• শিরোনাম


    মিনার্ভা থিয়েটারের তবলা বাদকই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ [] প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    | ২১ মে ২০২১ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

    মিনার্ভা থিয়েটারের তবলা বাদকই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ [] প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    সংগীত ভুবনের মুকুট বিহীন সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কলম ধরেছেন ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক প্রফেসর ফরহাদ হোসেন। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে লেখকের এ লেখা। আজ পাঠকের উদ্দেশে থাকছে ৩য় পর্ব।

    মন্দিরের এক বেলা খাবার খেয়ে থাকা তো অসম্ভব। তাছাড়া যেই উদ্দেশে এই বয়সে বাবা মা ভাই বোনদের ছেড়ে কোলকাতায় আসা তার কী হবে? সংগীতের দেবীর আরাধনা করতে যেতে হবে সংগীত শিক্ষকের কাছে। তাছাড়া কোলকাতায় টিকে থাকার জন‍্য কিছু রোজগারের দরকার। কোলকাতার এক ভদ্রলোকের কাছে তিনি গিরিষ ঘোষের সন্ধান পান। গিরিষ বাবু মিনার্ভা থিয়েটার চালাতেন। বালক আলাউদ্দিন সেই থিয়েটারে তবলা বাদকের চাকরি নিলেন। বেতন মাসিক বার টাকা। উল্লেখ্য খাঁ সাহেব তাঁর মেজো ভাই ফকির আফতাব উদ্দিনের কাছে ছোটবেলায় তবলায় তালিম নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তিনি মিনার্ভা থিয়েটারে কাজে লাগিয়ে ছিলেন। গিরিষ বাবুর প্রতি জীবনের শেষ দিন পযর্ন্ত খাঁ সাহেবের শ্রদ্ধা ভক্তির অন্ত ছিল না। গিরিষ বাবু-ই প্রথম বালক আলাউদ্দিনকে কর্ম সংস্থানের ব‍্যবস্হা করেছিলেন। এরই মধ‍্যে খাঁ সাহেেব একজন মহৎপ্রাণ চিকিৎসকের দেখা পান। নাম তাঁর ডাক্তার কেদার নাথ। সংগীতের প্রতি বালক আলাউদ্দিনের দুর্নিবার আকর্ষণ দেখে ডাক্তার বাবু তাঁকে সেই আমলে কোলকাতার বিখ্যাত সংগীতগুরু গোপালকৃষ্ণ ভট্রাচার্যের কাছে নিয়ে যান। গোপালকৃষ্ণ নুলো গোপাল নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের চাচাতো ভাই। তিনি খুব কঠিন সংগীত গুরু আর্থাৎ Tough music teacher ছিলেন। শিষ‍্যকে জানিয়ে দিলেন সংগীত সহজ কলা নয়। সংগীতে দক্ষ কলাকার তিনিই হয়েছেন যিনি আসীম ধৈর্যের সংগে এই কলার অনুশীলন করতে পেরেছেন।আমার কাছে সংগীত শিখতে হলে বাপু ধৈর্য সহকারে বার বছর সারগাম করা শিখতে হবে। রাগ রাগিনীর ভুবনে প্রবেশের বিষয়টি পরে আসবে। শুরু হলো নুলো গোপালের কাছে ভবিষ‍্যৎ খাঁ সাহেবের সংগীতের তালিম। কিন্তু বিধি বামে। সাত বছর পর নুলু গোপাল প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু খাঁ সাহেব ইতিমধ্যেই বাঁশী,ঢোল, নাকাড়া, ক্লায়োনেট বাজনা শিখে নিয়েছিলেন।



    বালক আলাউদ্দিনের ভাগ‍্য ফিরলো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদারের আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত জলসায় যোগদান করে যেখানে তাঁর দেখা মিলে তৎকালীন ভারতের শ্রেষ্ঠ সরোদ বাদক ওম্ভাদ আহমেদ আলী খাঁনের সংগে। আহমেদ আলী খাঁনের সংগে আলাউদ্দিনের সাক্ষাৎ ছিল ভারতীয় দ্রুপদ সংগীতের জগতে এক নতুন যুগের সুচনা। আহমেদ আলী খান তখন ভারতের princely state রামপুরের নবাবের প্রধান সংগীতজ্ঞ। সরোদের তারের উপরে আহমেদ আলী খানের সুদক্ষ আঙ্গুল চালনা আমাদের খাঁ সাহেবকে চন্চল করে তুলল। আলাউদ্দিন দু হাত জড়ো করে প্রর্থনার ভঙ্গীতে ওস্তাদ আহমেদ আলী খানের শিষ‍্যত্ব কামনা করেন। অবশেষে মুক্তাগাছার জমিদার শ্রী যজ্ঞেশ্বর আচার্যের অনুরোধে আহমেদ আলী খান আলাউদ্দিনকে শিষ্য হিসেবে গ্রহন করে হাতে শিষ‍্যত্বের লাল সুতা বেধে দিয়ে ছোট খাঁ সাহেবকে নিয়ে রামপুররের উদ্বেশ‍্যে রওয়ানা হলেন। আলাউদ্দিন বাংলার ভাটি অন্চল ছেড়ে চললেন ভারতের উত্তর প্রদেশের উষর ভূমি রামপুর যেখানে তাঁর জন‍্যে ভাষা ভিন্ন, সংস্কৃতি ভিন্ন, ভিন্ন খাদ‍্য অভ‍্যাস, মানুষের চলন বলন ও ধারণ- ধরন.—-।

     

    লেখক: বিভাগীয় প্রধান,ইংরেজি বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

     

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম