• শিরোনাম


    শায়েখ সাজিদুর রহমান ও মুফতি মুবারকুল্লাহ’কে নিয়ে মুক্তাদির এমপির মিথ্যাচার ও অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদে ১০১ আলেমের বিবৃতি

    মুফতি জুনাইদ কাসেমী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৪:৪২ অপরাহ্ণ

    শায়েখ সাজিদুর রহমান ও মুফতি মুবারকুল্লাহ’কে নিয়ে মুক্তাদির এমপির মিথ্যাচার ও অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদে ১০১ আলেমের বিবৃতি

    আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান ও আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ’কে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরের এম.পি রবিউল মুক্তাদির চৌধরীর মিথ্যাচার ও অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১ আলেম।

    গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ২০২১ তিন দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ঘটে যায় ইতিহাসের জঘন্যতম নারকিয় হত্যাকান্ড। পুলিশ, বি.জি.বি ও ছাত্রলীগের যৌথ গুলীবর্ষনে দিনগুলোতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫ জন মানুষের প্রাণ ঝরে পরে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তেজিত জনতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়, এই ভাংচুরের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম সমাজের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমরা যেমন ভাবে ১৫ শহীদের বিচার চেয়েছি এমনভাবে এ-ই ভাংচুরেরো নিন্দা জানিয়েছি।



    কিন্তু আমাদের সদর আসনের এমপি এই ঘটনার দায় এড়িয়ে সম্পুর্ণ দায়ভার চাপিয়ে দিতে চায় আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান ও মুফতি মুবাকুল্লাহ সহ আলেম উলামাদের উপর। ভাংচুরের বিষয়ে এমপি নিজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দলীয় কোন্দল ও পৌর নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদেরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন।
    কিন্তু এখন কেন একচেটিয়া আলেমদেরকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি শুধু ভাংচুরের প্রতিবাদ করেন কিন্তু ১৫ জন শহীদের ব্যপারে একটি কথাও তার মুখ থেকে বের করেন না কেন? ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসি জানতে চায়!

    জেলা হেফাজতের পক্ষ থেকে গত ৩১ শে মার্চ বুধবার ২০২১ ইং সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনার সূত্রপাত বর্ণনা করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করা হয়েছে। হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলনের সূত্র ধরে আমরা বলতে চাই ২৭ শে মার্চ সদরের এমপির নেতৃত্বে মিছিল থেকে যদি সোয়াশো বছরের দ্বীনি মার্কাজ জামিয়া ইউনুছিয়াতে হামলা করা না হতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হতাহতের ঘটনাও ঘটতো না এমনকি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটতো না। হামলার ভিডিও ক্লীপে আমরা দেখেছি এবং আমাদের অনেকে সচোঁখে দেখেছে মুক্তাদির চৌধরীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের মিছিলটি জামিয়াতে আক্রমণ করেছে। ও-ই মিছিলে থাকা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ অস্ত্রের মহরা চালিয়ে গুলি চালিয়েছে।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের প্রাণাধিক প্রিয় জামিয়াতে যদি এ-ই নগ্ন হামলা না হতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সূত্রপাত হতো না।
    সুতরাং আমরা সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসি মনে করে জানমালের যত ক্ষতি সাধন হয়েছে সদরের এমপির উস্কানির কারনেই হয়েছে, তাকেই সবকিছুর দায়ভার নিতে হবে।
    কিন্তু আমরা লক্ষ করছি সম্পুর্ণ গায়েরজোরে উদুর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার মত দায়ভার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ দুই আলেমেদ্বীনের উপর চাপিয়ে দিতে বিভিন্ন সমাবেশে তিনি অশালীন, মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠনের মাধ্যমে শীর্ষ দুই আলেম সহ আলেম উলামাদের ব্যপারে মিথ্যা ও অশালীন বক্তব্য দেওয়াচ্ছেন।
    তার বক্তব্যে তিনি সাজিদুল, মুবারকরা ফাসেক তাদের পেছনে নামাজ হবেনা! বদমাইশ, হারামজাদা! আমার নেতৃত্বে হামলা হলে মাদ্রাসা এখানে থাকবেনা! সাজিদুল মুবারকরা সাংবাদিক সম্মেলন করার সুযোগ পাবেনা!
    এ-ধরনের উত্তুক্তি পূর্ণ বক্তব্য একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে তার কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসি আশা করেনি। পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবগলীগের মাধ্যমে আমাদের শীর্ষ দুই মুরুব্বী আলেককে গ্রেফতার করার ব্যাপারে দৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যও দেওয়াচ্ছেন।

    তিনি কথায় কথায় ফতোয়া ছাড়েন অথচ বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের রায় অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি ফতোয়া দিতে পারেন না, নির্ভরযোগ্য কোন ফতোয়া বিভাগের সনদ ব্যতিত। ফতোয়া দেওয়ার মত তার কোন সনদ নেই, তিনি ফতোয়া দেওয়ার অযোগ্য, তার ফতোয়া দেওয়া আইনত দন্ডনিয় অপরাধ।

    আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম সমাজ মুক্তাদির চৌধরীর এসমস্ত অশালীন বক্তব্য ও মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, বক্তব্য উড্ড করে নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
    এম.পি সাহেব ও তার সহযোগিদেরকে মনে রাখতে হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় দুজন মুরুব্বী আলেম ফখরে বাঙ্গাল (রহ.) বড় হুজুর (রহ.) মুফতী সাব (রহ.) সহ আকাবেরদের জানেশীন হয়েই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ সারা দেশে দ্বীনী কাজের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
    আকাবেরদের প্রতি মানুষের যেমন ভালবাসা ছিল বর্তমান মুরুব্বীদের প্রতি ও মানুষের ভালবাসার কোন কমতি নেই।
    সুতরাং মুরুব্বী এবং আলেমদের ব্যাপারে যেকোন বক্তব্য চালিয়ে দেওয়া বা যেকোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসি মেনে নেবে না। ইনশাআল্লাহ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা বাংলাদেশে আলেম উলামা ও তৌহিদি জনতাকে হয়রানি ও গ্রেফতারের তীব্র ও নিন্দা জানান উলামায়ে ক্বেরামগণ। বিবৃতিদাতাগণ হলেন- মাওঃ শামসুল হক সরাইলী সাহেব, মাওঃ মুফতি মারুফ কাসেমী, মাওঃ আলী আজম সাহেব, মাওঃ মেরাজুল হক কাসেমী, মাওঃ জহিরুল ইসলাম, মাওঃ জয়নাল আবেদীন বাকাইলী, মাওঃ বোরহান উদ্দিন কাসেমী সাহেব, হাফেজ মাওঃ ইদ্রিস সাহেব, মাওঃ বোরহান উদ্দিন আল মতিন, মাওঃ বোরহান উদ্দিন অষ্টগ্রাম, মাওঃ মোশারফ হুসাইন, মাওঃ মুফতী উবায়দুল্লাহ, মাওঃ ইয়াকুব উসমানী, মাওঃ মুফতী আসাদ হাবিবী, হাফেজ মাওঃ আসাদ, মাওঃ হেদায়েত উল্লাহ সিরাজী, হাফেজ মাওঃ তানভীর আহমেদ, হাফেজ মুছা কাসেমী, হাফেজ মকবুল হোসেন, মাওঃ আমজাদ হোসেন আশরাফী, মাওঃ এনামুল হাসান, ও মাওঃ কায়ূম ফারুকী সহ ১০১ জন উলামায়ে ক্বেরাম

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম