• শিরোনাম


    যার অবদানে কাতারের জাতীয় দিবস ১৮ই ডিসেম্বর :-কে.এম.সুহেল আহমদ

    লেখক: কে.এম.সুহেল আহমদ, কাতার প্রতিনিধি | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

    যার অবদানে কাতারের জাতীয় দিবস ১৮ই ডিসেম্বর :-কে.এম.সুহেল আহমদ

    “তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
    তোমাকে পাওয়ার জন্যে
    আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
    আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
    তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,”

    জনৈক কবির এ কবিতায় একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জনের একটি পূর্বাভাস ফুটে উঠেছে। কোন দেশ স্বাধীনতা লাভ করে রক্তগঙ্গায় ভেসে আবার কোনটি রক্তপাত ছাড়া।



    সেরকম রক্তপাত ছাড়াই ১৯৭১ সালে গ্রেট বৃটেনের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেছিল বিশ্বের একমাত্র সর্বোচ্চ আয়ের ধনী দেশ মধ্য প্রাচ্যের ‘কাতার’।
    জানা যায়।

    ২০০৭ সালের জুনে কাতারের আমীর কর্তৃক ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত ৩ সেপ্টেম্বরকে প্রতিবছর প্রতিপালন করা হতো কাতারের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে।
    কিন্তু যার অবদানে ‘১৮ ডিসেম্বর ‘ কাতারের জাতীয় দিবস হিসেবে আত্ম প্রকাশ ঘটে তিনি আর কেউ নন, সকলের প্রীয় কির্তীমান ব্যাক্তি বাংলাদেশ মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের শেষ বিন্দু শাহপরীর দ্বীপের ড. হাবিবুর রহমান।

    ৬৪ বছর বয়সী ডক্টর হাবিবুর রহমান কাতারের আমিরের সচিবালয়ের একমাত্র ইতিহাস বিশেষজ্ঞ (হিস্টরিক্যাল রিসার্চ এক্সপার্ট) হিসেবে ১৯৮২ সাল থেকে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
    দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভূমিকা রাখছেন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশ কাতারের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গবেষণা-কর্মে।

    কাতারের জনগণ আগে ৩ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীনতা দিবস’ উদ্যাপন করতেন। হাবিবুর রহমান কাতারের বহু বছরের ইতিহাস গবেষণা করে বের করলেন, ১৮ ডিসেম্বর হলো কাতারের ‘জাতীয় দিবস’। ২০০৬ সালের মে মাসে তিনি কাতার সরকারের কাছে তাঁর গবেষণালব্ধ তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন। কাতার সরকার ৩ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা দিবস বাতিল করে ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস নির্ধারণ করে। ২০০৭ সাল থেকে কাতারে ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। স্বাধীনতা দিবস এখন আর উদ্যাপিত হয় না। এ জন্য কাতারের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের হাবিবুরকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

    ড. হাবিবুর রহমানের জন্ম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ছোট একটি ওয়ার্ডের সমুদ্র উপকূলের ছোট্ট জনপদের এক সাধারণ পরিবারে।
    তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হয় শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্স পাস করেন। ১৯৭২-৭৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৬-৭৭ সালে কানাডার অটোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি পান।

    ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি কাতারের আমিরে দেওয়ানের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান।

    হাবিবুর রহমানের বাবা মরহুম হাজি নবী হোসাইন ছিলেন দানশীল লোক। মা মরহুম জমিলা খাতুনও উদার মনের মানুষ ছিলেন। পাঁচ ভাই, তিন বোনের মধ্যে হাবিবুর রহমান তৃতীয়। তাঁর স্ত্রী কাতারের ব্রিটিশ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তাঁদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে ও এক মেয়ে কাতারের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। দুই মেয়ে সেখানেই লেখাপড়া করছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম