• শিরোনাম


    শ্বেতী রুগের হোমিও চিকিৎসা [] ডা.মোঃ নজরুল ইসলাম

    ডা.মোঃ নজরুল ইসলাম, বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক- নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৬ এপ্রিল ২০২১ | ৯:২৯ অপরাহ্ণ

    শ্বেতী  রুগের হোমিও চিকিৎসা [] ডা.মোঃ নজরুল ইসলাম

    শ্বেতী বা ধবল রোগের প্রকৃত কারণ সম্বন্ধে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। তবে পারদ ও উপদংশ রোগ এবং স্নায়বিক কারণে এই রোগ উৎপন্ন হয় বলে অনেকে মনে করে, শ্বেত বা ধবল রোগ খুবই অস্বস্তিকর একটি রোগ। এ রোগের কারণে সমাজে অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আমরা সকলেই জানি আমাদের ত্বকের নিচে আছে মেলানিন নামের এক প্রকার হরমোন। যা আমাদের ত্বকের রং নির্ধারণ করে থাকে। এই হরমোনের তারতম্যের কারণেই গায়ের রং ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি ত্বকের কোনো স্থানে এই মেলানিন রোগাক্রান্ত হয় বা যদি এর উৎপাদন কমে যায় বা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ত্বকের ঐ স্থানটি সাদা বা কালো হয়ে যায়। যখন ত্বকের স্বাভাবিক রং থাকে না বা ত্বকের একটি অস্বাভাবিক রং দেখতে পাওয়া যায়। তখন তাকে শ্বেত বা ধবল রোগ বলা হয়। ইংরেজিতে একে ভিটিলিগো বলা হয়। অনেকেই শ্বেত রোগকে কুষ্ঠ রোগ মনে করেন। কিন্তু একদমই ভুল। শ্বেত এবং কুষ্ঠ রোগ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি রোগ। বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যেকোনো বয়সেই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এটা সাদা, কালো এবং বাদামি— সব বর্ণের লোকদের মধ্যেই হতে দেখা যায় এবং বংশগতভাবেও এ রোগ হতে পারে। তবে এটি মোটেই ভয়াবহ রোগ নয়! এটির সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শ্বেত রোগীকে দেখলে আঁতকে ওঠেন অনেকে। এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা বেশিরভাগই মানসিক অবসাদে ভোগেন।

    শ্বেত রোগ কি? ত্বকের মধ্যের মেলানোসাইট কোষে থাকে মেলানিন। যা ত্বকের স্বাভাবিক রঙের ভারসাম্য রক্ষা করে। মেলানিনের ক্রিয়াকলাপে বাধা সৃষ্টি হলে বা ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় শ্বেত। শ্বেত বংশগতভাবেও হয়। সুন্দর মুখের অধিকারী সকলেই হতে চায়। কিন্তু মাঝে মাঝেই মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় শ্বেত। ত্বকের এই সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। কি ছেলে কি মেয়ে, এই সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। প্রতি ১০০ জন শ্বেত রোগীর মধ্যে ৩০ জনের ক্ষেত্রেই শ্বেত হয় বংশগত ধারায়, মাতৃকুল বা পিতৃকুলের কারো না কারো থেকে জিনের প্রভাবে। বাকি ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে সাদা দাগ ছড়াতে থাকে নিজস্ব কারণে। যার মূলে রয়েছে মেলানিনের কারসাজি! বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ শ্বেত রোগে আক্রান্ত। শরীরের কোন অংশে দেখা দেয় শ্বেত?:



    সাধারণত মুখমণ্ডল, কনুই, বুকেই প্রথমে শ্বেত হতে শুরু করে। কখনো কখনো শ্বেত চোখের পাশ দিয়ে, নাকের দুপাশে বা ঠোঁটের কোণ বা উপর দিয়েও শুরু হয়। কিছু ক্ষেত্রে খুব একটা ছড়ায় না, একটা বিশেষ জায়গাতেই থাকে। আবার কখনো এমনভাবে মুখে-বুকে, হাতে-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে যে, বোঝাই যায় না একসময় গায়ের রং আসলে কী ছিলো! দ্বিতীয় ধরনের শ্বেতের দাগই মানুষকে শ্রীহীন করে তোলে। ৫০ শতাংশ শ্বেত ধরা পড়ে বয়স বছর দশেক হওয়ার পর। শ্বেত রোগীর বৈশিষ্ট্য একজন মানুষের জন্মের পর কোনো জ্ঞাত কারণ ছাড়াই তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া সাদা হয়ে যাওয়াকেই শ্বেত রোগ বলা হয়। শ্বেত রোগের সাথে লিউকোডামার পার্থক্য রয়েছে। কারণ লিউকোডার্মার চিকিৎসা পর্যায়ে এটি শতকরা একশভাগ নিরাময়যোগ্য। এখানে উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কারো শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে ঘা শুকানোর একপর্যায়ে স্থানটি সাদা হয়ে যায়। এটাকে বলা হয় লিউকোডার্মা যা খুব সহজে নিরাময়যোগ্য। এ রোগের কারণ জানা থাকায় সহজেই এর চিকিৎসা করা যায়। শ্বেত রোগের তথ্য শ্বেত রোগের প্রকৃত তথ্য এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে যে, একাধিক কারণে এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত প্রবণতাও এ রোগের সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। বহু টাকা খরচ করেও এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাননি এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে নতুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ওষুধের বিকল্প হিসাবে ‘?সাপের তেল’? ব্যবহার করে প্রায় ১৪ জন ত্বকের এই মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এখন সাপের তেল কোথায় পাবেন বা কোথায় কিনবেন এত জটিল প্রশ্নে না গিয়ে হোমিওপ্যাথিতেও যে এই শ্বেত নিরাময় হয় তা কি জানেন?।শ্বেত চিকিৎসায় ২০০ জনের মধ্যে একজনের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মতোই সারাবিশ্বে শ্বেত বড় অদ্ভুত একটি রোগ, তবে ভয়াবহ নয় মোটেও! শুধু রোগটি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শ্বেত রোগীকে দেখলে ভয়ে আঁতকে ওঠেন অনেকেই। বেঙ্গালুরুর ক্লাসিক হোমিওপ্যাথির গবেষকদের দাবি, অন্য কোনো ওষুধ নয়, একমাত্র হোমিওপ্যাথিই শ্বেত থেকে মুক্তি দিতে পারে। গোটা বিশ্বে দুই কোটি মানুষ শ্বেতির জন্য হোমিওপ্যাথিকে বন্ধু বানাচ্ছেন। হোমিওপ্যাথি ওষুধের ফলে ১৩ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষের শ্বেত সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে গিয়েছে। রোগীরা গত ৫৮ মাস ধরে হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করার পর ত্বকের এই রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দুবাইয়ে এই শ্বেত নিরাময়ের অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা রয়েছে। কিন্তু সেই চিকিৎসার পরও যে শ্বেত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যাবে সেই নিশ্চয়তা নেই। হোমিওপ্যাথি এ দেশে গত ১০০ বছর ধরে শুধু শ্বেতির ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন রোগ নিরাময়েই যথেষ্ট কার্যকর। শ্বেত রোগের বিভিন্ন নাম।
    ফোকাল শ্বেত : এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরের এক বা দুটি স্থানের চামড়া সাদা হয়ে যায়। মোট শ্বেত রোগীর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ এ ধরনের রোগী পাওয়া যায়। এ ধরনের রোগীর ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, রোগটি আপনাআপনিই সেরে যায়। এ ধরনের শ্বেতির চিকিৎসার ফল খুবই ভালো। আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এ ধরনের রোগীর ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।তবে একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা নিন।

    লেখকঃ ডা.মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি মেডিসিন চিকিৎসক ও গণমাধ্যম কর্মী চেম্বারঃনজরুল হোমিও হল, কোর্ট রোড,নবীনগর,আদালত পুকুর পাড়,উপজেলা- নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।
    ০১৭২৯-৮৯-৭৪-২৮

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম