• শিরোনাম


    “শাপলা ফোটা বিল” ম. কাজী এনাম

    | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

    “শাপলা ফোটা বিল”    ম. কাজী এনাম

    প্রাকৃতির প্রেমে যারা সবসময় হাবুডুবু খায়,ভ্রমণ বিলাসী পরিচিত এমন অনেকেই দেখছি চলমান বছর ঘাগুটিয়া(আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) নিয়ে খুবই মাতামাতি করছে। সে লক্ষ্যেই মূলত নিজেদের এলাকা, জন্মভিটে (বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এর কিছুটা অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপেরঘটা ঘাটতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে, গর্ব হচ্ছে।

    প্রাকৃতিক সুন্দর দৃশ্য বলতে সেটা তেমন কিছু নয়, যারযার দেখার চোখ আর দৃষ্টিভঙ্গিই মূলত এগুলোকে মুল্যবান বানায়। সে ক্ষেত্রে বেশি কিছু নয়, আমাদের বিজয়নগরের মাটি ও তার কিছু জলাশয় এবং বিলের বর্ণনা দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করব। ফল-ফুল আর বাহারি বনজ বৃক্ষলতার কথা না হয় অন্যদিন হবে। আজ হউক শুধুমাত্র জাতীয় ফুল শাপলার কথা।



    জাতীয় ফুল শাপলা আমাদের খুবই পরিচিত। এই ফুলের রাজ্যেশ্বর হচ্ছে বিজয়নগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এর প্রায় অধিকাংশ এলাকা। ধানি জমি যখন বর্ষার জোয়ারে তলিয়ে যায় তখন পুব আকাশের সূর্য্যের মতো উদিত হয় শাপলার অসাধারণ বিচরণ। বিলের বুকে তখন চোখ জুড়ানো ফুলের সাদা-লাল রংয়ে ছেয়ে যায়। মনোমুগ্ধকর এই ছড়ানো-ছিটানো ফুলের সাজ দেখে হৃদয় আপ্লাবিত হয়ে যায়। মন ছুটে চলে বারবার দিগন্তের সেই বিস্তৃত নগরীতে। স্বপ্নঘোর কেটে শাপলার সারি হয়ে উঠে রত্নভাণ্ডার, কল্পনার মাধুরী।

    সুপরিচিত মিনি নদীবন্দর চম্পকনগর। ইহাকে অনেকে সিমনা বাজার বলেও আঞ্চলিক ডাক অনেকেই ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মাত্র(নৌপথে) ৫০মিনিটের দুরন্ত এই মিনি নদীবন্দর বাজার। এই বাজারের ঠিক পূর্ব পার্শ্ব থেকেই সিএনজি যোগে মাত্র পাচ মিনিটের পথ ছতুরপুর গ্রাম। গ্রামে প্রবেশের আগের চোখে ভেসে উঠবে বিশালাকার রক্তশাপলার বিল। এই গ্রামের পূর্ব পার্শ্বেও আছে বেশ কিছু রক্তশাপলার বিচ্ছিন্ন এলাকা। তবে সাদা শাপলার ছড়াছড়ি চারদিকেই। আঞ্চলিক এলাকার প্রায় সর্বত্রই যেন শাপলার বাহারি রূপের দৃশ্য বিছিয়ে আছে স্রষ্টার অপার মহিমায়। গোয়ালনগর, ভিটিদাউদপুর, রূপা, ঘনেশ্যামপুর, সেজামুড়া, নজরপুর, পাহাড়াপুর, খাটিংগার সবখানেই সাদা শাপলার উপস্থিতি।
    তবে আউলিয়া বাজার সংলগ্ন দুইটি গ্রাম খাটিঙ্গা এবং পাহাড়পুরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া বিশালাকার জলাশয়াদি(লুঙ্গা) রক্তশাপলার দিয়ে আবৃত…!

    এক সময় পাহাড়পুরের মেঘনা বিলেও ছিল পদ্ম-কমল। সময়ের আবর্তনে এগুলো হারিয়ে গেলেও সমূলে এখনো হারায়নি। পাহাড়পুর আর সহদেবপুরের মাঝখানের এই মেঘনা বিলে আজও উঁকিঝুঁকি দেয় পদ্মের ডাটা। ডানা মেলে মাঝেমাঝেই উকি দেয় পদ্মাসন।

    এছাড়াও বিজয়নগরের আসেপাশে অসংখ্য এলাকায় রয়েছে শাপলার মতো সুন্দর, মনোমুগ্ধকর, পাপড়িত একটি জাতীয় ফুলের বসবাস। তারমাঝে বুঢাংবাড়ি, দাড়িয়াপুর, সোনামুড়া, পাঁচগাও, বাঘদিয়া ও পাইকপাড়া এলাকা উল্যেখযোগ্য। এই সকল অঞ্চলের শাপলারন্য দেখার মতো সুন্দর দৃশ্য .. অসাধারণ।

    ঘুরে আসতে পারেন যে কেউ..
    বেশি দূরে নয়, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের অদূরেই অবস্থিত এই প্রাকৃতিক লিলাভূমি।

    ম. কাজী এনাম

    [বিএসএস অনার্স(অর্থনীতি), ডাবল এমএ(হাদিস)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ অক্টোবর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম