• শিরোনাম


    যাঁদের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ধন্য

    লেখক: এস এম শাহনূর | ০৩ নভেম্বর ২০২০ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    যাঁদের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ধন্য

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে রঘুনন্দন পাহাড়ের কোলে ঐতিহাসিক জনপদ কসবার অবস্থান।আরবী কস্বাহ্ থেকে ফার্সি কসবা শব্দের উদ্ভব।গ্রামের চেয়ে বড় কিন্তু শহরের চেয়ে ছোট বসতি বা সমৃদ্ধ গ্রাম বোঝাতে এক সময় কসবা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
    কসবা ছিল সুলতানি আমলের উপবিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রশাসনিক উপ-বিভাগগুলোর মধ্যে ইকলিম, ইকতা, মুকতা, ইরতা, সোয়ার ও কসবা নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।সুলতানি আমলের ‘কসবা’ কে জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কসবার দায়িত্বে ছিলেন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন কাজি ও একজন কতোয়ালী। মূঘল আমলে অধিকাংশ কসবা ই পূর্বের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।ব্রিটিশ ভারতে কসবার নাম ছিল কমলাসাগর। কসবা তথা কমলাসাগর ছিল ত্রিপুরা জেলার একটি থানা। ব্রিটিশ ভারতে ত্রিপুরা ও পার্বত্য ত্রিপুরা একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৭টি কসবার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আজ আমি পাঠক সমীপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পরিচয় তুলে ধরবো।

    প্রায় দুইশত দশ বর্গ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ সমভূমি,নিচু ভূমি,জলাধার,উচু নিচু পাহাড়,লাল মাটির পাহাড়,নদী -নালা,খাল বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি কসবা উপজেলা।তিতাস,সালদা, সিনাই,সাংগুর,বিজনা,কালিয়ারা,হাওড়া,রাজার খাল,অদের খাল,বুড়ি প্রভৃতি নদী এই প্রাচীন জনপদের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।



    ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, মহারাজ প্রতীত আনুমানিক পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কৈলাগড় (কসবা) অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন। কৈলাস চন্দ্র সিংহের রাজমালা গ্রন্থে উল্লেখিত ১৮৪ জন রাজার মধ্যে মহারাজপুত্র প্রতীত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের ১১৪ তম রাজা।গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে সর্বপ্রথম মহারাজ প্রতীত কৈলাগড়ে ত্রিপুরার অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।তবে পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে মহারাজ প্রতীত ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে কসবা ত্যাগ করেন। এ পূর্বাঞ্চলে খলংমা, ধর্মনগর, কৈলাসহর ও কৈলাগড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল।কৈলাগড় ছিল কসবার আদি নাম।কসবা অর্থ উপশহর বা সমৃদ্ধ গ্রাম।কিল্লাগড় থেকে বিবর্তিত হয়ে কৈলাগড়। বর্তমান বিজনা নদীর (বিজয়) পূর্ব পাড়ে টিলাময় অঞ্চলে ত্রিপুরী সৈন্যরা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে কিল্লা বানাতো। কিল্লাগড় মানে বিল্লাদুর্গ। পশ্চিম পাড়ে আজকের কেল্লাবাড়ি, নাপিতের বাজার, মইনপুর, শাহপুর এ অঞ্চলে কিল্লা তৈরি করেছিল মুঘল সৈন্যরা। জানা যায় ১৭১৭ সালের পর কসবা নামের উৎপত্তি হয়।।

    ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরার মহারাজ কীরিট কিশোর মানিক্য বাহাদুর পুনরায় কসবাতে অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।তিনি সে সময় ইংরেজ ও মোঘল শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।বীরবিক্রমে রাজা অত্র এলাকার জনগণের স্বাধীনচেতা মনোভাব অক্ষুন্ন রেখে ছিলেন।

    ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়।যাকে ইতিহাসে সিপাহি বিদ্রোহ বলা হয়েছে। তখন ত্রিপুরার মহারাজ ইংরেজদের পক্ষে দালালি করে সিপাহিদের দমন করে। এর এক বছর পর ত্রিপুরা রাজ্যে ইংরেজদের পরামর্শে ১১টি থানা স্থাপিত হয়। তিন ভাগে বিভক্ত। যেমন হিউং, বিউং ও কৈলাগড়।১৮৯০ সালে কসবা সদরে থানা মুন্সেফ আদালত স্থাপিত হয় বলে জানা যায়। থানা সদরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকার জনগণ শিক্ষা এবং শিল্প-সংস্কৃতিতেও অন্যান্য এলাকার চেয়ে বহুদূর এগিয়ে যায়।  ১৯৪০ সাল কসবা থানা স্থাপিন হয়।এখানে পুরাতন অফিসের মধ্যে ১৮৪৩ সালে স্থাপিত একটি তহশিল অফিস ছিল।১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর  তারিখে কসবা থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।কসবা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।

    প্রিয় পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষী আসুন – কসবার গুণিজন, প্রখ্যাত ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবন কথা পড়ে নিজের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করি।

    ✪ ত্রিপুরার ১৭৭তম রাজা বিরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের রাজ দরবারের মুসলিম কাজী বহু ভাষাবিদ হযরত মাওলানা মাকসাদ আলী বল্লভপুরী (রাহ.)। হযরত মাওলানা আলহাজ্ব কাজি আবু মিজান মাকসাদ আলী হানাফি কাদিরি (রহ)। জন্ম: ১৮ আগস্ট ১৮৪০ ইংরেজি। মৃত্যু: ১৯১৬ ইংরেজি।

    ত্রিপুরার ১৭৭ তম মহারাজ শ্রী শ্রী বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য বাহাদুর(রাজত্বকাল ১৯০৯ খ্রিঃ- ১৯২৩খ্রিঃ)তাঁর মুসলিম প্রজাদের বিচারের রায় প্রদানের কর্তৃত্ব স্বরুপ (১৯১০ থেকে ১৯১৬ পর্যন্ত) কাজির পদ প্রদান করেন।

    ✪ শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি জি এস পাঠকসহ ভারত বিখ্যাত বহু ব্যক্তিত্বের ধর্মীয় গুরু  সনাতন ধর্মের সাধিকা শ্রী শ্রী মা আনন্দময়ী। (১৮৯৬-১৯৮২)  আধ্যাত্মিক সাধিকা। খেওড়া।

     

    বাংলাদেশের রমনা ও খেওড়াসহ ভারতের বারাণসী, কনখল প্রভৃতি স্থানে তাঁর নামে ২৫টি আশ্রম, বিদ্যাপীঠ, কন্যাপীঠ, হাসপাতাল ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। তাঁর মরদেহ উত্তর ভারতের হরিদ্বারে কনখল আশ্রমে গঙ্গার তীরে সমাধিস্থ হয়।

    ✪ অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক।

    পরিচিত নাম-বাচ্চু মিয়া, জন্ম তারিখ-১লা আগস্ট ১৯২৫, মৃত্যু তারিখ-২৮অক্টোবর ২০০২। বাড়ি-পানিয়ারুপ কসবা।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার প্রধান কৌসুলী ও ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কৌসুলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। সংসদ সদস্য-১৯৭০ সাল (পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে এম এন এ সদস্য কুমিল্লা ৪ (কসবা-বুড়িচং)। ১৯৭১-১৯৭৩ সালে গণ পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য হন (কুমিল্লা-৪)। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদস্য হন কুমিল্লা ৪ (কসবা আখাউড়া) বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা আখাউড়া)।

    ✪ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য ও মন্ত্রী তফাজ্জল আলী (টি.আলী) গ্রাম: শাহপুর, (১৯০৬–১৯৮৮)।

    ব্রিটিশ ভারতের পরিচিত একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ ও মুসলিমলীগ নেতা। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি এমএলএ নির্বাচিত হন।পাকিস্তান শাসনামলে তিনি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন।তিনি কসবার প্রথম সন্তান যিনি কেন্দ্র ও প্রদেশে মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের  রেভেনিও মিনিস্টার,কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। মিশরে পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রদূতও ছিলেন তিনি। আইউব খানের শাসনামলে মুসলিমলীগ দ্বিখণ্ডিত হলে তিনি কাউন্সিল মুসলিম লীগের পক্ষে অবস্থান নেন। এবং পূর্ব পাকিস্তানে নিজেকে প্রভাবশালী মুসলিমলীগ নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।তিনি দুইবার সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি আমৃত্যু বাংলাদেশ মুসলিমলীগের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

    ✪ ইসলাম প্রচারক, বুজুর্গ সুফি সাধক শায়খুল বাঙ্গাল আলহাজ্ব সৈয়দ আবু মাছাকিন মোহাম্মদ মতিউর রহমান গোলাম কাদির লাহিন্দী (রহ.) শায়খুল বাঙাল ছৈয়দ আবু মাছাকিন গোলাম মতিউর রহমান লাহিন্দী আল কাদেরী বল্লভপুরী (রঃ) প্রকাশ দুদু মিয়া পীর সাহেব। গ্রাম: বল্লভপুর।


    জন্ম: ১৮৭৩ ইংরেজী, মৃত্যু: ১৯৭৮ ইংরেজি ৩ অক্টোবর। হযরত শায়খুল বাঙ্গাল সাতবার খানায়ে কাবার হজ্জ ও সাতবার মদিনা মুনাওয়ারাতে হাজিরি দিয়েছেন। ১৩৪৮ বাংলায় তিনি অনেক মুরিদ ও খলিফা সমভিব্যাহারে হজ্ব পালন করেন। তখন অনেক আরবিও উনার হাতে বাইআত গ্রহণ করেন এবং উনি ‘ শায়খুল বাঙ্গাল’ অর্থাৎ ‘বাংলার শায়খ’ খেতাবে ভূষিত হন।

    ✪ আড়াইবাড়ির পীর হযরত মাওলানা আলহাজ্ব আবু সাঈদ আজগর আহমদ আল কাদেরী (রহ.) জন্ম: ১৮৭৫ ইং, মৃত্যু:৮ ডিসেম্বর ১৯৩৭ইং।

    ১৮৯৪ সালে কুমিল্লাস্থ হুচ্ছামিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে জমাতে উলা পাস করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।প্রাতিষ্ঠানিকএলেম শিক্ষা শেষে ভারতের গুজরাটের হযরত সায়েদ আব্দুল কাদির আল কাদেরী (রঃ) এর বায়াত গ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে দুবারে ১২ বছর মক্কায় অবস্থানের পর নিজ পীরের নির্দেশে আদিষ্ট হয়ে চলে আসেন।
    “ঐতিহ্যবাহী আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হযরত মাওলানা আবু সাঈদ আসগর আহমাদ আল-কাদেরী (র.) ১৯৩৭ সালে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পৌর সদরের আড়াইবাড়ী আলিয়া মাদরাসা ও একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালে ইহা দরসে নিজামী হিসেবে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে তাঁর সাহেবজাদা বহুগ্রন্থ প্রণেতা আল্লামা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী পীরে সাহেব (র.) এর হাল ধরেন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৫৭ সালে দাখিল, ১৯৬৯ সালে আলিম, ১৯৭৭ সালে ফাযিল স্বীকৃতি ও আল্লামা হযরত মাওলানা মরহুম আবু সাঈদ আছগর আহমাদ পীর সাহেব (র.) -এর দৌহিত্র আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের বর্তমান পীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সাঈদী ২০০৪ সালে কামিল মানে উন্নীত করেন।২০০৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ক্রেস্ট ও সনদপত্র লাভ করে।” [১০]

    ✪ প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত গোলাম হাক্কানী (রহ.),

    আল্লামা হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী (র.) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ী গ্রামের পীর পরিবারে ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আল্লামা হযরত মাওলানা আবু সাঈদ আসগর আহমাদ আল-কাদেরী (র.) ও মাতা মরহুমা সালেহা খাতুন। তাঁর নানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নারুই গ্রামের হযরত মাওলানা মুকসুদ আলী (র.) দেশ বরেণ্য আলেম ছিলেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
    মাতৃস্নেহে থেকে নিজ গ্রাম আড়াইবাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। কোরআন-সুন্নাহর যথোপযুক্ত জ্ঞান লাভের অদম্য স্পৃহায় তিনি সুদূর ভারতের রামপুর মাদরাসায় ভর্তি হলেন। অতি কষ্ট স্বীকার করে তিনি কয়েক বছরে মাধ্যমিক শিক্ষা সাফল্যের সহিত সমাপ্ত করেন। দেশে এসে সিলেট জেলার গাছবাড়ী আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৫২ সালে আলিম পরীক্ষা, সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা থেকে ১৯৫৪ সালে ফাযিল ও ১৯৫৬ সালে কামিল (ফিকহ গ্রুপে) প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
    পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি তিনি নোবেল বই ও সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগতির জন্য দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা নিয়মিত পড়তেন। তিনি উর্দু, ফার্সী ও আরবী ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন।

    মরহুম আল্লামা গোলাম হাক্কানী (র.)-এর বড় ভাই হযরত মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ গোলাম জিলানী (র.), হযরত গোলাম রব্বানী (র.), ছোট ভাই হযরত মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম ছামদানী (র.) দ্বীন কায়েমের জন্য দেশ-বিদেশে কাজ করে গেছেন। তাঁর সহোদর বোন ফিরোজা খাতুন স্বামী কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা আবদুর রউফ সাহেব (র.), ফজিলাতুন নেছা স্বামী ফেনী জেলার দুধমুখা দরবার শরীফের পীর আলহাজ¦ হযরত মাওলানা আবদুল হক (র.), রোকেয়া খাতুন স্বামী কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার লৎস্বর মিয়া বাড়ির হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ (র.), হালিমাতুস সাদীয়া স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক বহু গ্রন্থ প্রণেতা অধ্যাপক হাসান আলী আল আলভী (র.)। তাঁর শ^শুর হযরত মাওলানা ইব্রাহিম বারাহীপুর, ফেনী ও সৈয়দ আবুল হোসেন, লক্ষীবাজার, ঢাকা। তার স্ত্রী মরহুমা রাকিবা খাতুন ও সৈয়দা সুরাইয়া বেগম।

    মরহুম আল্লামা গোলাম হাক্কানী (র.)- পাঁচ ছেলে ও চার কন্যাকে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে সামর্থ্য হন। বড় ছেলে হযরত মাওলানা আবু বকর মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া সাঈদী স্বপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছেন। দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ গোলাম কবীর সাঈদী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তৃতীয় ছেলে আল্লামা হযরত মাওলানা মো. গোলাম সারোয়ার সাঈদী পিতার প্রদত্ত আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনশীন পীর হিসেবে দরবার শরীফ পরিচালনা করছেন এবং আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দ্বীনী কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। চতুর্থ ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম খাবীর সাঈদী ঢাকার একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করছেন। পঞ্চম মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম হাদী সাঈদী ইংল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে সদ্য দেশে ফিরেছেন। চার কন্যা রুম্মানা সাঈদীয়া স্বামী ফেনী জেলার দুধমুখা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা লোকমান হোসাইন, বিলকিস সাঈদীয়া স্বামী বাংলাদেশ বিমানের পদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস ভূইয়া, তামান্না সাঈদীয়া স্বামী দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আবদুল কাদির ও তাবাসসুম সাঈদীয়া স্বামী মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ উসামা আল মুসাদ্দেক জাফরী। পীরে কামেল আল্লামা হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী (র.) বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। দ্বীন প্রচারের অন্যতম বলিষ্ঠ মাধ্যম সাহিত্যের চর্চা ও জ্ঞান গর্ব বই-পুস্তক লিখাতেও তিনি সিদ্ধহস্ত একজন আলেম।
    পিতার প্রতিষ্ঠিত আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর ও মাদরাসার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সাঈদী(জন্ম – মৃত্যু- ২১নভেম্বর ২০২০)।[১০]

    ✪ ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রহ.)র মাস্তান খেতাবে ভূষিত, আপাদমস্তক ঘুমজাগানিয়া ধর্ম প্রচারক হাজী আব্দুল জব্বার বল্লভপুরী (রহ.)। জন্ম ১৯২৮ ইং,মৃত্যু: ৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮ই]

     

    -ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ)র মাস্তান খেতাবে ভূষিত শিষ্য।বল্লভপুর কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায়শায়িত। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক ঘুমজাগানিয়া একজন ধর্ম প্রচারক।তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হজ্জে বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা ও মদীনা মুনাওয়ারা গমন করেন।

    ✪ সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টা মুহাম্মদ গোলাম কাদের। গ্রাম: যমুনা।

     

    মেজর জেনারেল (অব) গোলাম কাদের। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা পদক প্রাপ্ত কর্মকর্তা।জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক।
    ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৯ জানুয়ারী ২০০৮ সালে   উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।  তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

    ✪ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার  ও একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।গ্রাম: শাহপুর।

    বাংলা গানের প্রবাদ পুরুষ সৈয়দ আব্দুল হাদী (জন্ম: ১ জুলাই ১৯৪০)  তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।

    ✪ রাজনীতিবিদ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। গ্রাম: পানিয়ারুপ।

    জন্ম: ৩০ মার্চ ১৯৫৬ ইং। বাংলাদেশের ইতিহাসে পর পর দুবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি। ২৪৬ নং (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ কসবা-আখাউড়া) আসনের (২০১৪-বর্তমান) সংসদ সদস্য। তিনি ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।পুনরায় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন।

    ✪ কৃষক নেতা আব্দুল মালেক

    গ্রাম: গোপীনাথপুর। জন্ম:১লা নভেম্বর ১৮৯৭, মৃত্যু:১৯৬৫ইং। স্কুল জীবনে তিনি স্বদেশী আন্দোলে অনুপ্রাণিত হন। ভারত খ্যাত সুভাষ বসুর আত্মবিশ্বাসী একজন সহযোগী ছিলেন। ভারতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন সভা ও মিছিলে নিয়মিত যোগ দিতেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতা।৪৭ পরবর্তীকালে কৃষক শ্রমিকের অধিকার আদায়ে আত্মনিয়োগ করেন।তাঁর শ্লোগান ছিল,”লাঙ্গল যার,জমি তার”।

    ✪ আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম ভূঁইয়া গ্রাম: চারগাছ। জন্ম: ১৯০৩ ইং, মৃত্যু:১৩ মে ১৯৬৬ইং।

    একজন সফল ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক। তিনি ২৫-০৫-১৯৬১ইং হতে ১৫-১২-১৯৬২ইং পর্যন্ত  চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।১৯৬৫ ইং সালে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত(অবিভক্ত কুমিল্লার) হন।

    ✪ ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু (২ এপ্রিল ১৯০৩ – ৬ আগস্ট ১৯৫৯) মঈনপুর। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী, সুরসাধক; ভারতীয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ প্রদত্ত ‘দেশমণি’ খেতাব প্রাপ্ত। জীবনের শেষদিকে মোহাম্মদ খসরু স্বল্পকালের জন্য ঢাকার  বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর অধ্যক্ষ ছিলেন। সঙ্গীত চর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য পাকিস্তান সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ (১৯৬২) উপাধি এবং বাংলাদেশ সরকার মরণোত্তর ‘শিল্পকলা একাডেমী পদক’ (১৯৭৮) প্রদান করে।

    ✪ আলহাজ্ব এ ইউ এম ওয়ালি উল্লাহ জন্ম: ৯ডিসেম্বর ১৯১৯। মেহারী।

    মেহারী ওবায়দিয়া কামেল মাদ্রাসা, ঢাকা মাহমুদা খাতুন কামেল মাদ্রাসা সহ অসংখ্য দীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষানুরাগী।
    তাঁর পিতা মরহুম ওবায়দুল্লাহ ছিলেন ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর গৃহ শিক্ষক এবং ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাইস্কুলের(১৯৩১পর্যন্ত)আরবি ও ফারসি শিক্ষক। ইসলামি চিন্তাবিদ ও যুগশ্রেষ্ঠ আলেম আব্দুস সোবহান ছিলেন তাঁর দাদা।যাঁর নামানুসারে ঢাকার সোবহানবাগের নামকরণ হয়েছে।

    ✪ মোঃ মকবুল হোসেন তালুকদার
    পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য।
    গ্রাম: রাইতলা

    ✪ আলহাজ্ব নুরুল হক মাষ্টার
    গ্রাম: খেওড়া।
    জন্ম: ১ লা অক্টোবর ১৯৩৬ ইং
    মৃত্যু: ৩১ মে ২০১৪ইং।

    কর্মজীবনে জমশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৫৮-১৯৬৭ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক,১৯৬৭-১৯৮৬ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক এবং ১৯৮৬-১৯৯৩ ইং পর্যন্ত সরাইল অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯৩-১৯৯৫ পর্যন্ত কুটি মিয়া আব্দুল্লাহ্ ওয়াজেদ মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং ১৯৯৬-১৯৯৭ পর্যন্ত কালসার নাঈমা আলম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ( প্রতিষ্ঠালগ্নে) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
    ১১৯৭১ সালে তিনি জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন।১৪ ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকায় উনার নামও ছিল।
    ✪ মৌলভী আব্দুর রউফ বিএল (এডভোকেট)
    গ্রাম: জমশেরপুর।
    জন্ম: ১৮৮০ইং
    মৃত্যু:২৮ জানু ১৯৭৭ইং।

    ১৯২৩ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে বি এল ডিগ্রী লাভ করেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা হাইকোর্টে ২৫ বছর আইনজীবী হিসাবে কাজ করেন।একজন প্রখ্যাত আইনজীবী হয়েও অবিভক্ত বাংলার মুসলিম পুনর্জাগরণ ও এলাকার মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আমৃত্যু নিজ গ্রাম জমশেরপুরে বাস করেছেন।তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পিতা মরহুম তাজুউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ১৩২১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জুনিয়র মাদ্রাসা ১৯৪১সালে প্রথম শ্রেণির হাইস্কুল কাম হাই মাদ্রাসা এবং১৯৬০ সালে সরকার কর্তৃক এটাকে হাইস্কুলে রূপান্তরিত করা হয়।
    তিনি একজন নিবেদিত প্রাণের শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন।
    ✪ অখিল দত্ত (এডভোকেট)
    গ্রাম: চারগাছ।
    কংগ্রেস নেতা  ও ভারতীয় বিধান সভার ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।

    ✪ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য অধ্যাপক মমতাজ বেগম (১৩ এপ্রিল ১৯৪৬ – ১৬ মে ২০২০) গ্রাম: শিমরাইল।

    (বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্ত) মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক এমপি এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার(২০০৯–আমৃত্যু) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম এডভোকেট।
    বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও ১ম জাতীয় সংসদের ৩১৩ (সংরক্ষিত নারী আসন-১৩) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ।তিনি ছিলেন ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পরিষদে সাত জন নারী প্রতিনিধির একজন (এমএনএ)এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য (এমসিএ)

    ✪ শহীদ আনোয়ার হোসেন,বীর উত্তম
    গ্রাম: গোপীনাথপুর।


    (জন্ম: অজানা – মৃত্যু: ২৬ জুলাই, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। তার গেজেট নম্বর ৫৫। [

    তার বাবার নাম আবদুল হামিদ ভূঁইয়া এবং মায়ের নাম কুলসুমের নেছা।

    বীর উত্তম বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত ৬৮ জনের মধ্যে তিনিও একজন।
    ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস এ সৈনিক হিসাবে ভর্তি হন।(সিপাহী নং ১৩০৭৫)।মুক্তিযুদ্ধকালে  ইপিআরের ১০নং উইং রংপুরে কর্মরত ছিলেন।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের অন্তর্গত বুড়িমারীতে১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে এক সম্মুখ যুদ্ধে ভীষণ রকমের সাহসী মনোবল নিয়ে এলএমজিসহ ক্রল করে তিনি একাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের ভেতর ঢুকে পড়েন।ঠিক তখনই একঝাঁক গুলিতে তার সম্পূর্ণ শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়।পাটগ্রামের বাউরাবাজারের নিকটে অবস্থিত জম গ্রামে মসজিদের পাশে তাঁর সমাধি সংরক্ষিত আছে।

    ✪ আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণপুরুষ মরহুম এবি ছিদ্দিক।


    গ্রাম: সৈয়দাবাদ।
    জন্ম: ২৯ জুন ১৯৩২ ইং
    মৃত্যু: ৩১জানুয়ারী, ২০১৪ ইং

    ১৯৬৯ সালে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত প্রথম কলেজ “সৈয়দাবাদ আদর্শ  ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেন।
    ১৯৭৭ সালের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন।তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দিয়ে চীন সফর করেন।

    ✪ জাতীয় পার্টির রাজনীতিবিদ, ঢাকা মহানগরের ডেপুটি মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল।


    গ্রাম: মেহারী।

    ✪ শহীদ সিপাহী আবদুর রহিম,বীর বিক্রম
    (জন্ম: ১৯৫১ – মৃত্যু: ১৯৭১)
    গ্রাম: খেওড়া।


    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।
    তার বাবার নাম খোরশেদ মিয়া এবং মায়ের নাম সুফিয়া খাতুন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ছয় ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চট্টগ্রামে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। প্রথমে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে, পরে জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। অক্টোবরের প্রথমার্ধে জেড ফোর্স সিলেট এলাকায় যায়। কিন্তু তাদের দল চিলমারীতে থেকে যায়।১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর শেষ রাতে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তর্গত চিলমারীর যুদ্ধে
    জীবন বাজি রেখে শত্রুপক্ষের বাংকার ধ্বংস করার জন্য ক্রলিং করে এগিয়ে যান। বাংকারে গ্রেনেড ছোড়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। ঢলে পড়েন মাটিতে। শহীদ আবদুর রহিমকে সহযোদ্ধারা চিলমারীতে সমাহিত করেন। স্বাধীনতার পর তার মরদেহ সেখান থেকে তুলে কসবার কুটি-চৌমুহনী এলাকায় পুন সমাহিত করা হয়।

    ✪ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ লিয়াকত আলী।

    গ্রাম: শাহপুর।
    জন্ম: ১৯৫৩
    মৃত্যু:১৯৮৮
    বাড়ী-শাহাপুর।
    অকাল প্রয়াত এই গুণীজন  ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮(কসবা আখাউড়া ব্রাম্মনবাড়িয়া-৪ আসন) সংসদ সদস্য ছিলেন।

    ✪ বিশিষ্ট  শিল্পপতি,রাজনীতিবিদ, নকল নির্মূল কমিটির প্রধান ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ।
    গ্রাম: কুটি।

    মিয়া আবদুল্লাহ ওয়াজেদ যিনি আবদু মিয়া নামেও পরিচিত।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালের ভোটে এমপি হন। ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও তিনি এমপি হন।

    ✪ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব  মোহাম্মদ শাহ আলম এডভোকেট।


    গ্রাম: বর্ণী।
    জন্ম: ২০ এপ্রিল ১৯৬১ইং
    ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮-২০১৩ পর্যন্ত দুইবার তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিযয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন।

    ✪ গিরিশ চন্দ্র দাস
    জন্ম: ১৮৮০ ইং
    গ্রাম: বিনাউটি
    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩০ সালের দিকে কলকাতা রিপন ল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন।

    ✪ খগেন্দ্র চক্রবর্তী
    গ্রাম: চারগাছ
    ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ও নেতা।

    ✪ ড.পবিত্র সরকার
    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
    গ্রাম: শাহপুর
    ১৯২৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (কৃষি বিষয়ে) প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন।তাঁর পিতা নীল কমল সরকার ১৯২৪ ইং থেকে ১৯২৮ইং পর্যন্ত কসবা কোর্টের মুন্সেফ ছিলেন।

    ✪ অসিৎ রঞ্জন ভট্টাচার্য ১
    (জন্ম ১৯১৫ – মৃত্যু ১৯৩৪)
    স্বদেশী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ও সংগঠক।
    বাড়ি: লেশিয়ারা।
    স্বদেশী আন্দোলনকে বেগবান রাখতে অর্থ সংগ্রহের জন্য ইটাখোলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ডাক বিভাগের বগিতে ডাকাতি করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন।১৯৩৪ সালের ২রা জুলাই ১৯ বছর বয়সে সিলেটের জেলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

    ✪ সুরেন্দ্র কুমার চক্রবর্তী ২
    একাধারে সুরস্রষ্টা, গায়ক ও গীতিকার।
    বাড়ি: কসবা গার্লস স্কুলের পূর্বপাশে।
    উপমহাদেশের বিখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতজ্ঞ অমর পালের ওস্তাদ ছিলেন।৩ দশক কলকাতার বেতারে পল্লীগীতি বিভাগে সংগীত পরিচালনা করেন। ভারতীয় অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তিনি সংগীত পরিচালনা করেন।
    রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত নিভাগের অধ্যাপক এবং পচিমবঙ্গের টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের  বাংলা সংগীত বিভগের প্রধান ছিলেন। তিনি আনুমানিক ১৯২৯ সালে কসবা হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন।

    ✪ মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী ২
    শ্যামাসংগীত, লোকসংগীত ও ভজন সংগীত শিল্পী।
    তিনি সুরেন্দ্র কুমার চক্রবর্তীর ছোট ভাই।
    বাড়ি: কসবা গার্লস স্কুলের পূর্বপাশে।
    পশ্চিমবঙ্গের বেঙ্গল মিউজিক কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।তিনি আনুমানিক ১৯৩১ সালে কসবা হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন।

    ১৯৪১ সালের দিকে কলকাতা শহরে জাপানের বোমাবর্ষণের কারণে দুই ভাই সপরিবারে কসবা চলে আসেন। এসে কিছুকাল কসবা হাইস্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেন।

    ✪ রবীন্দ্র চক্রবর্তী
    কসবার শপ্তস্বর সংগীত নিকেতনের পরিচালক।
    অসংখ্য সংগীত প্রেমি মানুষের মাঝে তিনি সংগীতের বীজ বপন করেছেন।

    এছাড়াও আরো অসংখ্য জ্ঞানী গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে কসবা নামক এই প্রাচীন জনপদ।

    ➤তথ্যসূত্র:
    ১. উইকিপিডিয়া
    ২. সরকারি তথ্য বাতায়ন
    ৩. ব্যক্তিগত সংগ্রহ
    ৪.স্মরণিকা (কসবা উপজেলা সমিতি)২০০১,২০০৮
    ৫. শামসুল আলম সোনা মিয়া হাজীর ডায়েরি
    ৬.এস এম আশরাফ আলী প্রণীত
    কাছিদায়ে শায়খুল বাঙাল।
    ৭. মোঃ জহিরুল ইসলাম স্বপন
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোকজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের লেখক।
    ৮. শাশ্বত ত্রিপুরা – ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভার শতবার্ষিকী স্মারক সংকলন (১৮৭২ -১৯৭২)

    সম্পদক- অনিলধন ভট্টাচার্য
    [১] পৃ: নং ২১৪
    [২] পৃ: নং ১৪১

    ৯. রাজমালা।। শ্রী কৈলাস চন্দ্র সিংহ
    ১০.আড়াইবাড়ি পীর পরিবারের জীবন বৃত্তান্ত।।শেখ কামাল উদ্দীন (জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত)

    ✪তথ্য সংগ্রাহক ও লেখক: এস এম শাহনূর
    (কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম