• শিরোনাম


    শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা: ফারজানা মুন্নি

    | ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

    শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা: ফারজানা মুন্নি

    শিশু শব্দটি একটি মমতাময়ী শব্দ। যে শব্দের মাঝে লুকিয়ে থাকে কোটি কোটি বাবা-মায়ের স্নেহ, আদর ও ভালোবাসা। সেই মমতাময়ী শিশুটির একমাত্র চাওয়া-পাওয়া থাকে তার বাবা-মায়ের কাছে। সব বাবা-মা-ই যেকোনো মূল্যে তার শিশুর চাওয়া-পাওয়া পূরণ করে। হোক সে গরিব, হোক সে বড়লোক। শিশুরা অবুঝ, নির্বোধ, নিষ্পাপ তাইতো তারা তাদের সমবয়সীদের সঙ্গে হই-হুল্লোড়ে মেতে ওঠে, কখনো স্কুলে কখনো পাড়াগাঁয়ে কখনো বাসায়। এভাবে বেড়ে উঠতে উঠতে তারা নিজেরাও জানে না কোন ভুলটা তার জন্য ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে একমাত্র দায়িত্ব তার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে বাবা-মায়ের। কারণ আমরা সবাই জানি পরিবার হলো শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র। এরপর প্রতিবেশি, স্কুল প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পর্যায় থেকেই শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। কারণ নৈতিকতা হলো মানুষের আদর্শ যা তার শিক্ষাগত অর্জন। বর্তমানে টেলিভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়ছে আমাদের মধ্যে যার ফলে পাশ্চাত্যের উগ্রগামিতা আমাদের শিশুদের উপর প্রভাব ফেলছে এবং প্রায়শই তারা তা অনুকরণ ও অনুসরণ করতে চায়। আমরা বর্তমান প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে দ্বান্দ্বিক আধুনিকতা দেখতে পাই। কেননা আমরা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্ব্ব দেখতে পাই। একটি পরিবার আর একটি পরিবার থেকে উচ্চ মানসিকতার ধ্যানধারণা পোষণ করে থাকে তা কেবলি বিলাসিতার জন্য নয় বরং সেখানে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দেখা যায়। পরিবারের এই ধরনের মানসিকতা শিশুর কোমল মনে দাগ কাটে ফলে অনেক শিশুর মধ্যে আন্তরিকতা বিহীন হয়ে একগুয়ে মনোভাব দেখা দেয় যা তাদের অল্প বয়সে নৈতিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব শিশুরা মা, বাবা, শিক্ষক ও অন্য গুরুজনদের সম্মান করে না। ফলশ্রুতিতে তারা একদিন অন্যায়-অপরাধ, খুন, রাহাজানি করতে দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু রাষ্ট্র চিরদিন রাজার শাসন দ্বারা টিকে থাকতে পারে না, তাকে স্থান ছেড়ে দিতে হয় উত্তরসূরিদের হাতে।

    তাই আজকের প্রজন্মের শিশুদের উপর জাতির ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে। তাই শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে আগ্রাসী মনোভাব পরিহার করতে হবে। রাণি ভিক্টোরিয়ার যুগের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্স বলেছেন, ‘বদান্যতা ঘর থেকে শুরু হয়’।



    নৈতিকতার কেন্দ্রস্থল হলো পরিবার। তাই পরিবারের সদস্য বিশেষ করে মা-বাবার উচিত পাশ্চাত্যরীতি অনুসরণে অনুশাসন যেন তার মধ্যে উচ্ছৃঙ্খলতা দানা বাঁধতে না পারে। শিশুদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করতে হবে কারণ সৌহার্দ মানুষকে বিনয়ী করে। তাই পরিবারের সবার উচিত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে সাহায্য করা।

    লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম