• শিরোনাম


    মংলা নালা(ঘষিয়াখালী) টু বরিশাল পথ পরিচিতি

    লেখক: এস এম শাহনূর | ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৫:৫২ অপরাহ্ণ

    মংলা নালা(ঘষিয়াখালী) টু বরিশাল পথ পরিচিতি

    একসময় সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা রকেট বরিশাল নদীবন্দর অতঃপর পৌঁছে যেত খুলনা। এখন ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে বরিশালে আসা যাওয়া করা গেলেও বরিশাল থেকে খুলনা নৌপথের সেই যৌবন আর নেই। আমি বহুবার নানান ধরনের জলযানে ঢাকা টু বরিশাল, বরিশাল টু খুলনা টু চাঁদপুর নৌ রোডে আসা যাওয়া করেছি।
    বুড়িগঙ্গার জল গড়িয়ে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, মেঘনা, কীর্ত্তখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি ছুঁয়ে গাবখান চ্যানেল পেরিয়ে কচা আর বলেশ্বর নদীর প্রশস্ত মোহনা। এই বলেশ্বরী সুন্দরবনের পূর্ব সীমানা গড়ে দিয়েছে। কথিত আছে সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে এক সময় কামানের আওয়াজ শোনা যেতো, মূলত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। ব্রিটিশ লেখকরা যাকে বলেন, ‘বরিশাল গানস’ বা বরিশাল কামান।
    সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলতেন, লংকা দ্বীপে রাবণের বিশাল তোরণদ্বার খোলা বা বন্ধ করার সময় এমন শব্দ হয়। আর মুসলমানরা বলতেন, ইমাম মেহেদীর আগমন বার্তা এই শব্দ। কেননা এই শব্দ এতদূর থেকে আসতো যে- ঠিক কোথা থেকে আসছে ধরা যেতো না।
    গবেষকদের কারও কারও মতে, এই শব্দ আসতো বঙ্গোপসাগরের অতলতল থেকে। বাগেরহাটের পূর্ব দিকে, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের দক্ষিণ দিক থেকে এই শব্দ শোনা যেতো।

    জনশ্রুতি ছিলো পরপর তিনবার এই শব্দ শোনা যেতো। তখন নদী হয়ে উঠতো চঞ্চল। ভাটার সময় ৩০-৪০ হাত উঁচু হয়ে উঠতো ঢেউ, আর দু’টি ঢেউয়ের সংঘর্ষে এমন শব্দ হতো।



    তবে ভিন্ন মতও ছিলো, অনুমান করা হয়- আরাকান উপকূলে একটি আগ্নেয়গিরি ছিলো। চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথের তলদেশ থেকে এই শব্দের উৎপত্তি হতো। ইতিহাস বলে, সে সময় অর্থাৎ সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই জলপথ খুবই জনপ্রিয় ছিলো। কচা আর বলেশ্বর নদীর মোহনা।
    ইস্ট ইন্ডিয়া ক্রোনিকল থেকে জানা যায়, ৭১৮ খৃস্টাব্দে মগেরা এই প্রদেশ থেকে ৮০০ অধিবাসীকে বন্দি করে নিয়ে যায়। আরাকান রাজা তাদের মধ্যে একজনকে ভূমিদাস করেন। বাকিদের বিক্রি করে দেন।

    একই মত দেন স্যার যদুনাথ সরকার। হিস্টরি অব বেঙ্গলে মুঘল আমলের ইতিহাস লিখতে গিয়ে তিনি বলেন, মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে শুরু করে শায়েস্তা খাঁ এর সময় পর‌্যন্ত আরাকানিজ মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুরা জলপথে এসে এ অঞ্চলে লুটপাট চালাতো। এ অবস্থায় এক সময় সুন্দরবন জনমানব-শূন্য হয়ে পড়েছিলো।

    পরবর্তীতে শায়েস্তা খাঁ মগ-ফিরিঙ্গিদের বিতাড়িত করলে ফের সুন্দরবন অঞ্চলে জনবসতি গড়ে ওঠে। এখনো মুণ্ডাসহ কিছু আদিবাসী বসতি আছে সুন্দরবনে।

    খুলনা সদর এবং বাগেরহাটের সীমা নির্দেশক বৃহৎ নদী পশুর। এ নদী আবার দু’ভাগে ভাগ করেছে বাগেরহাটের মংলা শহরকে। নদীর দক্ষিণে পৌরসভা, উত্তরে শিল্পাঞ্চল। সুন্দরবনের পূর্বসীমা নির্ধারক বলেশ্বর নদীর জলস্রোত বিষখালি, পানগুচি, কচা, ভোলা, পাকশিয়া নামে বয়ে বঙ্গোপসাগরে হয়েছে হরিণঘাটা।

    খুলনা গেজেটিয়ার থেকে জানা যায়, ১৮৬৪ সালে মোড়েলগঞ্জকে সমুদ্রবন্দর ঘোষণা করা হয়। মোড়েলগঞ্জ পার হয়ে ঘষিয়াখালি চ্যানেল ধরে খুলনার পথে এগুলেই পশুর নদী, মংলা পোর্ট। খুলনা থেকে এলে এর অবস্থান রূপসার মোহনায়, পশুর নদীর মুখে।

    ইতিহাস বলে, নড়াইল মহকুমার (বর্তমানে জেলা) ধোন্ধা গ্রামের রূপচাঁদ সাহা নামে এক লবণ ব্যবসায়ী নৌকা নিয়ে ভৈরব এবং কাজিবাজার যাতায়াতের জন্য একটি সংযোগ খাল খনন করেছিলেন। প্রথম দিকে এই খাল লাফ দিয়ে পার হওয়া যেতো। পরে বাঁশের সাঁকো বেয়ে লোকে যাতায়াত করতো। বর্তমানের ভয়ঙ্কর নদী রূপচাঁদের নামানুসারে ওই খালের নাম হয় রূপসা। রূপসা নদী হওয়ার পরেও আদালতের সমনজারির কর্মচারিরা নদী পারাপারের খরচ পেতেন না। শ্রীরামপুরের রামনারায়ণ ঘোষ আরেকটি ছোট খাল খনন করে কাজিবাজারের সঙ্গে পশুর নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। যার নাম হয় নারাণখালির খাল। সেখান থেকেই পশুর বিস্তৃত হয়ে চালনার কাছে বাজুয়া, চালনা পোর্ট ও ডাংমারী ফরেস্ট অফিস হয়ে সুন্দরবনের বিখ্যাত দেউরমাদে বা ত্রিকোণ দ্বীপের উত্তরে মজ্জতের সাথে মিশেছে। ত্রিকোণ দ্বীপের উত্তর দিকে পশুরের দক্ষিণ বাহু, শিবসা এবং আরও চারটি নদী এক হয়েছে।

    ধান নদী খাল
    তিনে মিলে বরিশাল।

    মংলা নালা টু বরিশাল
    মংলা নালা থেকে বরিশাল যেতে হলে প্রথমেই ফেরিঘাট যা খেয়াঘাট নামে পরিচিত। এটি কোন দিকে? হাতের বামদিকে।খেয়াঘাট থেকে সামনের দিকে এগুতে থাকলে
    ডান দিকে প্রথমে কুমারখালী তারপর শিকার ডাঙ্গা।
    আরো সামনে গেলে হাতের বাম দিকে ওরাবুনিয়া ও রামপাল।
    আরো সামনে গেলে ডানে রামজয়পুর
    বামে মুজিব নগর
    ডানে কাটাখালি ও ডারকা
    বামে বড় সানাইয়াসি ও মল্লিকারবের
    ডানে গাছিয়া খালি
    বামে দেবগঞ্জ
    ডানে ফুলহাটা,বারিখালি
    বামে সোনাখালি
    ডানে মোড়ল গঞ্জ ও কাঠালতলা,সানাইয়াসি
    বামে চর খোলফাটা
    ডানে ইকো পোর্ট
    বামে চামেলি পুর
    ডানে তৈলিখালি
    বামে উমেদপুর, গাজীপুর ও রানীপুর
    ডানে পাঙ্গাসিয়া
    বামে বেকুটিয়া
    ডানে আমরাজ হারী ও মাগুরা ও মির্জাপুর
    বামে মুক্তাহার
    বামে পাকমাহার ও সারাঙ্গাল
    ডানে গাবখান
    বামে ঝালকাঠি,গাবখান খাল টোল স্টেশন, নবগ্রাম
    ডানে রাজাপুর,ছড়াই বড়ি
    বামে লাখ্খানকাটি
    ডানে নলসিটি
    বামে রায়পুর ও জাজুয়া
    ডানে ডবডপি
    বামে রূপাতলি
    ডানে চরমোনাই
    বরিশাল লঞ্চ ঘাট ও নদী বন্দর।

    মংলা নালা গোসাইখালি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।
    গোসাইখালি থেকে পানকুচি নদী শুরু আর এটি সন্ন্যাসী গিয়ে শেষ হয়েছে।
    সন্ন্যাসী থেকে বলেশ্বর নদী শুরু আর এটি চরখালী গিয়ে শেষ হয়েছে। চরখালী থেকে
    কচা নদী শুরু আর এটি হুলারহাট গিয়ে শেষ হয়েছে। হুলারহাট থেকে গাবখান ক্যানেল শুরু আর এটি ঝালকাঠি গিয়ে শেষ হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত।ঝালকাঠি থেকে সুগন্ধা নদী শুরু আর এটি নলসিটি গিয়ে শেষ হয়েছে। নলসিটি থেকে কীর্তনখোলা শুরু আর এটি বরিশাল গিয়ে শেষ হয়েছে। বরিশাল জেলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত।

     

    লেখক: এস এম শাহনূর, কবি ও গবেষক। 

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম