• শিরোনাম


    যে কারণে কাদিয়ানীরা কাফের -: মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    লেখক: মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ

    যে কারণে কাদিয়ানীরা কাফের   -: মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    কাদিয়ানীদের নিয়ে ইদানীং অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। দেশজুড়ে গ্রামে গন্জে শহরে বন্দরে মাঠেঘাটে সর্বত্র শ্লোগান হচ্ছে- কাফের কাফের কাদিয়ানীরা কাফের, নবীর পরে নবী নাই সংসদে আইন চাই।
    এ ব্যাপারে একজন মুসলিম হিসেবে যা যা জানা প্রয়োজন।

    ১) কাদিয়ানী কারা?



    এরা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামের এক লোকের অনুসারী। ১৮৩৫ সালে ভারতের অমৃতসারের কাদিয়ানে তার জন্ম। এ লোক প্রথমে নিজেকে ইসলামের একজন মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) দাবি করে। তারপর দাবি করে সে আল-মাহদী, তারপর দাবি করে সে ঈসা আলাইহিস সালাম। এবং এখন তারা বলে “হযরত মুহাম্মাদ মোস্তাফা সা.এর ঘোষিত হাদিস অনুযায়ী তিনিই মাহদি, তার মাঝে সব গুনাগুন পাওয়া গেছে, এবং তিনি নতুন কোনো নবুয়ত দাবী করেননি, বরং তিনিই প্রতিশ্রুত ঈসা মাসীহ” এবং শেষমেষ সে নিজেকে একজন নবী দাবি করে। সহজ ভাষায় মির্যা গোলাম এক ভন্ড নবী। আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর এবং তার অনুসারীদের ওপর।

    ২) কাদিয়ানীরা কী বিশ্বাস করে?

    তারা বিশ্বাস করে: মির্যা গোলাম নবী। তার কাছে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম ওহি নিয়ে আসতেন। মির্যার সহযোগীরা মর্যাদার দিকে দিয়ে সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর মতো। এরা বিশ্বাস করে, যারা মির্যা গোলামকে নবী হিসেবে মানে না, তারা সবাই কাফের। বর্তমান সময়ে কোন জিহাদ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী, এটা তারা মানে না।

    ৩) তারা তো বলে মির্যা গোলামকে তারা নবী মনে করে না, আল্লাহর ওলি মনে করে’?

    এটা তাদের একটা স্ট্র্যাটিজি। এরা জানে যে সরাসরি এ কথা বললে কেউ তাদের কথা বিশ্বাস করবে না। তাই তারা প্রথমে আপনাকে এ ধরনের কথাবার্তা বলবে। তারপর আস্তে আস্তে নিজেদের আক্বিদা পুশ করবে। মিথ্যা, প্রতারণা এবং ধীরে ধীরে ইনফিলট্রেশান, শুরু থেকেই এদের মেথডোলজি ছিল। বর্তমানে এরা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের বিকৃত অনুবাদ ব্যবহার করে নিজেদের কুফর বিশ্বাসকে বৈধতা দিতে চায়।

    ৪) কাদিয়ানীরা কি মুসলিম?

    কাদিয়ানীরা কাফের-যিন্দিক। কোন সন্দেহ ছাড়াই এরা কাফের। যেরকম ভন্ড নবী মুসাইলামা আল-কাযযাব এর অনুসারীরা কাফের। যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে শেষ নবী মানে না, সে অবশ্যই কাফের। কাদিয়ানীরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত কোন ধারা না। কাদিয়ানীদের সাথে আমাদের মতপার্থক্য কোন ফিকহি মাসআলা, কিংবা আক্বিদার সূক্ষ ইস্যু নিয়ে না। তাদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব সেই মানুষকে নিয়ে সমগ্র দুনিয়ার চাইতে যিনি আমাদের কাছে প্রিয় – যিনি আমাদের তাওহিদ শিখিয়েছেন, যিনি আমাদের জন্য নিজের রক্ত ঝড়িয়েছেন। কাদিয়ানি কাফেরদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব আমাদের প্রিয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইস্যু কোন ছোট ইস্যু না।

    ৫) এরা উৎপত্তি কিভাবে হয় আর এদের এতো প্রভাব কেন?

    কাদিয়ানীদের উত্থানের পেছনে ব্রিটিশ কলোনিয়ালদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। মির্যা গোলাম এক অর্থে ব্রিটিশদের এজেন্ট ছিল, এবং তার প্রচারিত প্রধান শিক্ষাগুলোর একটা ছিল ‘বর্তমান সময়ে কোন জিহাদ নেই। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যাবে না।’ শুরু থেকেই ব্রিটিশরা কাদিয়ানীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। পরবর্তীতে অ্যামেরিকানরাও এ লিস্টে যুক্ত হয়েছে। আজো এই বাদামী চামড়ার কাফেররা সাদা চামড়ার কাফেরদের অত্যন্ত প্রিয়। এদের পক্ষে ব্রিটেন-অ্যামেরিকা থেকে নিয়মিত লবিয়িং করা হয়। আর এদের বাংলাদেশে শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে। প্রাণ-আরএফএল কোম্পানি যেমন কাদিয়ানীদের কোম্পানি।

    ৬) এদেরকে কাদিয়ানী বলা উচিৎ নাকি আহমাদী?

    তাদের কাদিয়ানী বলা উচিৎ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি নাম হল আহমাদ। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসম্মান করে, তাঁর আনা ওহিকে অবিশ্বাস করে, তাঁর প্রকৃত দ্বীনকে পরিবর্তন করতে চায় তাদেরকে তাঁরই সম্মানিত নামে ডাকা কোন ভাবেই সমীচীন না।

    ৭) এদের ব্যাপারে আমাদের মনোভাব কী হওয়া উচিৎ?

    এরা কাফেরদের মধ্যেও নিকৃষ্ট ধরণের কাফের। কারণ এরা মুসলিম হবার দাবি করে ইসলামকে বিকৃত করে, এবং ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু ক্রুসেইডারদের পক্ষ হয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করে। সব অর্থেই এরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফের। আমাদের মনোভাব এ বাস্তবতার আলোকেই ঠিক করতে হবে।

    ৮) সর্বশেষ কাদিয়ানীদেরকে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সংসদে কাফের ঘোষণা করতে হবে।

    বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী না মেনে মির্জা গোলামকে নবী মানার কারণে কাদিয়ানীরা কাফের। তাদের সাথে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারেনা। এরা বিশ্বনবীর দুশমন, মুসলমানদের দুশমন, দেশ ও জাতির দুশমন।
    বাংলাদেশ ৯৫%মুসলমানদের দেশ, অলি আউলিয়ার দেশ, হক্কানী উলামায়ে কেরামদের দেশে সরকারের নিকট মুসলমানদের ঈমানের দাবী কাদিয়ানীরকে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সংসদে কাফের ঘোষণা করতে হবে।
    দেশে মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু, বুদ্ধ, খৃষ্টানরা তাদের নিজ নিজ ধর্মাবলম্বীর পরিচয়ে যেভাবে বসবাস করে ঠিক সেইভাবে কাদিয়ানীরাও কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বীর পরিচয়ে বসবাস করবে, মুসলমানদের পরিচয়ে নয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম