• শিরোনাম


    মধ্যস্থতাকারী প্যানেল ব্যর্থ; বাবরি মসজিদ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

    | ০৪ আগস্ট ২০১৯ | ১:১২ পূর্বাহ্ণ

    মধ্যস্থতাকারী প্যানেল ব্যর্থ; বাবরি মসজিদ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

    অযোধ্যার বাবরি মসজিদের জমি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি ভারতের সুপ্রিমকোর্টের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল। তাই, ৬ই আগস্ট থেকে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হবে। গতকাল (শুক্রবার) অযোধ্যা মধ্যস্থতা কমিটির দাখিল করা রিপোর্ট নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এ কথা জানিয়েছেন।

    রঞ্জন গগৈ বলেন: মধ্যস্থতাতেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাই, আগামী মঙ্গলবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত কনস্টিটিউশন বেঞ্চে এ মামলার দৈনন্দিন শুনানি শুরু হবে।



    বাবরি মসজিদ মামলার নিষ্পত্তির জন্যে ৮ই মার্চ সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি ইব্রাহীম খলিফুল্লাহর নেতৃত্বে ধর্মগুরু রবিশঙ্কর ও আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সুপ্রিমকোর্ট।

    আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজন হলে এই তিন ব্যক্তি আরও লোককে তাদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন বলেও জানিয়েছিল আদালত। তবে শেষ পর্যন্ত কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি সুপ্রিমকোর্টের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল।

    ২০১০ সালে অযোধ্যা মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দেয়, তাতে ২.৭৭ একরের ওই জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দু মহাসভার রাম লাল্লা সংগঠন এবং নির্মোহী আখড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে দিতে বলা হয়। ওই জমির মালিকানা নিয়ে এর পর থেকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া না ভগবান রামচন্দ্রের (রাম লালা) শুরু হয় সেই বিবাদ।

    আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।

    গত ১১ই জুলাই মধ্যস্থতা কমিটির আলোচনা কতোদূর এগিয়েছে, তা ঐ কমিটির কাছে জানতে চান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, এস এ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও আব্দুন নাজিরের সাংবিধানিক বেঞ্চ। মধ্যস্থতার প্রয়োজন না থাকলে, ২৫শে জুলাই থেকে মামলা শুরু করা যেতে পারে বলে জানানো হয়।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি দফতরে অযোধ্যা মামলার রিপোর্ট জমা দেয় মধ্যস্থতাকারী ঐ কমিটি। রিপোর্টে তারা জানান, বিষয়টির মীমাংসা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন মামলাটির শুনানি হবে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে হিন্দুরা ঐ বিতর্কিত জায়গায় একত্রিত হয়ে মোগল বাদশা বাবরের নামের ষোড়শ শতকের মসজিদটি ধ্বংস করে দেন। এ নিয়ে পরবর্তী দাঙ্গায় দু’ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    এছাড়া, এ মসজিদ নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে বিতর্কে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মুসলমানরা সেখানে নতুন একটি মসজিদ গড়তে চান। হিন্দুদের দাবি, সেখানে তাদের দেবতা রামের জন্ম হয়েছিলো। কাজেই, তারা সেখানে রামমন্দির নির্মাণ করতে চান।

    ১৫২৬ সালে মোগল সম্রাট বাবর মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে মসজিদ প্রাঙ্গণে হিন্দু ধর্মীয় সংস্থাগুলো দেবতা রামের সম্মানে একটি মন্দির নির্মাণের অনুমিত চাইলে, তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

    ১৯৪৯ সালে একদল হিন্দু মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে রামের একটি মূর্তি স্থাপন করেন। কিন্তু সেটি না সরিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এছাড়া, একজন হিন্দু ধর্মীয় গুরুকে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    ১৯৮৬ সালে ফয়জাবাদ জেলা প্রশাসন মসজিদ প্রাঙ্গণ হিন্দুদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়। এরপর ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশ শান্তই ছিল। কিন্তু ঐ বছর বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপিসহ বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মসজিদটি ধ্বংস করে দেয়।

    সূত্র: গালফ নিউজ ও আনাদোলু এজেন্সি।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম