেই আমাদের বেসরকারি বিনিয়োগের অবস্থা খুবই খারাপ। সেটি আরও নেতিবাচক হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে নানা সময়ে আমাদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে বড় অঙ্কের রফতানি ব্যাহত হয়েছে। এই প্রবণতা আরও বাড়বে। সামগ্রিকভাবে একটি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যাতে সমস্যা গভীর হবে এটি বলা যায়।

    সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে: ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম

    গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংলাপ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার পাশাপাশি রাজনীতির উন্নয়ন সাধনে উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এতেও তিনি সফল হবেন ।
    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত সংলাপ সফল হবে যুগান্তরের কাছে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই জেষ্ঠ্য আইনজীবী। আজ রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপে বসবেন।

    আমীর-উল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে সংলাপ থাকা বাঞ্ছনীয়। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের সংলাপ গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কাজেই সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার যে যৌগিক বন্ধন তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমাদের উন্নয়ন কাঠামো আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে বলে আমি মনে করি।

    তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ প্রতিশ্র“তিশীল। নেতিবাচক রাজনীতি করার অবকাশ এখানে নেই। অতএব আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ, মতামত এবং ভূমিকাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, সংলাপে আমি খুবই আশাবাদী। সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমার বিশ্বাস, দেশের সব উন্নয়নে তারা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    উল্লেখ্য, গত রোববার সংলাপ চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর দুটি চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রাজধানীর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিঠি দুটি পৌঁছে দেয়া হয়। সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় গণভবনে ডেকেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে।

    সংলাপেই সমাধান দেখতে চাই: সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সংলাপেই তার সমাধান দেখতে চান ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা আলোচনার মাধ্যমে দু’পক্ষই অনড় অবস্থান থেকে সরে আসবে।

    কেটে যাবে সব সংশয়, অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে, দূর হবে সব শঙ্কা। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, অতীতে অনেক বড় বড় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হয়েছে। ফলে আজ রাতে অনুষ্ঠেয় সংলাপে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের পথ তৈরি হবে বলে আশাবাদী তারা।

    যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এসব কথা বলেন।
    শেষ পর্যন্ত ফলাফল যাহোক, রাজনীতি অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করে, এমন কর্মসূচি না দেয়ার জন্য তিনি রাজনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ রাতে গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপে বসবেন।

    সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য একে অন্যের পরিপূরক। আমরা মনে করি যে কোনো সমস্যা, সংকট বা রাজনৈতিক ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।

    তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে দুই জোটের মধ্যে আলোচনা হতে যাচ্ছে। এ ধরনের আলোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। আগেও আমরা আলোচনার কথা বলেছি। তাই সংলাপ নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা আশাবাদী।
    তিনি আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে অনেক বড় বড় সংকট সমাধানের পথ আলোচনার মাধ্যমেই মানুষ খুঁজে পেয়েছে। তবে এখানে কোনো ব্যবসায়ীর ভিন্নমত থাকতে পারে। কারণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ ও কর্মসূচির ব্যাপার রয়েছে। ফলে কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।

    তিনি আরও বলেন, সংলাপ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল যাহোক, আমরা চাই রাজনীতি যেন নিজস্ব গতিতে চলে। পাশাপাশি রাজনীতি যেন অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত না করে। তার মতে, রাজনীতি হওয়া উচিত গঠনমূলক ও জনকল্যাণকর।

    মানুষের জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করবে, এমনটা কারও প্রত্যাশা নয়। এ কারণে আমরা চাই সংলাপ সফল হোক। এক প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এখন মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করা হয়।
    অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সব মহল ও দলই একমত। ফলে আগের সেই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, যা জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তা আর মানুষ গ্রহণ করবে না।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম