• শিরোনাম


    রোযা সংক্রান্ত ১৫টি আধুনিক মাসআলা [] মুফতি শামছুল আলম

    লেখক: মুফতি শামছুল আলম - শাইখুল হাদিস, জামিয়া মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া ঢাকা। | ০৮ মে ২০২০ | ৭:০০ পূর্বাহ্ণ

    রোযা সংক্রান্ত ১৫টি আধুনিক মাসআলা [] মুফতি শামছুল আলম

    ১/ ভ্যান্টলিন ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙে যাবে। শ্বাসকষ্ট দূর করার জন্য ঔষধটি মুখের ভিতর স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয়, ঐ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কোন কষ্ট থাকে না। উল্লেখ্য, ঔষধটি যদিও স্প্রে করার সময় গ্যাসের মত দেখা যায় কিন্তু বাস্তবে তা তরল ঔষধ। অতএব, মুখের ভিতর স্প্রে করার দ্বারা রোযা ভেঙে যাবে। হ্যাঁ, মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয় তাহলে রোযা ভাঙবে না। (মাজাল্লতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, খণ্ড ১০ ভলিউম ২ পৃষ্ঠা ৩১-৬৫, ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা ২৫৫-২৫৬)

    ২/ মলদ্বার দিয়ে নল ঢুকিয়ে কোন পরীক্ষা করালে যদি নলের সাথে মেডিসিন থাকে তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। অন্যথায় ভাঙবে না।(শামী ৩/৩৬৯)



    ৩/ ডুশ নিলে রোযা ভেঙে যাবে। কারণ ডুশ মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভিতরে প্রবেশ করে। (হেদায়া ১/২২০, ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/৩৭৬)

    ৪/ ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভাঙবে না। তবে বিনা ওজরে রোযার কষ্ট লাঘবের জন্য গ্লুকোজ ইঞ্জেকশন বা স্যালাইন নেয়া মাকরূহ। (আপকে মাসায়েল ৩/২৮৮, জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ১/২৭)

    ৫/ ইনসুলিন নিলে রোযা ভাঙবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/৩৬৭, ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা ২৮৫)

    ৬/ এনজিওগ্রাম করলে রোযা ভঙ্গ হয় না। কারণ, এনজিওগ্রাম বলা হয় হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে একটি বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে (যা হার্ট পর্যন্ত পৌঁছে) ক্যাথেটার ঢুকিয়ে ভালভাবে পরীক্ষা করাকে। মেশিনে কোন মেডিসিন লাগানো থাকলেও যেহেতু তা রোযা ভঙ্গের জন্য গ্রহণীয় রাস্তা ও গ্রহণীয় খালি জায়গায় ঢুকে না তাই তা দ্বারা রোযা ভাঙবে না। (আলমাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ১২৪-১২৫)

    ৭/ কানে ঔষধ তেল ও পানি ইত্যাদি ঢুকলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ, কান থেকে গলা পর্যন্ত কোন রাস্তা নেই। উল্লেখ্য, আগের যুগে রাস্তা আছে ধারনা করা হতো বিধায় সে যুগের কিতাবাদীতে রোযা ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। (আলমাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ১২৪-১২৫)

    ৮/ এন্ডোসকপি করালে রোযা ভাঙবে না। তবে যদি নলে বা বাল্বে মেডিসিন লাগানো হয় তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। তদ্রূপ টেস্টের প্রয়োজনে পাইপের ভেতর দিয়ে পানি বা ঔষধ ছিটালেও রোযা ভেঙে যাবে। (প্রাগুক্ত ১৮৬)

    ৯/ লেপারষ্কপি করলে অর্থাৎ পেট ছিদ্র করে শিক জাতীয় একটি মেশিন ঢুকিয়ে পেটের ভিতরের কোন অংশ গোস্ত ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য বের করে আনলে এতে রোযা ভাঙবে না। তবে শিকের মধ্যে ঔষধ লাগানো থাকলে এবং তা গলদ্বার থেকে মলদ্বার পর্যন্ত যে কোন জায়গায় পৌঁছালে রোযা ভেঙে যাবে। (প্রাগুক্ত ১২৪-১২৫)

    ১০/ নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করলে রোযা ভেঙে যাবে। এটি এরোসল জাতীয় একটি ঔষধ যা হার্টের রোগীরা দুই তিন ফোঁটা জিহবার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখেন। এতে ঐ ঔষধটি যদিও শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। তথাপি ঔষধের কিছু অংশ গলায় পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব, এতে রোযা ভেঙে যাবে। তবে যদি ঔষধটি ব্যবহারের পর না গিলে থুথু দিয়ে ফেলে দেয়া হয় তাহলে রোযা ভাঙবে না। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা ২৭৭)

    ১১/ রোযাবস্থায় অক্সিজেন গ্রহণ করা হলে যদি তার সাথে অন্য কোন মেডিসিন থাকে তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। আর যদি অন্য কোন মেডিসিন না থাকে তাহলে রোযা ভাঙবে না। (জাদীদ ফেকহী মাসায়েল ১/১৮৮)

    ১২/ পেশাবের রাস্তা ও যোনিদ্বারে ঔষধ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙবে না। (আলমাকালা ১১৪-১১৫)

    ১৩/ রক্ত দিলে ও রক্ত নিলে কোন অবস্থাতেই রোযা ভাঙবে না। তবে এত অধিক রক্ত দেয়া যাতে রোযা রাখতে কষ্ট হয় এটা মাকরূহ। (শামী ৩/৪০০)

    ১৪/ রোযাবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করতে পারবে। অর্থাৎ পেশাব আটকে যাওয়ার রোগে ক্যাথেটার ব্যবহার করা যায়। এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। (মাজাল্লা, সংখ্যা১০, ২-৪৫৪)

    ১৫/ রোযাবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। চাই মস্তিষ্কে ঔষধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক। চাই ঔষধ তরল হোক বা শুষ্ক। কেননা মস্তিষ্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাস্তা নেই। তাই মস্তিষ্কে কোন ঔষধ দিলে তা গলায় পৌঁছে না। -(আলমাকালাতুল ফিকহিয়্যাহ ১১৪, ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা ২৫৪)

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম