• শিরোনাম


    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর অপরূপ সাজে সজ্জিত

    লেখক: মোঃ জহিরুল ইসলাম স্বপন | ২১ মার্চ ২০২১ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর অপরূপ সাজে সজ্জিত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর অপরূপ সাজে সজ্জিত হচ্ছে
    মুক্তিযুদ্ধ,ইতিহাস- ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে।

    গত ৮ নভেম্বরে ২০২০ থেকে মার্চ২০২১ শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪ মাস ২২ দিন।কাজ হযেছে আনুমানিক ২ মাসের বেশি।সজ্জিতকরণ,ভেতরের ডিজাইন,ফটকসহ সার্বিক কাজ।মাঠের কাজও বেশ কষ্টের।মোট কক্ষ ৪ টি।অসাধারণ শিল্পকর্ম।শীতলপাটির ডিজাইন, বাঁশঝাড়,নদীপাড়ে কাশফুল,বিভিন্ন কম্পোজিশন,গ্রন্থাগার,বাগান, মঞ্চ,রিসিপশন কর্নার,নিদর্শন সংরক্ষণ ভিত,স্টোর রুম, উঁচু বৃক্ষরাজি, বিশাল মাঠ সবই আছে।আরও কাজ হবে, হচ্ছে।অবিরাম কাজ চলবে



    স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী,বাকি আর মাত্র ৩ দিন।গত পঞ্চাশ বছর বাঙালি জাতি চাতক পাখির মতো এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছে।শুধু ২৬ মার্চ? আমার কাছে,জাতির কাছে মার্চ মাস, প্রতিটি দিন, মুহূর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কারণ বঙ্গবন্ধু ১ মার্চ গণপরিষদের অধিবেশন ইয়াহিয়া বন্ধ করার জন্য হোটেল পূর্বাণীতে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,বাংলার স্বাধীনতার বিষয় বাঙালিরা নিজেরাই মীমাংসা করে নিবে।২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পাতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ পল্টন ময়দানে।স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ,যা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট ভাষণ।কাব্যিক দ্যোতনায়,সুরমূর্চ্ছনায় বাঙালির মন- মননে, চেতনায় ঝড় তোলে।৯ মার্চ মওলানা ভাষানীর একাত্ম ঘোষণা। ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন।১৯ মার্চ জয়দেবপুরে প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও জনতা রুখে দিল, হানাদার পাকিস্তানিদের। ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে ছাত্রসমাজ বঙ্গবন্ধুর ৩২ নং রোডের ৬৭৭ বাড়িতে স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে দেয়। সারা দেশে উড়ছে এ পাতাকা। ২৫ মার্চ রাত ১০ টা -৩০ মিনিটে ফার্মগেইটে ছাত্র- জনতার সঙ্গে পাকিস্তানিদের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়। ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত ঢাকাসহ সারা দেশে পাকিস্তানিদের ভয়াবহ গণহত্যা। ২৬ মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।মার্চ মানে আন্দোলন, যুদ্ধ, লড়াই, গণহত্যা, আমাদের অহংকার, গৌরবের মাস।এ জাদুঘরের প্রথমেই থাকবে মুক্তিযুদ্ধ।

    ইতিহাস-ঐতিহ্য সংস্কৃতিরই অংশ।আমাদের সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ, আফতাব উদ্দিন, সুরসাগর হিমাংশু, গিরিন চক্রবর্তী, লোক- সংগীতের সম্রাট অমর পালসহ অসংখ্য উচ্চাঙ্গ সংগীত- শিল্পী, বাউলসাধক এ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

    এ জেলায় সংস্কৃত পণ্ডিতদের পাণ্ডিত্য সাড়ে তিন শত বছর।কত পণ্ডিত, কবি, রাজনীতিক, শিল্পী, বাদক, গায়ক, নায়কদের জন্ম তার হিসেব করা কঠিন।

    বিগত দেড় হাজার বছর ধরে এ জেলায় ছোট ছোট হিন্দু ও বৌদ্ধ পল্লি গড়ে উঠে।তবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনেক কম।সুলতানি ও মোগল আমলে এ অঞ্চলের মানুষ মরণজয়ী লড়াই করেছে।

    ব্রিটিশ বিরোধী আন্দলোনে বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত,ললিতমোহন বর্মণ, খগেন্দ্র চক্রবর্তী, গগন ভট্টাচার্য, অসিত ভট্টাচার্য,বিধু ভট্টাচার্যসহ শত শত নেতা, হাজার হাজার কর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।অগ্নিকুণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে সুভাষ বোসের কর্মীরা লালফৌজে যুদ্ধ করেছেন।

    পুতুলনাচ, বাহারি মিষ্টি, যাত্রাগান,নৌকাবাইচ, লোকগান, কিচ্ছা, ভাটকবিতা,গ্রামে গ্রামে পাঠাগার, ফুটবল টিম, বাড়ি বাড়ি ফুলের বাগান, নাটকের সংলাপ, সেতার, সরোদসহ কত যন্ত্রের সুরে গত শতকের ষাটের দশক পর্যন্ত মানুষ বিমুগ্ধ ছিল।

    ৫ হাজারের উপর মুক্তিযোদ্ধা ছিল এ জেলায়।গণকবর, গণহত্যা, নারী নির্যাতন কত হয়েছে এর হিসেব আজ চলছে।এখানে আকাশে, বাতাসে, জলে- স্থলে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে।কসবা, মন্দভাগ, শালদা, আখাউড়া, আজমপুর, মুকুন্দপুরে কী ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছে তা না- দেখলে অনুমান করা যাবে না।

    আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাসকে সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘরে সংরক্ষণ,বিকাশ ও প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে সবাই মিলে।কাজটি সহজ নয়।সঠিক পরিকল্পনা,যথাযথ সিদ্ধান্ত, মানুষের ঐক্য, মেধার সংবদ্ধতা, চিন্তার প্রসারণ, উদার মনোভাব, ত্যাগ ছাড়া মহৎ ও বৃহৎ কাজ করা যায় না।একদিন যা স্বপ্ন ছিল, আজ তা বাস্তব।জেলা প্রশাসন, বর্তমান সরকার মার্চ মাসেই অসাধারণ কাজটি করবে বলে ধারণা। একদিন কল্পনা করি নি কখনো এমন একটি সৃজনশীল কাজ হবে।মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস, আদিকাল অমর হোক।আপনারা নির্জীব,অসাড় হয়ে না থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠুন।আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন ও ধারণ করি।

    লেখক: মোঃ জহিরুল ইসলাম স্বপন
    ইতিহাস ও লোকজ সংস্কৃতি গবেষক।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম