• শিরোনাম


    মাদকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের মেধা সম্পদ: মোঃ এমদাদ উল্যাহ

    ডা.মুহাম্মাদ মাজেদ হোসাইন। | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    মাদকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের মেধা সম্পদ: মোঃ এমদাদ উল্যাহ

    # সন্তানের ব্যাপারে খোঁজ রাখতে হবে অভিভাবকদের
    # নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেকের সচেতনতা জরুরী
    # ধর্মীয় নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজন
    # সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে
    # মাদকাসক্তের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে

    ‘মাদক’ ভয়াবহ এক মরণ নেশার নাম। এর কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশের মেধাবী তরুন-তরুণী। সমাজের নি¤œস্তর থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্রই এখন মাদকের ছড়াছড়ি। বেশির ভাগ অপরাধের সঙ্গে রয়েছে মাদকের সংশ্লিষ্টতা। মাদকে জড়িতদের কারণে চারদিকে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। ফলে তছনছ হচ্ছে সাজানো পরিবার, বাড়ছে পারিবারিক বিচ্ছেদ। আর সন্তানের হাতে পিতামাতা এবং পিতামাতার হাতে সন্তান, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা আবার প্রেমিকার হাতে প্রেমিক, ভাইয়ের হাতে ভাই, ছাত্রের হাতে শিক্ষক খুনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। সমাজের ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কোনো শ্রেণির মানুষই রক্ষা পাচ্ছে না মাদকের ছোবল থেকে। বিশেষ করে ইয়াবা এখন তরুণ-তরুণীদের মাঝে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে উঠে গেছে দেশপ্রেম, আদর্শ ও নৈতিকতা। মাদকাসক্তরা শুধু নিজেদের মেধা এবং জীবনীশক্তিই ধ্বংস করছে না, তারা নানাভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলাও নষ্ট করছে।
    মাদক হলো এক প্রকার অবৈধ বস্তু। যা গ্রহণ বা সেবন করলে আসক্ত ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। ফলে যেকোনো ধরনের পাপাচার ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে বিবেক বাধা দেয় না। মিথ্যা কথা বলা তাদের স্বাভাবিক বিষয়। কোনো ধরনের অপরাধবোধ তাদের স্পর্শ করে না। ধর্মের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। ভালোবাসা কিংবা স্নেহ-মমতাও তাদের স্পর্শ করতে পারে না। মাদক সেবনকারীর দেহমন, চেতনা, মনন, প্রেষণা, আবেগ, বিচারবুদ্ধি সবই মাদকের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জীবনের ঠিকানা হয় ধ্বংসের সীমানায়।
    সহজলভ্যতার কারণে হাত বাড়ালেই মাদকদব্র্য পাওয়া যাচ্ছে। ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত পথে প্রতিদিনই বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার কোটি টাকার ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। এসবের অধিকাংশই সেবন করে তরুণ-তরুণীরা। এরমধ্যে সমাজের বেকার যুবক, হতাশাগ্রস্ত মানুষ ও সঙ্গদোষে কিছু ব্যক্তি মাদকে জড়িত রয়েছে। আবার এক শ্রেণির মানুষ টাকার লোভে যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্বার্থান্বেষী মহলের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসায় পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা। ফলে অনেক অভিভাবক অতিষ্ঠ হয়ে তাদের সন্তানকে বেশি পড়ালেখা করাতে চান না। কোনো রকম জেএসসি বা জেডিসি পাশ করলেই চলে, যাতে ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে।
    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদকের সহজলভ্যতা, বন্ধুদের চাপে পড়ে অনেকে মাদক নিয়ে থাকে, বাবা-মায়ের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকে মাদক গ্রহণ করে থাকে, অনেকের মাঝে মাদক নিয়ে স্মার্ট হওয়ার প্রবণতা, হতাশা, একাকীত্ববোধ, বিষণœতা, শৈশবে বিকাশে সমস্যা থাকলেও অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ায় মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে মাদক গ্রহণ করে এবং পারিবারিক কারণেও অনেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া আর্থিক লোভ অন্যতম। এসব কারণে নারী-শিশু থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। মাদক পাচার ও ব্যবসা অপরাধ হওয়ায় কৌশলে পাল্টিয়ে চলছে মাদক ব্যবসা। কৌশলগুলো হলো- মুদি, চা, ভাঙ্গারী ব্যবসা, পুরুষ ও মহিলাদের বডি ফিটিং, মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ/গাড়ী, এ্যাম্বুলেন্স, ব্রিফকেস, সাধারণ মানুষকে ব্যবহার, মাইট্টা আলু ভিতর, মানুষের পেটের ভিতর, পায়ের জুতার ভিতর, পুলিশ ও বিজিবিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া।
    মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবকের ন্যায় শিক্ষিত তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অধরাধে। অপরাধগুলো হচ্ছে-মাদক বহন, অস্ত্র ব্যবসা, খুন-খারাবি, ধর্ষণ ও অপহরণ অন্যতম। পুলিশ কর্মকর্তার আদরের মাদকাসক্ত মেয়ে ঐশীর হাতে পিতা-মাতা খুনের ঘটনাই বলে দেয়; মাদকের ভয়াবহতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানায়- এই মরণ নেশা মাদক ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দফতরে কর্মরত অসাধু কিছু সদস্য। ফলে মাদক ব্যবসা ও সেবন কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না।
    খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ সরাসরি মাদকে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৫ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৭ ভাগ পুরুষ, ১৩ ভাগ নারী। এক লাখেরও বেশি মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী এবং শিশু-কিশোররাও জড়িত মাদক ব্যবসার সঙ্গে।



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম