• শিরোনাম


    শায়খুল বাঙ্গাল (রঃ)’র দুটো অলৌকিক কারামত: এস এম শাহনূর

    | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:২০ অপরাহ্ণ

    শায়খুল বাঙ্গাল (রঃ)’র দুটো অলৌকিক  কারামত: এস এম শাহনূর

    কসবার বল্লভপুরে জন্ম নিয়ে শুয়ে আছেন মহিষবেড়,
    সময় থাকতে চিনলে না মন এযে বদ কপালের ফের!

    আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য প্রাপ্ত ওলী কামেলগণকে মহান আল্লাহপাক গায়েবী বহু কারামত দান করে থাকেন। (কিরামাতি আওলিয়ায়ি হাক্বুন।)আমরা সাধারন মানুষ খালি চোঁখে যা দেখতে অক্ষম আল্লাহর ওলীগণ তা দেখে থাকেন।বিশেষ ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশী পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।বিশিষ্ট আলেমে দীন শায়খুল বাঙাল আল্লামা ছৈয়দ আবু মাছাকিন লাহিন্দী আল কাদেরী (রঃ)ছিলেন মহান আল্লাহ মনোনিত কালের শ্রেষ্ঠ সাধক ও ওলী।যাঁর জীবনী বৈচিত্র্যময়, বহু কারামতে ভরপুর।উনার জীবনের অসংখ্য অলৌকিক ঘটনাবলীর মধ্যে মাত্র দুটো সংক্ষিপ্ত সত্য তোলে ধরার জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনো বাক্যে সাহায্য কামনা করছি।”ইয়্যাকানাবু ওয়া ইয়্যাকানাস তাঈন।”



    ✪সত্য কাহিনী (এক):
    পৌষের শিশির স্নাত সকাল।বল্লভপুর গ্রামের খন্দকার বংশের( মরহুম) আনু খন্দকারের( মরহুমা) স্ত্রী উনার বড় ছেলে মোহাম্মদ তারু মিয়া খন্দকারকে নিয়ে হুজুরের দরবারের উদ্দেশ্যে মেহারীর দক্ষিণ কোণা দিয়েে, যমুনা গ্রামের বুক চিরে আকাঁবাকা ফসলী জমির আইল দিয়ে,পায়ে হেটে এগিয়ে যাচ্ছেন।গন্তব্য কসবা থানার মেহারী ইউনিয়নের খেওড়া গ্রামের আলফু মিয়ার(মরহুম) বাড়ি।যেখানে শায়খুল বাঙাল সপরিবারে জীবনের বেশটুকু সময় কাটিয়েছেন।
    দূরদূরান্ত থেকে বহু আশেকান,ভক্ত ও মুরিদ এখানে এসে তাদের পীরের মহব্বত আর উপদেশের সাগর জলে সাঁতার কাটতেন।জানা যায় আলফু মিয়া হুজুরের একজন বড় মানের ভক্ত ছিলেন।প্রেমাষ্পদের প্রেমে বিগলিত হয়ে তিনি তার বসত ভিটা হূজুরের নামে লিখে দিয়েছিলেন বা দিতে চেয়েছিলেন। খেওড়া গ্রামের মানুষ হুজুরের শেষ আস্তানা আলফু মিয়ার বাড়িতে হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।কিন্তুু মুক্ত বিহঙ্গ কি আর দুধ কলায় পোষ মানে?
    ” বল্লভ পুরে জন্ম নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন মহিষবেড়,
    সময় থাকতে চিনলেনা মন এযে কপালের ফের।”
    হয়তোবা এই হিজরত কিংবা পরবাসে ঘুমিয়ে থাকার মাঝেও থাকতে পারে বিধাতার কোন এক নিগুঢ় রহস্য। যা আমাদের মত সাধারন মানুষের জ্ঞান সীমার বাহিরে।চিন্তার বাহিরে।অমোঘ রহস্যাবৃত।
    তখনো কুয়াশা ভাল করে কাটেনি।পূর্বাকাশে মেলেনি সূর্যমামার দেখা।খেওড়া গ্রামের আলফু মিয়ার বাড়িতে এই ভোরে বল্লভপুর থেকে দুজন মেহমান আসছেন।
    কিন্তু হুজুর কি করে জানলেন?
    বল্লভপুরের মানুষজনকে তিনি নাকি খুবই ভালবাসতেন,মহব্বত করতেন।তাই
    গৃহকর্ত্রীকে আদেশ করলেন,”বল্লভপুর থেকে দুজন মেহমান আসতেছে;তাদের জন্য নাস্তা/খাবার প্রস্তুত কর।”

    অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলে আলফু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় এসে থামলো।হুজুর তাদেরকে হাত মুখ ধুয়ে এসে খাবার গ্রহণের তাগিদ দিলেন।মা -ছেলে দেখলেন,দুটো সানকিতে পান্তা ভাতের সাথে ভর্তা অথবা শাকজাতীয় কোন খাবার তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।গৃহকর্ত্রী তাদের সামনে খাবার পাত্র এগিয়ে দিয়ে বললেন,”আপনাদের আসার সংবাদ হুজুর দিয়েছেন তাই অাগে থেকেই খাবার বেড়ে(প্রস্তুত করে)রেখেছি।জলদি খেয়ে নিন।”এবার মা এবং ছেলে একে অপরের মুখপানে তাকায়।এত্ত ভোরে বল্লভপুর থেকে আমরা আসবো পীর সাহেব কি করে জানেন? মা এবং ছেলে মনে মনে তাই ভাবছে।মায়ের মুখে কথা নেই।ছেলেও নিরব।আসলে-

    “এরই নাম সাধক জীবন
    ওলী-কামেল পীরের ধরন।”

    ➤উপরোক্ত আলোচনা থেকে শিক্ষাঃ
    মহান আল্লাহ ইচ্ছে করলে ওলী কামেল পীরগণকে গায়েবের ক্ষমতা দান করতে পারেন।সুবহানাল্লাহ।

    ✪সত্য কাহিনী (দুই):
    আজকের পঁচাত্তোর উর্ধ্ব খন্দকার মোহাম্মদ তারু মিয়া তখন ছিলেন একজন তরুণ। একজন বেকার।জনাব তারু মিয়া খন্দকার বলেন,”হুজুরের আদেশে মা খাবার গ্রহণ শুরু করলেন। কিন্তু অামি খানার প্লেটে হাত দিলাম না।কারণ,মা এবং আমি বাড়ি থেকে মাত্র এক ঘন্টা আগে গরম ভাত খেয়ে এসেছি।দাদা পীর সাব আমাকে আরো এক দুইবার সানকিতে রাখা খানা খাওয়ার জন্য কইলেন।আমি না খাওয়ায় উনা(সম্ভবত রাগের বশে) ভাত তরকারী ভরা সানকিটি হাতে নিয়ে দরজা দিয়ে ছুড়ে মারলেন।উঠোনে সানকির ভাত,শাক আর ভর্তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল।চারদিগ থেকে মোরগ মুরগী আর কাক এসে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরেঘুরে ভাত, তরকারি গুলো খেয়ে নিলো।
    ভাতের প্লেটখানা ছুড়ে ফেলার সময় পীর সাব কইলেন,”ঘরে বসে যখন খাইলেন না, যান এবার ঘুরেঘুরে খান।” উল্লেখ্য যে,শায়খুল বাঙ্গাল(রঃ) জীবদ্দশায় ছোট বড় সকলকেই আপনি বলে সম্বোধন করতেন।
    পীর ওলীদের মুখের কথা সত্য,কর্ম সত্য, জীবন সত্য। বন্দুকের গুলির টার্গেট মিস হতে পারে কিন্তু ওলীদের মুখের ভবিষ্যৎ বানী মিস/ভুল হতে পারেনা।আসলে খন্দকার তারু মিয়ার বেলায় বাস্তবে তাই হয়েছে।
    তিনি বলেন,”পীর সাহেরের নূরানি দরবার থেকে ফিরে আসার কিছুদিন পরেই আমার সরকারী চাকুরী হয়।আল্লাহ পাকের একী খেলা,দীর্ঘ ৩০ বছর এমন এক চাকুরীতে ছিলাম আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম,তো কাল রাঙামাটি, পরশু টেকনাফ। আরো কত দুর্গম এলাকায়,কত নির্জন- বিরান ভূমিতে দিন রাত কাটিয়েছি।তিনি আক্ষেপ করে বলেন,” যদি দাদা পীর সাহেবের কথায় সাথে সাথে সানকির ভাত খেয়ে নিতাম;তাহলে হয়তোবা রিজিকের পিছনে আমাকে এমন ছুটাছুটি করতে হতোনা। ”

    ➤উপরোক্ত আলোচনা থেকে শিক্ষাঃ
    অাল্লাহর ওলীদের কথা/দোয়া বা ভবিষ্যৎ বানী বিফলে যায়না।

    “দু চোঁখে দেখিনি যাঁরে
    বাস করে মনের ঘরে।
    খুঁজে ফিরে পাগল মন,
    এ কেমন রক্তের বাঁধন!”
    “”””””‘””‘”””””””””””””””””””””””””””

    ★তথ্য সংগ্রাহক ও লেখকঃ
    এস এম শাহনূর
    বাংলাদেশ।

    ★আলোচনার মজলিসঃ
    শায়খুল বাঙালের জন্ম ভিটা মরহুম জামশেদ খন্দকারের ঘর।

    ★আলোচনায়ঃ
    এস এম শাহনূর
    আইয়ূব আলী খন্দকার,
    মোহাম্মদ তারু মিয়া খন্দকার ও
    মরহুম জামশেদ খন্দকারের স্ত্রী।

    ★আলোচনার তারিখঃ
    ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ইং
    বল্লভপুর খন্দকার বাড়ী, কসবা,বি-বাড়ীয়া।
    “”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম