• শিরোনাম


    মুজিব মরেনি [] ইতি চৌধুরী

    | ১৫ আগস্ট ২০২১ | ৪:২২ অপরাহ্ণ

    মুজিব মরেনি [] ইতি চৌধুরী

    পনেরো আগষ্ট দিনটি বাংলার আকাশ – বাতাস অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। এক রাশ কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে একটি কালো অধ‍্যায়ের সূচনা হয়েছিল। যেটা কখনোই ভুলবার মতো না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে মনে – মননে ধারণ না করে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে তাঁর আদর্শের যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধু আমাদের অসীম সাহসিকতার প্রতিক। তিনি সমগ্র বাঙ্গালী জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, তিতুমীর, সুভাষ বোস, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দীর মতো সাহসী নেতৃত্বের নির্যাস তিনি নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন গরিব দুঃখীসহ সমগ্র বাঙ্গালীর সত‍্যিকারের সাহসী পুরুষ। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনটাই ছিল সংগ্রামে পরিপূর্ণ। তাঁর জীবনের চৌদ্দটি বছর জেলের মধ্যেই কেটে গেছে। বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃত্বকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অনুশীলনে প্রতি মূহর্তে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাঙ্গালীর আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তিনি কখনো কোন জায়গায় কোনরকম সমাঝোতা করবেন না। একজন মানুষের মধ্যে যত ধরনের গুনাবলি থাকা সম্ভব, বঙ্গবন্ধুর মাঝে তার সবগুলোই ছিল ; যে কারণে বঙ্গবন্ধু আজও আমাদের মাঝে উজ্জ্বল, চিরভাস্বর ও স্ব- মহিমায় উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধুই বাঙ্গালীর ইতিহাস, সমগ্র জাতি তাঁর কাছে চিরঋণী। মুজিব চেতনায় জাগ্রত, হৃদয়ে স্পন্দিত। শোকাহত প্রতিবাদী বাঙ্গালী জনতার একটিই শ্লোগান ” মুজিব মরেনি; মরতে পারেনা। বাঙ্গালী জাতি বঙ্গবন্ধুকে সবসময়ই স্মরণ করবে। জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত‍্যা করার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী সত্তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারীদের সেই অভিলাষ পূরণ হয়নি। যুগে যুগে কুচক্রীরা অপচেষ্টা চালিয়ে গেছে ইতিহাস বলে। যেমন সিরাজ দৌল্লার সেনাপতি মীরজাফরের কুচক্রের ফলে ব্রিটিশ দুইশত বছর ভারত উপমহাদেশকে পরাধীণতার শেকলে আবদ্ধ করেছিল বটে তবে হাজার বছর ধরে রাখতে পারেনি তাদের দুঃশাসনকে। ভারতীয় মোঘল সম্রাট বাহাদুরশাহ তাঁর সমাধির জন্য জন্মভূমির মাত্র সাড়ে তিন হাত জায়গা বৃটিশের কাছে চেয়ে বিতাড়িত হয়েছিলেন, অথচ রাত যতই কালো আাঁধারে ছেয়ে যাকনা কেন ভোরের সূর্য এসে পৃথিবীকে আলোকিত করে এবং তা-ই চিরন্তন সত্য। কুচক্রীদের কালো হাত ভেঙ্গে গুড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় প্রকৃতির লীলাখেলায়। সেখানে আইন ও শাসনের কঠোর পদক্ষেপ পরিচালিত হতে পারেনা বলেই ভারত উপমহাদেশ বৃটিশদের কবল থেকে চিরতরে মুক্ত হয়েছিলেন। একসময় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতো কষ্ট করে যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন, সেই স্বাধীন দেশটা যখন তিনি গড়ে তুলছিলেন, তখনই তাঁকে প্রাণ দিতে হলো কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যদের হাতে। কথায় বলে এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে এই দিন নিয়ে যাবে সেই দিনের কাছে। মাত্র কয়েক বৎসর বাঙ্গালীর জীবনে দুঃসময় এসে থাকলেও কুলষিত অধ‍্যায় পেরিয়ে নতুম সূর্যের উদ্ভাসিত আলোতে বাঙ্গালী জাতির যাপিত জীবন সোনালী দিনের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হতে চলেছে। মাত্র একুশ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ পায় মুক্তির দিশা। আমরা দেখতে পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ফলে কিছুটা হলে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বাঙ্গালী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হল জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ কথা বলতে কুণ্ঠা নেই যে, শেখ হাসিনা বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। দূর্ভাগ‍্য আমাদের ‘৭৫-এর ১৫ আগষ্ট যদি না ঘটত, তাহলে বহ আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিনত হতো। নেতৃত্বসূলভ সহজাত গুন আর সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়েই বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মৃত্যুকালিন সময়ে একইভাবে দরাজ কন্ঠে বলেছিলেন, তোরা কি চাস? মৃত্যু যখন তাঁর দুয়ারে তখনও তিনি দৃঢ় সাসসিকতায় অটল। সেদিন বুলেটের আঘাতে তাঁর দেহ সিড়িতে লুটিয়ে পড়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনটি রক্তে রন্জিত হয়েছিল সত‍্য তবে সেই রক্ত বাঙ্গালীর চেতনায়, মননে এক দিপ্ত শপথ গ্রহণ করেছিল। ফলে কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র ও দুঃশাসনকে চিরতরে শেষ করে বাঙ্গালী আজ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে উন্নত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছে যা আজও বহমান শ্রোতের মতো বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা এবং আন্তজার্তিক পর্যায়ে ভেসে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলে গিয়েও বাঙ্গালীর হৃদয়ে অমৃত আলোতে তিনি আজও উদ্ভাসিত। বাঙ্গালীর চেতনায় বঙ্গবন্ধু দিবস ও রজনী সদা জাগ্রত। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্মরণীয়, বরণীয় রূপরেখা। শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমাদের জীবনে এলে, কতো সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদাত দিবসের শোকের দিনটিতে বঙ্গবন্ধুকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।।। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

    ইতি চৌধুরী
    সহকারী অধ্যাপক
    ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
    আল- হেরা কলেজ, ঢাকা।



    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম