• শিরোনাম


    মহামারী থেকে মুক্তির জন্য আজান! শরিয়ত সমর্থিত নাকি নতুন আবিষ্কৃত?

    নুরে আলম জাহাঙ্গীর, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক :- আওয়ার কণ্ঠ | ২৭ মার্চ ২০২০ | ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ

    মহামারী থেকে মুক্তির জন্য আজান! শরিয়ত সমর্থিত নাকি নতুন আবিষ্কৃত?

    আজ রাত এগারোটার দিকে হঠাৎ বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসতে আরম্ভ করে। সবার একই কথা, মসজিদে মসজিদে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আযান হচ্ছে। সেই সাথে তারা জানতে চাইছেন যে, বালা-মুসিবত ও দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য এভাবে আযান দেওয়া কি শরীয়ত সম্মত?

    এবিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের দলিল ভিত্তিক আলোচনা রয়েছে। আওয়ার কণ্ঠের সম্মানিত পাঠকবৃন্দের উদ্দেশ্যে আলোচনার অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো।



    সুদিনে আল্লাহর শোকর আদায় করা, দুর্দিনে সবর করা এবং তাঁর দেয়া আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাঁরই আশ্রয় প্রার্থনা করা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে এই কথাও মনে রাখতে হবে যে, এই শোকর, সবর ও আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে একজন মুমিনকে প্রথমত ঐ আমলগুলিই করা উচিত, যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন।

    উদাহরণস্বরূপ অনাবৃষ্টি ও অতি বৃষ্টি দু’টোই বান্দার কষ্টের কারণ। এ থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চাওয়ার সুন্দর নিয়ম যেমন ইসলামে রয়েছে তেমনি অতি বৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়ার সুন্দর শিক্ষাও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে দিয়েছেন। একজন মুমিনকে তাঁর শিক্ষা দেওয়া আমলের মাধ্যমেই আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা উচিত।

    সহীহ হাদীসে এসেছে, একবার মদীনায় এক সপ্তাহ একাধারে প্রবল বৃষ্টিপাত হল। অবিরাম বৃষ্টির সমূহ ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সাহাবীগণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর দরবারে দুআ করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন নবীজী এভাবে দুআ করেন,

    اللهم حوالينا ولا علينا، الله على الآكام والظراب وبطون الأودية و منابت الأشجار

    নবীজীর দুআর ফলে মুহূর্তে মদীনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১০১৪

    এমনিভাবে ঝড়-তুফানের সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ করতেন,

    اللهم إني أسئلك خير ما أمرت به وأعوذ بك من شر ما أمرت به

    আর বাতাস কমে বৃষ্টি নেমে এলে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল দেখাত। তখন তিনি আল্লাহর ‘হামদ’ করতেন, বলতেন, এটি ‘রহমত’। আরও বলতেন,

    اللهم صيبا نافعا
    -ফাতহুল বারী ২/৬০৪, ৬০৮

    অতএব হাদীসে বর্ণিত এসব দুআ এবং অন্যান্য দুআ-ইস্তিগফার বা ‘সালাতুল হাজত’ পড়ে আল্লাহর কাছে এ সকল বালা-মুসিবত থেকে পানাহ চাওয়া উচিত।

    কিন্তু আযান তো ইসলামের অন্যতম শিআর। যার জায়গা ও ক্ষেত্রগুলো শরীয়ত কর্তৃক সুনির্ধারিত। তাই সেই নির্ধারিত জায়গাতেই এই আমল সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

    [সূত্র: মাসিক আলকাউসার, রবিউস সানী ১৪৩১হি. || এপ্রিল ২০১০ইং]

    মূলত করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে স্পেন ও অন্যান্য রাষ্ট্রে সমস্বরে আযান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কয়েকদিন আগে৷

    সেখান থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে আমাদের দেশে ও পাকিস্তানে।

    পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস ঘুম্মান দাঃবাঃএকদিন আগেই এ বিষয়ে আলোচনা করে জানিয়ে দিয়েছেন সবাইকে৷

    ইসলামে কোন ওবার ক্ষেত্রে আযান সাবিত নয়৷

    করোনাভাইরাস উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে বা মসজিদে মসজিদে আজান হচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সা., সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। মহামারি সে সময়ও হয়েছিল। কিন্তু তারা এসব নবোদ্ভাবিত পন্থায় তা ‘তাড়ানো’র ফিকির করেননি। তাই এর প্রতিরোধও করতে হবে সুকৌশলে, রুকইয়াহ ও সঠিক চিকিৎসার দ্বারা। হাদিস আমাদেরকে জানিয়েছে, আল্লাহ যত ব্যাধি অবতীর্ণ করেছেন, তার প্রতিষেধকও তিনি নাজিল করেছেন।
    আমাদের ফিকহের গ্রন্থাদিতেও এই নবোদ্ভাবিত আজানের অনুমোদন পাওয়া যায় না। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও বিশ্লেষণের পাল্লায় তুললে তা সবিশেষ ভার বহন করে না। এছাড়াও অসংখ্য যুগশ্রেষ্ঠ ফকিহ ও মুফতি থেকে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু ফকিহ এর অনুমোদন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু এর স্বপক্ষে তারা কোনো শক্তিশালী দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। অনেক আকাবির তো এটাকে প্রচলিত ভুলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। [দ্রষ্টব্য : আগলাতুল আওয়াম, হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলি থানবি রহ.]
    -আলী হাসান উসামা

    মহামারীকে কেন্দ্র করে আযান দেওয়া বিদআত

    মহামারীর প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে আযান দেওয়া ইসলামি শরিয়তমতে সুন্নাত বা মুসতাহাব নয়। বরং অসংখ্য আলেমের মতে, এটি জায়েয নয়।
    ফকিহুন নফস মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রহ. লিখেছেন,
    طاعون، وبا وغيره امراض كے شيوع كے وقت كوئى خاص نماز احاديث سے ثابت نهىں. نه اس وقت اذانيں كهنا كسى احاديث مىں وارد هوا هے. اس لئے اذان كو يا جماعت كو ان موقعوں ميں ثواب يا مسنون يا مستحب سمجھنا خلاف واقع هے
    (فتاوى رشيديه، كتاب العلم)
    “মহামারী, প্লেগ ইত্যকার রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় কোনো বিশেষ নামায হাদিসে প্রমাণিত নেই। এ সময় আযান বলার কথাও কোনো হাদিসে বর্ণিত নেই। কাজেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে আযান বা জামাতকে সাওয়াবের কাজ, বা সুন্নত, বা মুসতাহাব বিশ্বাস করা বাস্তবতার পরিপন্থী।”
    (ফতোয়ায়ে রশিদিয়া, কিতাবুল ইলম)
    হযরত আশরাফ আলি থানভি রহ. থেকেও অনুরূপ ফতোয়া রয়েছে। দেখুন, আগলাতুল আওয়াম, পৃষ্ঠা : ৩৪
    ..
    ফতোয়া দিয়েছেন,
    মাওলানা মুবিনুর রহমান
    ফাযিলে দারুল উলূম করাচি, পাকিস্তান।

    মহামারির সময় আযান দেওয়ার শরীয়তে কোন ভিত্তি নাই।
    রেফারেন্স :
    ফতুয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ২/৭৩
    ফতোয়ায়ে রশিদিয়া পৃষ্ঠা নং ১৫২
    ইমদাদুল ফতোয়া ৪/৩১৩
    ইমদাদুল আহকাম ১/৪১৯
    আহসানুল ফতুয়া ১/৩৭৫


    অনেকে দলিল হিসেবে আযান দেয়ার ১১টি মুস্তাহাব স্থানের কথা উল্লেখ করে একটি কিতাবের পৃষ্ঠা এগিয়ে এনেছেন। মূলত ‘আযান দেওয়ার ১১টি মুস্তাহাব স্থান’ বর্ণিত কিতাবটি আহলে হক বিজ্ঞ কোন আলেমের লিখিত কিতাব নয়। এবং উক্ত কিতাবে আযান দেওয়ার যে এগারটি মুস্তাহাব স্থান উল্লেখ করা হয়েছে, সেটাও সঠিক নয়। কারণ আযানের বৈধতা হয়েছে নামাজের জন্য। নামাজের জন্যই আজান। অবশ্য অন্য কিছু স্থানে আযান দেওয়া জায়েজ আছে আর সেসব স্থানে আযান দেওয়ার কথা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- কোন মুসলিম শিশু ভূমিষ্ঠ হলে, কিংবা জিন পেত্নী বা ভূত দেখলে ইত্যাদী।

    বালা-মুসিবত কিংবা মহামারীর সময় আযান দেওয়ার কথা কোন হাদিস কিংবা সাহাবায়ে কেরামের জীবনীতে উল্লেখ নেই। নবী করিম সাঃ জীবনে একাধিকবার কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। সেসব অবস্থায় রাসুলের সাঃ এর নির্ধারিত কর্মপন্থা ছিল, বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার ও নামাজ পড়া। যখনই কোন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, সাহাবায়ে কেরামদেরকে নিয়ে মসজিদে নববীতে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

    আর এই পৃষ্ঠাটিতে ‘বাহারে শরীয়ত’ ও ফতোওয়ায়ে রযবীয়া’ নামে যে দুইটি কিতাবের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। উভয়টি কিতাবের লেখক হলো, ভন্ড-মাজার পুজারী ও বেরলবী।বাহারে শরীয়তের লেখক হলো, আমজাদ আলী আজমী, আর ফতোয়ায়ে রযবিয়ার লেখক হলো, শাহ আহমদ রেজা খান। উভয় লেখক নিজেদের মতাদর্শ ও চেতনাকে ফুটিয়ে তোলার অপচেষ্টা করেছেন।যার ফলে কোরআন-হাদিস থেকে সরে এসে নিজেদের কলমের ডগায় যা এসেছে তাই লিপিবদ্ধ করেছেন।

    এর পরে তারা তাদের নতুন উদ্ভাবিত আমলকে বৈধ করতে কয়েকটি হাদিস এনেছেন, যেগুলি অত্যন্ত দূর্বল এবং বিষয়ের সাথে মিল নেই..

    নিম্নে তাদের দেয়া দলিল গুলি পর্যালোচনা করা হলো

    তাদের প্রথম হাদিসটি:
    হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)
    থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেন-

    “اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ”

    -যখন কোন গ্রামে আযান দেয়া হয়,তখন মহান আল্লাহ (ﷻ) সেদিন ওই গ্রামকে তার আযাব থেকে নিরাপদে রাখেন।

    [আল-মু’জামুল কবীর-১/২৫৭ হাদিস ৭৪৬ মুদ্রণ: মাকতাবায়ে ফয়সলীয়া, বৈরুত। ফতোয়ায়ে
    রযভীয়্যা ৫/৩৬৯ রেযা ফাউন্ডেশন, লাহোর।


    পর্যালোচনা

    ۱. اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ”

    উল্লেখিত হাদীসটি মুহাদ্দীসিনদের নিকট যয়ীফ। আল্লামা মানাবী রহ. ফায়জুল কাদীর গ্রন্থে ইমাম মুনযিরী রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন যে, হাদীসটি যয়ীফ ও দুর্বল। (ফয়জুল কাদির ১/২৫৩)

    আর যদি বলা হয়, ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য, তথাপি উক্ত হাদিসটি দ্বারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হবে। অন্য কোনো বিশেষ আযানের শ্রেষ্ঠত্ব নয়। কারণ হাদীসটি বিশেষ কোন আযানের কথা উল্লেখ কিংবা উৎসাহ প্রদান করেন নি।

    মহামারীর সময় আযান দেয়া মুস্তাহাব প্রমাণের জন্য
    ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফতোয়ায়ে শামীর কথা উল্লেখ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।

    ফাতাওয়ায়ে শামীতে যেসব জায়গায় আযান দেওয়া মুস্তাহাব বলা হয়েছে তাতে মহামারির কথা উল্লেখ নেই। দেখুন, ফাতাওয়ায়ে শামীর সংশ্লিষ্ট মূল ইবারত:

    * جاء في الفتاوى الشامية ٣٨٥/١:
    ﻣﻄﻠﺐ ﻓﻲ اﻟﻤﻮاﺿﻊ اﻟﺘﻲ ﻳﻨﺪﺏ ﻟﻬﺎ اﻷﺫاﻥ ﻓﻲ ﻏﻴﺮ اﻟﺼﻼﺓ
    (ﻗﻮﻟﻪ: ﻻ ﻳﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻫﺎ) ﺃﻱ ﻣﻦ اﻟﺼﻠﻮاﺕ ﻭﺇﻻ ﻓﻴﻨﺪﺏ ﻟﻠﻤﻮﻟﻮﺩ.
    ﻭﻓﻲ ﺣﺎﺷﻴﺔ اﻟﺒﺤﺮ اﻟﺮﻣﻠﻲ: ﺭﺃﻳﺖ ﻓﻲ ﻛﺘﺐ اﻟﺸﺎﻓﻌﻴﺔ ﺃﻧﻪ ﻗﺪ ﻳﺴﻦ اﻷﺫاﻥ ﻟﻐﻴﺮ اﻟﺼﻼﺓ، ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺃﺫاﻥ اﻟﻤﻮﻟﻮﺩ، ﻭاﻟﻤﻬﻤﻮﻡ، ﻭاﻟﻤﺼﺮﻭﻉ، ﻭاﻟﻐﻀﺒﺎﻥ، ﻭﻣﻦ ﺳﺎء ﺧﻠﻘﻪ ﻣﻦ ﺇﻧﺴﺎﻥ ﺃﻭ ﺑﻬﻴﻤﺔ، ﻭﻋﻨﺪ ﻣﺰﺩﺣﻢ اﻟﺠﻴﺶ، ﻭﻋﻨﺪ اﻟﺤﺮﻳﻖ، ﻗﻴﻞ ﻭﻋﻨﺪ ﺇﻧﺰاﻝ اﻟﻤﻴﺖ اﻟﻘﺒﺮ ﻗﻴﺎﺳﺎ ﻋﻠﻰ ﺃﻭﻝ ﺧﺮﻭﺟﻪ ﻟﻠﺪﻧﻴﺎ، ﻟﻜﻦ ﺭﺩﻩ اﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ اﻟﻌﺒﺎﺏ، ﻭﻋﻨﺪ ﺗﻐﻮﻝ اﻟﻐﻴﻼﻥ: ﺃﻱ ﻋﻨﺪ ﺗﻤﺮﺩ اﻟﺠﻦ ﻟﺨﺒﺮ ﺻﺤﻴﺢ ﻓﻴﻪ. ﺃﻗﻮﻝ: ﻭﻻ ﺑﻌﺪ ﻓﻴﻪ ﻋﻨﺪﻧﺎ. اﻩـ.
    ﻫﺬا، ﻭﺯاﺩ اﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻓﻲ اﻟﺘﺤﻔﺔ اﻷﺫاﻥ ﻭاﻹﻗﺎﻣﺔ ﺧﻠﻒ اﻟﻤﺴﺎﻓﺮ. ﻗﺎﻝ اﻟﻤﺪﻧﻲ: ﺃﻗﻮﻝ ﻭﺯاﺩ ﻓﻲ ﺷﺮﻋﺔ اﻹﺳﻼﻡ ﻟﻤﻦ ﺿﻞ اﻟﻄﺮﻳﻖ ﻓﻲ ﺃﺭﺽ ﻗﻔﺮ: ﺃﻱ ﺧﺎﻟﻴﺔ ﻣﻦ اﻟﻨﺎﺱ. ﻭﻗﺎﻝ اﻟﻤﻨﻼ ﻋﻠﻲ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ اﻟﻤﺸﻜﺎﺓ ﻗﺎﻟﻮا: ﻳﺴﻦ ﻟﻠﻤﻬﻤﻮﻡ ﺃﻥ ﻳﺄﻣﺮ ﻏﻴﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﺆﺫﻥ ﻓﻲ ﺃﺫاﻧﻪ ﻓﺈﻧﻪ ﻳﺰﻳﻞ اﻟﻬﻢ، ﻛﺬا ﻋﻦ ﻋﻠﻲ – ﺭﺿﻲ اﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ – ﻭﻧﻘﻞ اﻷﺣﺎﺩﻳﺚ اﻟﻮاﺭﺩﺓ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻓﺮاﺟﻌﻪ. اﻩـ.

    এর পরে তারা উল্লেখ করেছেন:-

    ( এ মহামারীর কারণে জনমনে ভয় ও অাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে,যার ফলে জনগণ উদ্বিগ্ন থাকে, ভীতি
    ও ত্রাসের শিকার হয়,এমন পরিস্থিতিতেও আযান আত্নার প্রশান্তি ও ভয়-ত্রাস দূর করার মাধ্যম।)

    বাস্তবতা হচ্ছে :-

    কিছু এলাকায় গুজব ছড়িয়ে যে ভাবে আজান দিলো এর দ্বারা জনমনে আতঙ্ক দূর না হয়ে আরও বেশি ছড়িয়ে পরেছে। সর্বত্র একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে হাওমাও করে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে। এই বুঝি কিয়ামত শুরু হয়ে গেলো।

    এই আজানকে মুস্তাহাব করার জন্য আরেকটি হাদিসের রেফারেন্স দিয়েছে:-

    আবু নাঈম ও ইবনে আসাকির হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণণা করেন,হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করেন,

    نَزَلَ آدَمُ بِالْھِندِ فَاسْتَوْحَشَ فَنَزَلَ جِبْرَئِیْلُ عَلَیْه الصَّلَاۃُ وَالسَّلَام فَنَادیٰ بِالْاَذَاَنِ-

    যখন হযরত আদম (আ.)জান্নাত থেকে ভারতবর্ষে অবতরণ করলেন,ভীত-সন্ত্রস্থ হলেন,তখন জিবরাইল (আ.)নেমে (ভয় দূর করার জন্য) আযান দিলেন।

    [হিলয়াতুল আউলিয়া ২/১০৭ হাদিস: ২৯৯
    মুদ্রণ-দারুল কিতাব আল-আরাবিয়্যা বৈরুত]

    হাদিসটির পর্যালোচনা:-

    ٢. نَزَلَ آدَمُ بِالْھِندِ فَاسْتَوْحَشَ فَنَزَلَ جِبْرَئِیْلُ عَلَیْه الصَّلَاۃُ وَالسَّلَام فَنَادیٰ بِالْاَذَاَنِ-

    এই হাদীসটিও কঠিন পর্যায়ের যয়ীফ ও দুর্বল। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারীতে উক্ত হাদীসটিকে যয়ীফ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এ হাদিসের সনদে একাধিক অজ্ঞাত রাবী থাকার কারণে হাদীসটি সনদের দিক থেকে যায়ীফ। (ফাতহুল বারী ২/৭৯)

    তৃতীয় এবং শেষ হাদিস :-

    মুসনাদুল ফিরদৌসে আমীরুল মু’মিনীন হযরত
    আলী আল-মুরতাদ্বা (রা.) থেকে বর্ণিত-

    قَالَ رَایٰ النَّبِیُّ صَلّٰی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْهِ وَسَلَّم حُزِیْناً فَقَالَ یَا ابْنَ اَبِیْ طَالِبٍ اِنِّیْ اَرَاكَ حُزِیْناً فَمُرْ بَعْضَ اَھْلِكَ یُؤَذِّنُ فِیْ اُذُنِكَ فَاِنَّهٗ دَرْءُ الْھَّمِ

    -তিনি বলেন,হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে বললেন,
    হে আলী! আমি তোমাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখছি, তোমার পরিবারের কাউকে তোমার কানে আযান
    দিতে বলো,কেননা তা চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূরকারী।

    [মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, আযান পর্ব ২/১৪৯ মুদ্রণ-মাকতাবায়ে ইমদাদীয়া মুলতান]

    পর্যালোচনা :-

    এই হাদিসটি আমি এখনো পাইনি, মূলত হাদিসটি কিতাবে আছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করছি না। যখনি হাদিসটি পাবো সাথে সাথেই সংযুক্ত করে দেবো।

    বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় কোর-আন ও সুন্নাহে প্রতিষ্ঠিত শরীয়ত সমর্থিত আমল করবো,
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ ও মতকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরবো।
    ইসলামে এবাদতের নামে নতুন আমল আবিস্কার করে জাহান্নামি হবো না।

    পরিশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম পেশ করছি।
    আল্লাহ দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদের সকল প্রকার বিপদাপদ ও মহামারী থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

    সংকলক:- নুরে আলম জাহাঙ্গীর
    সম্পাদক : আওয়ার কণ্ঠ টোয়েন্টি ফোর ডটকম

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম