• শিরোনাম


    লালবাগ মাদ্রাসা ও ইসলামী রাজনীতি [] মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

    | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

    লালবাগ মাদ্রাসা ও ইসলামী রাজনীতি [] মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

    ঐতিহ্যবাহী জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসার ফাযায়েল, বারাকাত, দেশ জাতি ও ইসলামের প্রতি তার অবদান যতই আমার মতো অযোগ্য মানুষ লেখার চেষ্টা করি না কেন তা লালবাগ মাদ্রাসার শা’নে কিছুই হবেনা। লালবাগ জামেয়া ই ইসলামের মশাল জ্বালিয়ে গোমরাহি, নাস্তিক্যবাদ সহ সকল ইসলাম বিরোধীদের মুখুশ শুধু জাতির সামনে উন্মোচনই করেননি বরং তাদের শক্ত হাতে দমন করে ইসলাম বিরোধীদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে গেছেন বহুকাল থেকেই।

    বাংলাদেশের অসুস্থ রাজনীতির মোকাবিলায় ইসলামী রাজনীতি নিয়ে সারাদেশে লালবাগ জামেয়া ই এগিয়ে এসেছেন। দেশব্যাপী ইসলামী রাজনীতির প্রচার প্রসারে লালবাগ জামেয়া ই সিপাহসালারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বারংবার।



    মূলত বাংলাদেশের আলেম উলামা ও তাওহিদবাদীদের মধ্যে ইসলামী রাজনীতির বীজ বপনে মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ)ও মুফতী ফজলুল হক আমিনী (রহঃ)এ-র ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় চির স্বরণীয় হয়ে থাকবে। এই দুই হজরতের রাজনৈতিক প্রধান কার্যালয় ই ছিল লালবাগ জামেয়া।
    সম্প্রতি লালবাগ জামেয়ার আসাতেজায়ে কেরাম রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকতে পারবেনা মর্মে মজলিশে শূরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ফেসবুকের কল্যাণে দেশবাসীর মতো আমিও জানতে পেরেছি। যদিও এই সিদ্ধান্ত লালবাগ জামেয়ার অফিশিয়াল ভাবে এখনো জানানো হয়নি।
    কোনো প্রতিষ্ঠান তার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিজস্ব এখতিয়ার। এতে অন্যকারো মতামত বা আলোচনা সমালোচনা করার যেমন কোন সুযোগ নেই তেমনি আমারও নেই।

    আমি ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত তাই ইসলামী রাজনীতির জায়গা থেকে কিছু বলা অত্যাবশ্যক মনে করি।
    আমার দীর্ঘ ২৪ বৎসর যাবৎ ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পর্ক। এই ২৪ বৎসর যাবৎ ই দেখে আসছি লালবাগ জামেয়ায় ইসলামী রাজনীতির চর্চা হয়।
    লালবাগ জামেয়া ই দেশবাসীর মতো আমাকেও শিখিয়েছে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার নাম। রাজনীতি ইসলামের ই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
    এখন প্রশ্ন হলো লালবাগ জামেয়া কি ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ সেই রাজনীতি কে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে? কেননা প্রচলিত রাজনীতির চর্চা তো আর লালবাগ জামেয়াতে অবশ্যই হয় না।
    আমি নিজেই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে, লালবাগ জামেয়া ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মতো এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।

    আজ যদি রাষ্ট্রের কোন একটা জায়গা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো তাহলে হয়তো তাদেরকে নাস্তিক কিংবা ইসলামের দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করতে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তো। মজার ব্যাপার হলো ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা রাষ্ট্র কিংবা অন্যকোনো পক্ষ থেকে হতো তখন যারা প্রতিবাদ কিংবা আন্দোলনে মূখ্য ভূমিকা পালন করতো তারা আবার লালবাগ জামেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছে। যা থেকে বুঝা যাচ্ছে ডাল মে কুচ কালা হ্যা।
    তবে ব্যক্তিগত কারো নেতৃত্ব কিংবা কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তা থেকে শুধরানোর পদ্ধতি বের করা ই ছিল মূখ্য।

    বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসলামের উত্থান ঠেকাতে ইসলামের দুশমনদের নতুন পলিসি অর্থাৎ ইসলামের নেতৃবৃন্দদের মাঝে বিভাজন তৈরির একটা চক্রান্ত সম্প্রতি কয়েক বছর যাবত চলছে বিশ্বব্যাপী। যার ঢেউ বাংলাদেশে ও চলছে সম্প্রতি ২/৩ বছর যাবত খুব তোড়জোড়ে। লালবাগ জামেয়া যেহেতু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাট এক ফ্যাক্টর তাই দেশী বিদেশি এজেন্ট গুলো এক হয়ে ইসলামী রাজনীতির মূল শক্তিকে খর্ব করার হীন উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুক্ষ্ণভাবে বহুদূর থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে আমি বিশ্বাস করি।
    মুফতী আমিনী (রহঃ ) থেকে বহুবার শুনেছি যে মাদ্রাসা গুলোতে যদি রাজনীতি না থাকে তাহলে মাদ্রাসা গুলো আলেম উলামাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে ।

    মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান
    যুগ্ম সম্পাদক
    ইসলামী ঐক্যজোট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম