• শিরোনাম


    যশোর ৫ আসন’সহ দেশবাসীর প্রতি সদরে জমিয়ত মুফতি ওয়াক্কাসের বিশেষ বার্তা

    গাজী আশরাফ আজহার | ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ

    যশোর ৫ আসন’সহ দেশবাসীর প্রতি সদরে জমিয়ত মুফতি ওয়াক্কাসের বিশেষ বার্তা

    আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্
    আমি মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। মণিরামপুরের গর্বিত সন্তান। আপনাদের সমর্থন নিয়ে আমি মহান জাতীয় সংসদের সদস্য, হুইপ ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিদারুন আফসোসের সাথেই পত্রিকা মারফত আপনাদের সাথে কথা বলতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ভোটার এবং প্রার্থীর পারস্পরিক দেখা সাক্ষাত ও মতবিনিময় অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়। কিন্তু ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় টের পেয়ে আমাকে রাজনৈতিক অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে আসতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে।

    শত বাঁধা-বিপত্তি, হুমকি ও হামলা-মামলা উপেক্ষা করে আপনারা ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে যেভাবে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, সে জন্য আমি আপনাদেরকে মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। দুঃশাসন, দুর্নীতি, জুলুম, শোষণ, অত্যাচার ও ১০ বছরের কালো অধ্যায়ের অবসানের লক্ষ্যে আপনাদের মেহনতের মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা একান্তই মহান আল্লাহর রহমত।



    প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
    আমার সাথে আপনারাও নিশ্চয়ই অতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছেন যে, নির্বাচনের প্রায় ৩০ দিন আগে থেকেই শাসক দলের নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে ভোট ডাকাতির লক্ষ্যে সর্বত্র চরম নৈরাজ্য, সহিংসতা, ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করেছে। একদিকে সরকারি দল নির্বাচনী আচরণবিধি উপর্যুপরি লংঘন করে চলেছে। অন্যদিকে ২০দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীরা আচরণবিধি মেনে চলার পরেও নির্বাচনী কাজে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। বারবার প্রশাসনকে এসব অভিযোগ লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত প্রশাসন একটি দলের অনুগত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের জিজ্ঞাসা, এত উন্নয়ন ও শান্তির কথা বলে ১০ বছর দেশ শাসনের সুযোগ পেয়েও সরকারি দল এখন ভোটারদের রায়ের মুখোমুখি হতে কেন ভয় পাচ্ছে? কেন নির্লজ্জ ভোট ডাকাতি ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে? এটা যে তাদের দীর্ঘ ও সীমাহীন অপকর্মের করুণ পরিণতি এবং পরাজয়ের আশংকা, তা সচেতন জনগণমাত্রই বুঝতে পেরেছে। সব ষড়যন্ত্র বিফল করে দিয়ে জনগণ এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ ।
    এটাই কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? এটাই কি সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ?

    তফসিল ঘোষণার পর কেন মণিরামপুরে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে? কেন নিরাপরাধ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে? কেন নির্বাচনী প্রচার মাইকে হামলা করে ২০দলের কর্মীদের আহত করা হয়েছে? ভোজগাতি ইউনিয়নের জামজামি, ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া, শ্যামকুড় ইউনিয়নের ভুজতলা বাজারে নির্বাচনী প্রচারে বাঁধাদান, কর্মীদের শারীরিক নিগ্রহ এবং মাইক কেন ভাংচুর করা হলো? ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট, ভোট কর্মী ও ২০দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ কেন ভয়ভীতি, ভোট কাটার হুমকি এবং গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে? এটাই কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? এটাই কি সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ?

    প্রশাসনের কাছে নিবেদন,
    জাতির কাছে সিইসির নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আজ হাস্যকর।নাটকের অংশে পরিণত হয়েছে বলে জনগণ মনে করছে। ভোটের দিনও অনেক ষড়যন্ত্র ও ভোট ডাকাতির সুপরিকল্পিত আয়োজন চলছে। রিটার্নিং অফিসার তথা পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিবেদন, আপনারা দয়া করে আপনাদের পেশাগত দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করুন। এর ব্যতিক্রম হলে আপনারাই ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ধংসের জন্য দায়ী থাকবেন। আমি আশাকরি আপনারা আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন এখনও উপহার দেওয়া সম্ভব। আমরা এজন্য সবধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী জাতির আশা আকাঙ্খার শেষ স্থান। তাদের দিকে ভোটাররা তাকিয়ে আছে। আশাকরি আমার নির্বাচনী এলাকা মণিরামপুরে বিরাজমান নির্বাচনী পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে তাঁরাও যথাযথ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবেন। জনগণের আকাঙ্খা পুরণে অতীতের মত ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের
    ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    সংগ্রামী যশোর-মণিরামপুরবাসী!
    আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। ১৯৮৬, ১৯৮৮ এবং ২০০১ সালে সর্বমোট তিনদফা সংসদ সদস্য হিসেবে অবহেলিত ও বঞ্চিত মণিরামপুরকে শান্তি ও উন্নয়নের জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বিপুল সমর্থন এবং সহযোগিতা পেয়েছি। সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। আপনাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ, চির ঋণী। মণিরামপুরকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শনও আমরাই সৃষ্টি করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ্ এবারও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-মণিরামপুরে ধানের শীষের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। সকল বাঁধা মোকাবিলা করে ভোটাররা নিরব বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তাই আপনারা বিচলিত হবেন না। হুমকিতে ভয় পাবেন না। হতাশা নয় বরং সাহস, ধৈর্য্য ও সর্বশক্তি নিয়ে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে উদ্বুদ্ধ ও সাহায্য করুন। আসুন আমরা ভোটের দিন প্রথম প্রহরে ভোট কেন্দ্রে যাই। ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে জনগণের কাঙ্খিত বিজয় অর্জনে সাহায্য করুন। আমিন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম