• শিরোনাম


    রোজার ফজিলত ও উপকারীতা [] হাবীব আনওয়ার

    লেখক: হাবীব আনওয়ার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি- আওয়ার কণ্ঠ | ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ১০:০৫ অপরাহ্ণ

    রোজার ফজিলত ও উপকারীতা [] হাবীব আনওয়ার

    হে মুমিনরা! রোজা তোমাদের উপর ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূরবর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো!(সূরা বাকারা ১৮৩)
    দীর্ঘ একটি বছর পরে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে মুমিনের দরগড়ায় এসেছে পবিত্র রমজানুল মোবারক। রমজান আল্লাহ তাআলার পক্ষে থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার। বান্দা যেন খুব সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এজন্য আল্লাহ তাআলা রমজানের মত বরকতময় মাস নাজিল করেছেন। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকী হতে বলেছেন। মুত্তাকী বলা হয় তাকে যিনি গুনাহ থেকে দূরে থাকেন। আল্লাহর নাফরমানী থেকে বেঁচে থাকেন। আল্লাহ তাআলার সকল হুকুম আহকাম সঠিকভাবে পালন করেন। আল্লাহ বলেছেন, নামাজ পড়, হজ কর, যাকাত দাও, রমজানের রোজা আদায় কর। অতএব এগুলো পালন করা হচ্ছে মুত্তাকীদের আলামত। আর এর উল্টা করা হচ্ছে আল্লাহর নাফরমানী। আর রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ নিজেকে নফসের প্রবৃত্তি থেকে হেফাজত করবে। রোজা রাখার করণে, মানুষ কিছু সময় ভুখা থাকেন। যার ফলে প্রবৃত্তির চাহিদা হ্রাস পায়। গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দিন। শয়তানকে আবদ্ধ করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
    সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৮
    অন্য হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়।
    সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৯
    তবে বান্দাকে না খাওয়ায়ে রেখে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর তাআলার উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহর উদ্দেশ্য যদি না খাওয়ানো হতো তাহলে আল্লাহর রাসূল সা. হাদিসে সাহরি ও ইফতারের ফজিলত বর্ণনা করতেন না। সাহরিকে আল্লাহর রাসূল সা. বরকত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, তোমরা সাহরি খাও, সাহরি খাওয়ার ভিতর বরকত রয়ে গেছে।
    অন্য হাদিসে সাহরি খাওয়াকে আমাদের ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের রোজার মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। হযরত আমর ইবনুল আস রা.থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাদের ও কিতাবীদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হল সাহরি খাওয়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৪০)
    তাই ক্ষুধা না লাগলেও সাহরি খাওয়া উচিত। অন্তত একটি খেজুর অথবা এক গ্লাস পানি হলেও সাহরি খাওয়া। সাহরি খাওয়ার গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ইফতার করার প্রতিও হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এবং দ্রুত ইফতার করাকে কল্যাণকর বলা হয়েছে।
    হযরত সাহল ইবনে সা’দ রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।
    সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯৫৭
    ইফতারের ফজিলত বর্ণনা করতে আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন,

    রোজাদারের জন্য সুসংবাদ!
    হযরত সাহল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।
    সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৬
    হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্‌রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদাত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০১



    রোজার রাখার অর্থ হচ্ছে আত্ম সংযম করা। নিজেকে সকল প্রকার পাপাচার থেকে বিরত রাখা। নফসের ধোঁকা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। আর রমজান আমাদের থেকে এটাই চাচ্ছে। রমজানের আহবানও এটা আমরা যেন রোজা রেখে সকল প্রকার পাপাচার থেকে দূরে থেকে তাকওয়া অর্জন করতে পারি। রোজাও রাখলাম আবার নাজায়েজ কাজেও লিপ্ত হলাম, আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, তার উপবাস থাকার কোন দরকার নেই।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা

    বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণার যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলেছেন, যদি সুস্থ থাকতে চাও, তাহলে রোজা রাখো। উপবাস থাকো। ড. আলেগ হিগই বলেছেন, রোজা রাখার ফলে মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও যুক্তিশক্তি পরিবর্ধিত হয়। প্রীতি, ভালোবাসা, সহানুভূতি, অতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তির বিকাশ ঘটে। ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি প্রভৃতি বেড়ে যায়। এটা খাদ্যে অরুচি ও অনিচ্ছা দূর করে। রোজা শরীরের রক্তের প্রধান পরিশোধক। রক্তের পরিশোধন এবং বিশুদ্ধি সাধন দ্বারা দেহ প্রকৃতপক্ষে জীবনীশক্তি লাভ করে। যারা রুগ্ন তাদেরকেও আমি রোজা পালন করতে বলি।’’

    বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড নারায়াড বলেন, ‘রোজা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্ক রোগ নির্মূল করে দেয়। মানবদেহের আবর্তন-বিবর্তন আছে। কিন্তু রোজাদার ব্যক্তির শরীর বারংবার বাহ্যিক চাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোজাদার ব্যক্তি দৈহিক খিচুনী এবং মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয় না।’’

    ডাক্তার ক্লীভ তার পেপটিক আলসার নামক গবেষনা মুলক পুস্তকে লিখেছেন, ভারত, জাপান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ নাইজেরিয়াতে অন্যসব এলাকার তুলনায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এই পেপটিক আলসার রোগের প্রকোপ অনেক কম। কেননা তারা সিয়াম পালন করে থাকেন। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেছেন- “সিয়াম কোন রোগ সৃষ্টি করে না”।

    এছাড়াও রোজায় অসংখ্য উপকারিতার কথা বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন।

    মোটকথা : রোজা মানব জাতির জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ নিয়ামত। দৈহিক-মানসিকসহ দুনিয়ায় ও আখেরাতের উত্তম বিনিময় আল্লাহ দান করবেন। আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।

    লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম