• শিরোনাম


    শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়ক ১২টি খাবার। আওয়ার কণ্ঠ ২৪ ডট কম

    | ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়ক ১২টি খাবার। আওয়ার কণ্ঠ ২৪ ডট কম

    বলা হয়ে থাকে যে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বা ‘brain development’ গর্ভাবস্থায়ই হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের বিকাশ আসলে একটা চলমান প্রক্রিয়া, বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন পর্যায়ে মস্তিষ্ক বিকশিত হয়।

    প্রথম কয়েক বছর শিশুর এ বিকাশ খুব দ্রুত হয়ে যায়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো এ প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন হয়। মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যের ভূমিকা অনেক। চলুন জেনে নেই এমন সব খাদ্যের নাম আর পুষ্টিকথা-



    ১. বুকের দুধ

    ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য একমাত্র সুষম খাদ্য হচ্ছে মায়ের দুধ। ২ বছর পর্যন্ত অন্য খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়া চলতে থাকে। এতে রয়েছে সব ধরণের ভিটামিন, অ্যান্টিবডি, মিনারেল, ফ্যাট, প্রোটিন সবই শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য জরুরি। শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী, শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক।

    ২. কলা

    কলা পটাশিয়ামে ভরপুর। কলা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ উৎস আপনার শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। কলা খাওয়াতে ঝামেলাও কম। হাত ধুয়ে, আঙুল দিয়ে চটকেই শিশুকে খাইয়ে দেওয়া যায়। সব শিশুরাই কলা খেতে কম-বেশি পছন্দ করে। পটাশিয়াম ছাড়াও এতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম। আপনার শিশুর জন্য কলা দিয়ে এ মিক্সচার বানাতে পারেন- একটা কলা, আগের রাতে ভেজানো কিশমিশ, কাজুবাদাম, আলমন্ড বাদাম আর দুধ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। সঙ্গে স্বাদ বাড়াতে চিনি বা মধু দিন। শিশু মজা করে খাবে।

    ৩. শাক, লতা-পাতা

    আমরা জানি, ব্রেইনের জন্য আয়রন খুবই দরকারি। লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক, ডাটাশাক, সরিষাশাক, হেলেঞ্চাশাক, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, থানকুনি পাতা এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, আঁশ আর নানারকম ঔষধি গুন। শিশুরা যখন সলিড খাবার খেতে শুরু করে, তখন আমরা নরম খিচুড়ি করে খাওয়াই। সঙ্গে দেই নানা রকম সবজি, শাক আর ডাল। প্রতিবার নতুন করে খিচুড়ি রান্না করার সময় এক বা দুই ধরণের শাক লতা-পাতা দিন সঙ্গে। অথবা স্যুপ করেও খাওয়াতে পারেন।

    ৪. লাউ এবং কুমড়া

    লাউ বা কুমড়া জাতীয় সবজি, ঝিঙা, চিচিংগাতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি ও এ। মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্যও ভালো, আবার বাজারেও সব সময় কিনতে পাওয়া যায়। এ সবজিগুলো মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় শিশুও খেতে পছন্দ করবে।

    ৫. ছোলা

    ছোলা আঁশ ও আয়রন সমৃদ্ধ। গুরুপাক প্রোটিন হওয়ায় শিশুর হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর জন্য ছোলা রান্না করলে সঙ্গে রসুন দিন। শিশুর সমস্যা হলে ৮ মাস বয়সের পরে ছোলা দিন। মিক্সচার- ছোলা রসুন আর আদা দিয়ে সেদ্ধ করে পিউরি বানিয়ে নিন। সঙ্গে মিশিয়ে দিন অল্প লবণ আর অল্প লেবুর রস।

    ৬. মাছ আর মাংস

    মাংসে থাকে প্রচুর জিঙ্ক, আয়রন, প্রোটিন যা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিত করে। মাছ আর মাছের তেলে আছে প্রোটিন আর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, যা শিশুকে মানসিকভাবে চটপটে হতে সাহায্য করে। মাছ বা মাংসের স্যুপ করে খাওয়াতে পারেন চাইলে। নয়তো পাঁচমিশালি খিচুড়ির সঙ্গে মাংস মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। সঙ্গে দিন আলু আর গাজর! সুস্বাদু হবে শিশুর জন্য।

    ৭. সবার প্রিয় ডিম

    শিশুরা ডিম খেতে খুবই পছন্দ করে। আমরা বড়রাও অবশ্য কম পছন্দ করি না। ডিমের পুষ্টিগুনেরও শেষ নেই। ডিম সহজলভ্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত হলেও, এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ও লুটেইন। আর রয়েছে কোলিন যা ফুসফুসের জন্য ভালো, স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সহায়ক। ডিমের কুসুম আর সাদা অংশ, দুটোই শিশুর জন্য উপকারী।

    ৮. দানাদার শস্য

    দানাদার শস্য যেমন- তিল, কালিজিরা, ওটস, আদা, ময়দা, ভুট্টা এসব শিশুর মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তের গ্লুকোজ নিঃসরণকে স্থিতিশীল এবং ধীর করে, ফলে শিশু সহজে যেকোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।

    ৯. ওটস

    ওটসে আছে জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স আর ভিটামিন ই। তাছাড়া প্রচুর পরিমানে আঁশ তো আছেই। ওটস স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও কার্যকর। আপনার শিশুর শরীর আর মস্তিষ্ক দুটোতেই শক্তি সরবরাহ করবে। ওটস মিক্সচার- ওটস ঘনদুধের সঙ্গে ক্ষীরের মতো রান্না করে খাওয়ান, শিশু খুবই পছন্দ করবে।

    ১০. ডাল জাতীয় শস্য

    নানা প্রকার ডাল, যেমন- মসুর, মুগ, কলাই, খেসারি, সিমের বীজ এগুলোতে আছে প্রচুর ফাইবার আর প্রোটিন। ডাল রান্না করতেও সোজা, পুষ্টিগুনেও সেরা। পাঁচমিশালি ডাল ও সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ান শিশুকে। সবজি হিসেবে দিন আলু, গাজর, বেগুন, পালংশাক বা অন্য যেকোনো ১/২ পদের শাক।

    ১১. দই

    দইও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। নিউরোট্রান্সমিশন আর মস্তিষ্কের টিস্যুর সুস্থ বিকাশের জন্য উপকারী হচ্ছে দই। টক দইয়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে বা মিষ্টি দই খাওয়ান। সঙ্গে শিশুর প্রিয় কোন ফল চটকে মিশিয়ে নিন। শিশুও খুশি, পুষ্টিগুনও নিশ্চিত।

    ১২. বাদামের বারোগুন

    বাদামের ভিটামিন ই আর তেল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। মস্তিষ্কের জন্যও কম উপকারী নয়। ওয়ালনাট, কাজুবাদাম, আলমন্ড, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম- সব ধরণের বাদামই খাওয়ান শিশুকে। এক এক ধরণের বাদাম থেকে শিশু একেক রকম পুষ্টি পাবে। বাদাম আর শুকনো ফল ব্লেন্ড করে গুড়ো করে রাখুন। দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে পারবেন যখন তখন।

    শিশুকে যখন নতুন নতুন কোন খাবার খাওয়ান তখন অল্প পরিমানে খাইয়ে অভ্যস্ত করান। কোনো খাবারে পেট খারাপ হলে কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখুন খাওয়ানো। অ্যালার্জি থাকলে সে খাবারটা আর খাওয়াবেন না। শিশুর পাকস্থলি বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হজম করার ক্ষমতাও বাড়বে। তাই ধীরে, সুস্থে নতুন খাবারে অভ্যস্ত করান।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম