• শিরোনাম


    যাঁদের দানে সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর [পর্ব-২]

    এস এম শাহনূর | ০৮ এপ্রিল ২০২১ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

    যাঁদের দানে সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর [পর্ব-২]

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বনামধন্য জেলা প্রশাসক জনাব হায়াত-উদ-দৌলা’ খাঁনের আন্তরিকতা ও অনুমোদনক্রমে শহরের দক্ষিণ মোড়াইলের এ গফুর রোডের পশ্চিম প্রান্তে (সহকারী কমিশনার সদর) সাবেক ভূমি অফিসটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরের স্থান হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬৫ শতক জমির উপর প্রাথমিকভাবে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট কাচারী অফিসটিকে জাদুঘরে রূপ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে জাদুঘর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ টিমের দিকনির্দেশনায় ফার্নিশিং ও ডেকোরেশনের কাজ চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরের স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষার কারিগর, লেখক ও লোকজ সংস্কৃতির গবেষক জহিরুল ইসলাম স্বপনের অগ্রণী প্রচেষ্টায় কিছু শিল্প সংস্কৃতিমনা মানুষের সহযোগিতায় জাদুঘরের জন্য আহরিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ও লোকজ ইতিহাস ঐতিহ্য নির্ভর নানান মূল্যবান উপকরণ। শো কেসে কিংবা ঘরের কোণে পড়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন,লোকজ উপকরণ এবং ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এরকম উপকরণ জাদুঘরে দান করে যে কেউ অবদান রাখতে পারবেন।

    ➤জাদুঘরের জন্য গৃহীত সম্পদের নাম ও বিবরণ:
    ১৯৫৮ খ্রি. তিপরা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘আনসার ক্লাব’ এর ফাউন্ডেশন ও উদ্বোধনী স্টোন।



    ➤ জাদুঘরে সংরক্ষণের কারণ:
    ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ জেলার আনসার সদস্যদেরও অসামান্য ভূমিকা ছিল। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক আনসার ক্লাবটির অস্তিত্ব আজ শুধুই ইতিহাস।
    ১৯৫৮ সালের ২৩মার্চ এস.এস খান(সি.এস.পি)এস.ডি.ও  ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনসার ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এবং ৩০ডিসেম্বর ১৯৫৮ সালে এ.এস.চৌধুরী, ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট এন্ড ডিস্ট্রিক কমান্ড্যান্ট অব আনসারস (TIPPERA) এর উদ্বোধন করেন।বর্তমান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল অফিস সংলগ্ন স্থানে ক্লাবটির অস্তিত্ব ছিলো বলে জানা যায় ।
    এই ঐতিহাসিক নির্দশন বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রেরণা যোগাবে বলে আশা করা যায়।

    ➤নিদর্শনের ধরন:
    ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন

    ➤সংরক্ষক/দাতার পরিচয়:
    সাংবাদিক মো.আশিকুল ইসলাম
    (বাংলাভিশন টেলিভিশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি)।

    ➤সংগ্রাহক: ফেরদৌস রহমান,
    সাধারণ সম্পাদক উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদ।

    ➤সংগ্রহের তারিখ:
    ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

     

    জাদুঘরের জন্য গৃহীত সম্পদের নাম ও বিবরণ:
    একটি বাঁশের বাঁশি।


    ➤দাতার নাম/পরিচয়:
    আঁখি আক্তার।সে বলেছিল, আমরা শিশু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরে আমি একটি বাঁশি প্রদান করতে ইচ্ছুক।আঁখি শ্যামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সাবেক নেতা।

    ➤গ্রহীতা:
    জনাব মোহাম্মদ রুহুল আমিন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক)
    ➤নেপথ্যে:
    মো হাবিবুর রহমান শ্যামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশুর উপহার দেওয়া একটি বাঁশি জমা দিচ্ছেন।

    ➤সংগ্রহের তারিখ:
    ২৪ মার্চ ২০২১ইং।

    জাদুঘরের জন্য গৃহীত সম্পদের নাম ও বিবরণ:
    ১১৫ বছরের পুরাতন পিতলের খাদা।
    পান এবং পানমশলা রাখার পাত্র।
    টিপ টিপ আলো জ্বালাবার উপকরণ ও পিতলের কুপি।

    ➤জাদুঘরে সংরক্ষণের কারণ:
    সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবতার উদ্দেশ্যে অন্নভোগ দেয়ার  জন্য পিতলের খাদা ব্যবহার করতো। বিজলী বাতির ঝলকানিতে হারিয়ে গেছে মাটি ও পিতলের কুপি। এই লোকজ নিদর্শনগুলো বিলুপ্তির পথে। অতীত বিনির্মাণে লোকজ গবেষণায় ঋদ্ধ উপকরণ সমৃদ্ধ করবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর।

    ➤দাতার পরিচয়:
    আরতি ভৌমিক,
    ৬৬১ কান্দিপাড়া,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    ➤সংগ্রহে:
    ফেরদৌস রহমান।

    ➤সংগ্রহের তারিখ:
    ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং

    জাদুঘরের জন্য গৃহীত সম্পদের নাম ও বিবরণ:
    চিত্রশিল্পী দিনাক রহমান অচির ‘চিত্রশিল্প ও মৃৎশিল্পের নিদর্শন’।

    ➤চিত্রশিল্পী দিনাক রহমান অচির পরিচয়:
    সৃষ্টিশীল প্রাণচঞ্চলা এক চিত্রশিল্পীর নাম দিনাক রহমান অচি।২০০৯ খ্রি.স্বেচ্ছায় মহাজীবন ত্যাগী অচি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফাইন আর্টসে স্নাতকোত্তর।তাঁর একাধিক চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে ঢাকাতে।

    ➤দাতার পরিচয়
    কবি রোকেয়া রহমান কেয়া
    উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদের সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য। ‘ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু’ নামক ইতিহাস গবেষণামূলক বইয়ের লেখক। তিনি চিত্রশিল্পী দিনাক রহমান অচির মা।টেংকের পূর্বপাড়, পশ্চিম পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর।

    ➤সংগ্রহে:
    জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন ও ফেরদৌস রহমান।

    ➤সংগ্রহের তারিখ:
    ৩১ মার্চ ২০২১

    জাদুঘরের জন্য গৃহীত সম্পদের নাম ও বিবরণ:

    গরুর কাপাইর,মাছধরার আন্তা,ভাত নেড়ে দেওয়ার ডেউয়া,তরকারি/ভাত ঢেকে রাখার সরা বা হরা।

    ➤নিদর্শনের ধরন:
    লুপ্তপ্রায় স্মৃতিচিহ্ন

    ➤দাতার নাম/পরিচয়:
    ফৌজিয়া আক্তার,বাদৈর,কসবা
    আন্তা বাদৈর গিনু মিয়ার বাড়ি থেকে  সংগৃহিত।

    ➤সংগ্রহে:
    জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন

    ➤সংগ্রহের তারিখ:
    ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১।

     

    লেখক: এস এম শাহনূর
    কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম