• শিরোনাম


    লিচুর রাজ্য ‘আওলীয়া বাজার’ [] ম. কাজী এনাম

    ম. কাজী এনাম, স্টাফ রিপোর্টার | ০১ জুন ২০২০ | ৯:১৯ অপরাহ্ণ

    লিচুর রাজ্য ‘আওলীয়া বাজার’ [] ম. কাজী এনাম

    আল্লাহ তায়ালার বিস্ময়কর এক সৃষ্টি নিদর্শনের নাম ফল। এটি আল্লাহ তায়ালার এমন এক নিয়ামত যা সবাই পছন্দ করে। দেহের শক্তি-প্রোটিন যোগানের পাশাপাশি মুখে দেয় তৃপ্তির ঢেকুর। সাথে সাথে ফল থেকে পাওয়া রুগ নিরাময়ক উপকরণের তুলনা হয়না।

    বাংলাদেশ একটি কৃষী প্রাধান দেশ, তবে এদেশের আবহাওয়ায় সারা বছর কোনো না কোনো
    ফলের সমারোহ থেকেই যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মঋতুর জ্যৈষ্ঠ মাস আসে নানা প্রজাতির রসালো ফলের সুবাস নিয়ে। বাজারে বাজারে সয়লাব হয়ে যায় দেশীয় ফলের নানাবিদ আয়োজনে। ফলের আড়ৎ, দোকানে, রাস্তার মোড়, ফেলিওয়ালা থেকে নিয়ে সর্বত্রই থাকে ফলের আমেজ। স্তরে স্তরে সাজানো দোকানের তাকগুলো আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, কালোজাম, বাঙ্গি সহ নানা রকম রসালো ফল দিয়ে বাড়তি আকর্ষণের সৃষ্টি করে। এসব মিষ্টি ফলের লোভনীয় গন্ধ চারদিক আমোদিত করে।
    ফল রসে রসনা তৃপ্তির অপূর্ব আনন্দময় এ জ্যৈষ্ঠ মাস বাঙালির ঘরে ঘরে নিয়ে আসে আনন্দের সংবাদ। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজনদের আনাগোনা ও ফল-ফলাদি আদান-প্রদান হয়ে থাকে এ সিজনেই।



    জ্যৈষ্ঠ মাসের রকমারি ফলের ভীরে লিচু অতিপ্রিয় একটি ফল। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সকল বয়সীদের জন্য লিচু যেন এদেশের একটা কমন পছন্দের রসানো ফল। লিচুর বিভিন্ন প্রজাতি থাকলেও বাংলাদেশে সাধারণত মাদ্রাজি, বোম্বে ও চায়না থ্রি বেশ পরিচিত। অল্প দিনের ভেতর লিচুর সিজন শেষ হয়ে যায়। যার ফলে লিচুর সিজনে কেউ কেউ লিচুর স্বাদ মুখে নিতে দেরি করেনা।

    বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই মোটামুটি লিচুর ফলন হয়, তবে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ১০নং পাহাড়পুর ইউনিয়ন লিচুর জন্য একটু বেশিই বিখ্যাত । যার সামান্যটুকো জায়গা আছে সেও চেষ্টা করে কয়েকটা লিচুর চারাগাছ রূপন করতে। একটা সময় এই এলাকার মানুষ পেয়ারামুখি ছিল, কিন্তু সর্বশেষ দুই দশক ধরে লিচুতে ভাগ্য নির্ণয়ের পথ খুজতেছে অনেকেই। বাগানিরা সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে লিচুকে বেছে নিয়েছে। যার ফলে বিজয়নগর পুর্বাঞ্চলের প্রায় প্রত্যকটি গ্রামে গড়ে উঠছে বহু লিচু বাগান।

    প্রত্যুষে লিচু বিক্রির জন্য সারিসারি খাচায় করে লিচু নিয়ে বসে থাকার দৃশ্য দেখলে যে কারো হৃদয় জুড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ লিচু বিক্রির বাজারের মাঝে ‘আওলিয়া বাজার’ অন্যতম। এখানে আশেপাশের গ্রামগুলো যেমন পাহাড়পুর, খাটিংগা, ওলিপুর, ভিটিদাউদপুর, গোয়ালনগর, কামালমূড়া, রূপা, মহেষপুর, ছতুরপুর সহ অনেক দুর দুরান্ত থেকে বিক্রেতারা রাত পোহাবার মাত্রই লিচু নিয়ে উপস্থিত হয়ে যায়। ক্রেতাসাধারণও পিকাব-ভ্যান বা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে সাত সকালে বাজারে উপস্থিত থাকে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে যে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে প্রায় কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়ে যায় এই বাজারে।
    এছাড়া বিজয়নগর উপজেলায় আরও কয়েকটা বাজার আছে, যেমন সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ইত্যাদি। তবে ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ আওলিয়া বাজার। কারণ আওলিয়া বাজারকে অকপটে বলা যায় ‘একটা লিচুর রাজ্য’

    চলতি বছর লিচুর অসাধারন ফলন হয়েছে। কিন্তু লকডাউন বিরম্ভনার জন্য ব্যাবসায়ীরা তেমন ভীরছে না। যার ফলে বাগানিদের মনে দেখা দিচ্ছে অশুভ সংকেত। সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল এবং কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের উর্ধ্বগতির জন্য আতংকিত সকল স্তরের জনতা। যার ফলে ভাল ফলন হলেও এবারের লিচু বিক্রিতে শঙ্কিত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় শ্রেণি। সব মিলিয়ে বাজারে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোলন পেতে দেশের সর্বস্থরের ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা জারি রয়েছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম