• শিরোনাম


    রবের অনুপম সৃজন কক্সবাজার [] শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী

    লেখক: শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী, আওয়ার কণ্ঠ প্রতিনিধি | ০৩ নভেম্বর ২০২০ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

    রবের অনুপম সৃজন কক্সবাজার [] শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী

    সকল ৮ বাজে আমরা চট্টগ্রাম স্টেশন হতে বাসে উঠলাম। বাস চলতে লাগল দূর্বার গতিতে, আপন পথে।

    চট্টগ্রাম এলাকাটা ভিষণ সুন্দর। প্রকৃতির পূরিপর্ণ রূপে ভরপুর। রাস্তার উভয় পাশে বিশাল বড় বড় পর্বত মালা দানবের মতো দন্ডায়মান হয়ে আছে।
    আমাদের গাড়িটা পাহাড়ের বুক চিরে তৈরী গিরি পথে অগ্রসর হচ্ছে।
    পাহাড়ের গায়ে হরেকরকমের বৃক্ষ সারি সারি হয়ে দারিয়ে আছে। রঙ বে রঙের পাতার ছোট বড় অনেক গাছ সেখানে বিদ্যমান।



    আমি ঐ গভীর অরণ্যের রঙিন ফুলের পাপরিতে ছোঁয়তে হস্ত অগ্রসর করি।
    কিন্তু আমার দ্বারা তা অসম্ভব হয়ে উঠে।
    কেননা আমি বাসে উপবিষ্ট। বারংবার প্রতারিত হচ্ছি।

    আমার নয়ন মুগ্ধ হয়ে প্রভুর সৃজন সমূহ দর্শন করে তৃপ্ত হচ্ছে
    পাহাড়ের চূড়া ই মাঝে মাঝে দেখা যাই একটি কুঁড়েঘর,, ঐখানের বাসিন্দাদের জীবনযাপন নিয়ে আমার আর বাবার মধ্যে কথোপকথন হচ্ছিল।
    পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার সৌন্দর্য আমার নেএপল্লভ উপলব্ধি করছে।

    বাসটি চলে গেল বহু দূর। অদূরেই কক্সবাজার স্টেশন। তাই আমরা নিজ নিজ জিনিস গুলো গুছিয়ে নামার জন্য অপেক্ষামান।

    বাস থেকে নেমে আমরা বাসার সন্ধানে বের হয়ে গেলাম। কক্সবাজারের প্রসিদ্ধ “হোটেল লং বিচ”এ আমরা বাসা বুকিং করলাম। গন্তব্যে পৌঁছে আমি মহা খুশি।
    আরো বিশেষ কারণ হল।এরকম বিশাল সুন্দর হোটেল আমি ইতি পূর্বে কখনো দেখেনি,,,তাই আনন্দের মাত্রা টা অন্যদের চেয়ে বিপুল পরিমাণ।

    দৈর্ঘ্য পথ যাত্রা করে আমাদের দেহে ক্লান্তি এসে যাই। তাই দ্বি-প্রহরের আহর কার্য সমাপ্তি করে ক্ষুধার কষ্ট নিবারন করলাম।
    তারপর শ্যযায় চলে গেলাম।

    ৫ টার সময় আমরা নিদ্রা হতে জাগ্রত হলাম। আমার শিরা-উপশিরায় বয়ে বেড়াচ্ছে,,কখন সমুদ্র সৈকত এর তীরে পৌছাবো?কখন সচক্ষে দর্শনের তৃপ্তি লাভ করব??
    তাই আছরের সালাত আদায় করে।
    সুগন্ধা সি বিচে চলে আসলাম।
    বাবাকে একটি সিটে বসিয়ে আমরা সামনে অগ্রসর হতে লাগলাম।

    চারদিকে শুধু জল আর জল,উভয় নয়ন যতটুকু অগ্রসর হয় পানি বিহীন আর কিছু দেখেনা। মনে হয় আকাশের সীমানা ঐ কুলেই সমাপ্তি ঘটেছে।
    সমুদ্র সৈকত এর অপরুপ চিত্র দেখে আমরা মনোমুগ্ধ।আকাশ ছোঁয়া ঊর্মি মালা সমূহ তীরে এসে নিমিষেই হারিয়ে যাই। উত্তাল তরঙ্গ সমূহ সমুদ্রে খেলাধুলা করছে।
    ঢেউ এর গর্জনে আমাদের অনুভতিকে আরো উজ্জ্বল করে তুলছে।

    সমুদ্রের মায়াবী কন্ঠের ডাক দর্শক কে তার প্রতি আরো আকৃষ্ট করে তুলছে।
    আমাদের কর্ণদ্বয় কেবল সু-সু শব্দ উপলব্ধি করেছে। বয়ে বেড়াচ্ছে হিমিল বাতাস।আমাদের মতো শত শহস্র পর্যোটক সর্বদা কক্সবাজারে উপস্থিত থাকে।

    আজ আমরা জলে নামবো না, কেননা আমার ঐখানে তিনদিন অবস্থান করব। তাই সমুদ্রের তীর ঘেষে হাটতে লাগলাম।সামুদ্রিক লবণাক্ত জলে আমাদের পা সমূহ কে গোসল করিয়ে দিচ্ছে.!!!

    এদিকে কিরণমালী অনেক টা মন্দীভূত হয়ে অস্তাচলে রক্তিম আভা ছাড়িয়ে দিয়েছে।
    সন্ধ্যার আগমনী বার্তা নিয়ে দখিনা সমীরণ কেবলই ছুটছে পাগলীবেশে সব ওলট-পালট করে। সূর্যের রক্তিম আভা টা কক্সবাজারের সৌন্দর্যতা আরো বহু গুনে বৃদ্ধি করে তুলেছে।

    দ্বিতীয় দিবস:
    প্রভাত হওয়ার তেমন বাকি নেই। শেষ রজনীর পাখিরা ছুবহে সাদেকের আগমনী বার্তা শুনিয়ে দিচ্ছে। উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে খানিক আগে। এখন প্রবাহিত হচ্ছে হীমবায়ু।পাহাড়ি এলাকায় এমনটিই হয়ে থাকে। প্রকৃতি নিদ্রাপুরীতে অচেতন। পাখির কল-কাকলীতে ঘুমন্ত প্রকৃতি আঁখি মেলছে।

    আধার কেটে আলো প্রকাশ পাচ্ছে। এতে আমার আনন্দের সীমা রইল না। ফজরের নামাজ আদায় করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।
    এমন সময় পরিচিত একটি ধ্বনি বাজছে উঠেছে কর্ণকুহুরে। তারপর আমি ফোন টা হাতে নিয়ে দেখি বড় ভাইয়া শেখ মুহতাসিম বিল্লাহ কল করেছে। ওনি বাড়ি থেকে আমাদের তদারকি করছে।

    এই অপরিচিত শহরে আমাদেরকে আগ্রাহও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। ইতি পূর্বে ভাইয়া দুইবার কক্সবাজারে এসেছিল। তাই এখানের সব কিছু ই উনার নিকট পরিচিত। আমাকে বল্লো..!!
    কক্সবাজারে প্রভাতের রবি উঠার সৌন্দর্যতা অবলোকন করার জন্যে। তাই
    বাবা আর আমি। বাকি বিল্লাহ ভাই এর অগোচরে চলে গেলম। উনি এখানো নিদ্রা আচ্ছন্ন।

    সুগন্ধা সি বিচে আসলাম। প্রকৃতি এখন নিরবতা অবলম্বন করছে। ঐ খানে লোকজন এর সমাগম ও অল্প। শীতল হাওয়া প্রবাহ হচ্ছে,
    কাঁচা সোনালী রোদ নেএপল্লবের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে যেন, আমাদের দেখছিল।নিশি কেটে ভোর হতে লাগল।

    আমরা সমুদ্রের তীর ঘেষে হাটতে লাগলাম। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ এখন সাভাবিক। চিকচিক বালিতে হরেকরকমের ঝিনুক পাওয়া যাচ্ছিল। আমরা ঝিনুক গুলো কুড়াতে লাগলাম।

    সূর্যটা পূর্ব গগনে মাথা চাড়া দিয়ে, উঠতে লাগল।তার নিস্তেজ আলোতে পুরো সৈকত উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল, সমুদ্রের জল হতে রবিটা উদিত হয়েছে। আমি প্রভুর এই নিখুঁত অনুপম সৃজন দর্শনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। হৃদয় জুড়ে ভালবাসার আলপনা বয়ে বেড়াচ্ছে। আমার আর বাবার মধ্যে কথোপকথন হচ্ছিল এই সৈকত নিয়ে,,, এই সবর্ণ সুযোগে টা প্রভুর জিকিরে কাটাতে লাগলাম।

    আমরা হাঁটতে হাঁটতে বেশ দূর পারি জমিয়েছি,,, কলাতলি সি বিচে গিয়ে যাত্রা সমাপ্তি করলাম।
    রাস্তার উভয় পাশে ঝিনুক মার্কেট শত-শহস্র রকমের ঝিনুক পাওয়া যাই সেখানে ।একটু আগ্রসর হয়ি দেখি শুটকি ও আচারের বিশাল দোকান। আমার কিছু কেনাকাটা করে বাসায় চলে আসলাম…!!!

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম