• শিরোনাম


    শেখ ফজলুল করীম মারুফের বিশ্লেষণ ও সমালোচনাঃ হাবীবুল্লাহ সীরাজ

    | ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ | ৯:৫০ অপরাহ্ণ

    শেখ ফজলুল করীম মারুফের বিশ্লেষণ ও সমালোচনাঃ  হাবীবুল্লাহ সীরাজ

    মাওলানা মামুনুল হকের ১৬/০১/১৯ তারিখ একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেছেন। সেই লাইভ নিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বিশ্লেষণ করেছেন। সেই বিশ্লেষণের উপর আমার কয়েকটি কথা।

    সমালোচনা করতে হয়- যার বক্তব্যের সমালোচনা করা হবে, আগে বুঝতে হবে তার বক্তব্য কোন এঙ্গেল থেকে; তার সেই এঙ্গেল বুঝে, তারপর তার সমালোচনা বা বিশ্লেষণ করতে হবে। যদি সারা বক্তব্য নাশুনে নাবুঝে সমালোচনা করে তাহলে তার সমালোচনা বা বিশ্লেষণ আল্লামা শফির বক্তব্যের যে বিশ্লেষণ নাস্তিক পাড়ায় হয় তেমনই হবে। এখানেই আমাদের শেখ ফজলুল করীম মারুফ ভাই ভুল করেছেন- তিনি তার বিশ্লেষণের আগাগোড়ায় মাওলানা মামুনুল হক দা.বা.কে কোন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, অথচ এই লাইভটি ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত উপলব্দির সারাংশ।
    বিশ্লেষণ করতে হয় দলমতের উর্ধ্বে উঠে, মারুফ ভাই তার দলের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ‘আমাদের’ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ) এর পক্ষ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। (আমরা যতদিন দলীয় ও দলান্ধতা না ছাড়তে পারবো ততদিন তিনশ নয় নয়শ আসনে প্রার্থী দিলেও কচু কিছু করতে পারবো না)



    মাওলানা মামুনুল হক তার লাইভের কোন অংশেই রাজনীতি ও ইসলামী রাজনীতির সংজ্ঞা দেননি। তবে কেন মারুফ ভাই তিনি সংজ্ঞার অবতারণা করলেন? এবং যে সংজ্ঞা দিয়েছেন এটাতো তার মনগড়া সংজ্ঞা। সংজ্ঞার অবতারণা করে কি বুঝাতে চাইছেন?
    মারুফ ভাই এই বিষয়ে বলেছেন- ‘দলের নাম ইসলামী হলে বা সেই দলের ও নেতাদের ইসলামী রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য থাকলেই তাদের করা সকল রাজনীতি ইসলামী রাজনীতি হবে এটা বাধ্যতামূলক নয়’- এটা বলে আপনি কাদেরকে আঘাত করতে চেয়েছেন? আপনার এটা প্রযোজ্য হতে পারে জামায়াতে ইসলামীর জন্য, কিন্তু মামুন সাবতো জামায়াতের পক্ষে প্রস্তাবনা দেননি। ইসলামী রাজনীতি (খাঁটি ইসলামী রাজনীতি) বলতে এখন কি বাংলাদেশে একমাত্র আপনাদেরকেই বুঝাতে চান?

    মারুফ ভাই তার বিশ্লেষণে ২য় বিষয়ে উল্লেখ করেন
    ইসলামী রাজনীতিতে ঐক্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। অথচ এর একটু পরেই তিনি বলেন- মুসলমান মুসলমান ঐক্য হতে পারে না। তাহলে ইসলামী রাজনীতি কি অমুসলিমদের?

    মাওলানা মামুনল হক বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির সুবিধার জন্য ‘দ্বৈরথ’ এর সূত্র উল্লেখ করেছেন, আর উদাহরণ দিয়েছেন- রাশিয়ার ও আমরিকার দ্বৈরথের সময় ছোট ছোট মুসলিম দেশগুলো শান্তিতে ছিল। এইখানে মারুফ ভাই তার উল্লিখিত ইতিহাসকে সরাসরি ভুল বলেছেন। আমি কারো বক্তব্যকেই ভুল বলবো না। মারুফ ভাই যেসব মুসলিম অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তারা রাশিয়ার ও আমরিকার দ্বৈরথের সময় ভালো ছিল না ঠিক আছে; কিন্তু কারো পাশবিকতা ও দখলদারিত্বের কবলে ছিল না। কিন্তু যখনই রাশিয়া পরাজয় হলো, আফগানিস্তানসহ অপরাপর দেশগুলোতে রাশিয়ার কর্তৃত্ব খতম হয়ে আমরিকার পাশবিকতা শুরু হলো, এমনকি যারা তার পাশবিকতা মেনে নেয়নি, তারা শিকার হয়েছে দখলদারিত্বের।

    মারুফ ভাই বলেন- তথ্যগত দিক থেকেও এটা শুদ্ধ কথা নয়। দুই শত্রুর হানাহানিতে সাময়িক স্বস্তি হলেও নিজে দুর্বল থেকে দুই শত্রুর উপস্থিতি কামনা করতে পারি না। কারণ হিসেরে মারুফ ভাই যে সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, এর বিপরীত সম্ভবনাও প্রচুর রয়েছে। হতে পারে দুই শত্রুর হানাহানিতে দুজনই পঙ্গুত্ববরণ করলো আমাদের রাস্তা উন্মুক্ত হলো। দুই শত্রুর এক হয়ে যাওয়ার যেমন সম্ভবনা তেমন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ারও তেমন সম্ভবনা।

    আহবানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভাবে কোন কিছুই বলা হয়না’ এটাই স্বতসিদ্ধ নিয়ম। যেমন নামাজের আহবানের ক্ষেত্রে নামাজের কোন কিছুই বলা হয় না। সকল আহবানের ক্ষেত্রেই তেমন। কেউ খাবারের দাওয়াত করলো; কি খাওয়াবে কিভাবে খাওয়াবে তাতো কেউ উল্লেখ করে না (কারো এমন প্রয়োজন দেখা দিলে, সে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাস করে নেই)। তাই বলে কি তার দাওয়াত দেয়া হয়না? মাওলানা মামুনুল হক তিনি ঐক্যের আহবান করেছেন, এখন কেউ ঐক্যের প্রস্তাবে রাজি হলে একসাথে বসে তার কাইফিয়াত আকার আকৃতি গঠন ভিত্তি নীতিমালা ও পলিসি নির্ণয় করবে।
    মারুফ ভাই শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘বিলম্বিল উপলব্দি। অথচ ‘বিলম্বিল উপলব্দি’ বলতে কিছুই হতে পারেনা। মানুষের মনে বোধে জ্ঞানে সব সময় সবকিছু ধরা পড়েনা। যেমন ঐক্যের সুফল বা ঐক্যের বার্তা আপনারা কখনই উপলব্দি করেননি।

    মারুফ ভাই মাওলানা মামুনুল হক দা.বা. কে শ্রদ্ধা রেখে বিশ্লেষণ শুরু করলেও তিনি তার কথা রাখেন নি? তিনি বলেন তার এই উপলব্দি ফেবুতে বলার আগে তার দলীয় ফোরামে বলা উচিৎ। ওই ফোরামে তার কথা গৃহিত না হলে তার মতো বিপ্লবীদের দল ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।’ এটাকে কি শ্রদ্ধা রাখা বলে?

    ইসলামী রাজনীতি করা এবং মানুষকে ইসলামী রাজনীতিতে এক করা কোন আবেগী ছেলেখেলা নয়।’ এই কথা বলে কাকে কি বুঝাতে চাইছেন? আপনারা ছাড়া যারাই ইসলামী রাজনীতি নিয়ে আবেগঘন বক্তৃতা করবে তাদেরকে আপনাদের কাছে ছেলে খেলা মনে হবে। কারণ কিছু অপ্রশিক্ষিত আবেগী কর্মীতে ঘেরা নেতারা ঐক্য আর অন্যের রাজনীতি বলতে কিছু বুঝতে চায়না।

    মারুফ ভাই নাকি মামুন সাবকে শ্রদ্ধা রেখে বিশ্লেষণ করছেন কিন্তু এই শ্রদ্ধার প্রতি তিনি চরম হঠকারিতা প্রকাশ করেছেন তার বিশ্লেষণের একেবারে শেষে- তিনি মামুন সাবকে উদ্দেশ্যে করে বলেন- ‘ফেইবুকে লেখালিখি, লাইভ এবং প্রস্তুত মাহফিলে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেওয়া আর ইসলামী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা এক জিনিস নয়।’ প্রথম কথা হলো- প্রস্তুত মাহফিলে লোকে লোকারণ্যে তো আপনি আপনার মুরুব্বিদল মোহগ্রস্থ’ এই কথা বাংলাদেশের ৯৫% ওলামায়েকেরাম জানেন। যে কারণে ঐক্যের আহবান ও অন্যসকলের রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও আপনারা বার বার ভুল করেন। যে যার মতো করে আবেগ প্রকাশ করার সামান্য একটি মাধ্যম হলো ফেবু’ তাই বলে এটাকে আপনি ঘায়েল করতে পারেন না, এটাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করতে পারেন না। যদি আপনার মানসিকতাই এমন হয়; তাহলে আপনার দ্বারা আর যা-ই হোক ইসলামী রাজনীতি হবে না।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম