• শিরোনাম


    শিমের থোকায় স্বপ্ন বুনছেন সুন্দরগঞ্জের কৃষকরা

    রিপোর্ট: জাহিদ হাসান জীবন , সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ | ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

    শিমের থোকায় স্বপ্ন বুনছেন  সুন্দরগঞ্জের কৃষকরা

    ছোট ছোট ফুল আর থোকা থোকা শিমে ভরে উঠেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সবজি চাষীদের শিমের বাগান।

    আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে শিমের। আর এই শিমের থোকাতেই স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। সামান্য জমিতে স্বল্প পুঁজি দিয়েই শিমের চাষ করা যায়। আর একটু পরিচর্যা করলেই বেশ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। আষাঢ় মাসের শেষদিকে সারিবদ্ধভাবে গর্ত খুঁড়ে কিছু গোবর সার প্রয়োগ করে শিমের বীজ বপন করতে হয়। এরপর কিছুদিন সার সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচর্যা করে চারা গাছ একটু বড় হলে মাচাং বানিয়ে দিলে মাত্র আড়াই/তিন মাসের মধ্যেই বিক্রি করার মতো হয়ে যায় শিম। স্বল্প পুঁজিতে শিম চাষ করে সুন্দরগঞ্জের অনেকেই নিজেদের ভাগ্য বদল করতে সক্ষম হয়েছেন।



    এমনি এক জন দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান তিনি গত বছর ১৫ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করে প্রায় লাক্ষাধিক টাকা আয় করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল শিমের চাষ করেছেন। এরই মধ্যে ৩০ শতাংশ শুধু বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে বাকি ৭০ শতাংশ জমির শিম সবজি হিসেবে গত এক মাস ধরে বাজারে বিক্রি করছেন।

    কৃষক মিজানুর জানান, ৭০ শতাংশ বাগান থেকে প্রতি তিনদিন পরপর চার থেকে পাঁচ মণ শিম তুলছেন তিনি। প্রথমদিকে প্রতি মণ চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করছেন প্রতিমণ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রথম দুই সপ্তাহের উৎপাদিত শিমে বিক্রি করে তার উৎপাদন খরচ উঠে গেছে। এভাবে আরো এক থেকে দেড় মাস শিম আসবে তার বাগান থেকে।

    আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ওই ৭০ শতাংশ জমি থেকে প্রয় দের লক্ষাধিক টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি। এছাড়াও বাকি ৩০ শতাংশ জমির বীজ বিক্রি করেও অর্ধ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সব মিলে এক একর জমি থেকে চলতি মৌসুমে দুই লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন তার।

    পাশের গ্রামের কৃষক মনছুর আলীর সম্বল বলতে মাত্র ৩০ শতাংশ জমি। যেখানে অন্য ফসলের সঙ্গে শীত মৌসুমে কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করছেন তিনি। গত বছরও ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন শিম বিক্রি করে।

    তিনি জানান, শীতকালে শিমের বেশ চাহিদা থাকে তাই বাজারে এর কদরের মত বেড়ে যায় বাজার মূল্যও। বিক্রি করতে ঝামেলা নেই। পাইকাররা ক্ষেত থেকে শিম কিনে নেয় ন্যায্য মূল্যে। অল্প জমিতে বেশি মুনাফা পেতে শিম চাষের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

    শিম চাষ করে সেই টাকায় সংসার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোর পরেও প্রতি বছর জমি বন্দক নিচ্ছেন তিনি। অভাব নামক দানবকে বিদায় দিয়েছেন। তার অনুকরণে ওই গ্রামের অনেক চাষি এখন বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ শুরু করেছেন।

    সুন্দরগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজাই-মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান, চলতি মৌসুমে প্রয় ১’শ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিমের বাম্পার ফলন হবে। শিম চাষীরা বেশ লাভবান হবেন বলেও আশা করেন তিনি।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম